|
‘সম-অধিকার ও সম-সুযোগের নীতি, নিশ্চিত করবে জাতির অগ্রগতি’ - এই শ্লোগানকে
সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো আন্-র্জাতিক
নারী দিবস৷ জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে দিবসের শতবর্ষ
পূর্তিকে কেন্দ্র করে জাতীয় পর্যায়ে একটি বর্ণাঢ্যর্ যালি অনুষ্ঠিত হয়৷
সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য এইর্ যালিতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের
প্রতিনিধি, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক এবং
বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরসহ প্রায় ৮৫০ জন
স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন৷ এ সময় বেলুন উড়িয়ের্ যালির উদ্বোধন করেন
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক লতিফা আকন্দ৷র্ যালিটি
পাবলিক লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে
গিয়ে শেষ হয়৷
র্যালি শেষে সকাল ১০:৩০টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা
সভা, সম্মাননা প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়৷ অনুষ্ঠানে
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক
অধ্যাপক জনাব লতিফা আকন্দ-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জনাব এএসএম শাহাজাহান৷ ফোরামের সদস্য
জনাব বিধান চন্দ্র পাল ও জনাব মিলি জাকারিয়ার উপস্থাপনায় অন্যান্যের মধ্যে
আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষাবিদ ড. মেহের-ই-খোদা, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূখ্য
বার্তা সম্পাদক জনাব রফিকুল ইসলাম সরকার, নারী উদ্যোক্তা জনাব তাজিমা হোসেন
মজুমদার, ফোরামের সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি প্রমুখ৷ অনুষ্ঠানের বিশেষ
পর্বে নিবেদিত সংগ্রামী নারী হিসেবে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে অবদান রাখার
স্বীকৃতিস্বরূপ ভাষা সৈনিক জনাব রওশন আরা বাচচু’কে; সাংস্কৃতিক অঙ্গনে
অনন্য মাত্রা সংযোজন ও অন্যদের মাঝে অনুপ্রেরণা সৃষ্টিতে নিরলস ভূমিকা
রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ জনাব ফেরদৌসি মজুমদার’কে এবং সাংবাদিকতা পেশায়
অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ জনাব মুন্নী সাহা’কে সম্মাননা স্মারক
প্রদান করা হয়৷ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সভাপতি জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি
ফোরামের সারা দেশের প্রায় ৮০০ সংগঠনের পক্ষ থেকে এই সম্মাননা তাঁদের হাতে
তুলে দেন৷ জনাব ফেরদৌসী মজুমদারের অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষ থেকে সম্মাননা
স্মারকটি গ্রহণ করেন তাঁর স্বামী জনাব রামেন্দু মজুমদার৷ স্মারক গ্রহণের পর
তাঁরা খোলামেলাভাবে তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন ও মতামত তুলে ধরেন৷ আলোচনা
সভার ফাঁকে ফাঁকে নাচ, গান ইত্যাদিও পরিবেশিত হয়৷
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সকলকে মানুষ হয়ে ওঠার আহবান জানিয়ে জনাব এএসএম
শাহাজাহান বলেন, নারীকে যথাযথ স্থান না করে দিতে পারলে আমরা উন্নত জাতি
হিসেবে স্বীকৃতি পাবো না৷ নারীর এই একশ বছরের ইতিহাসের কথা তুলে ধরে
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক লতিফা আকন্দ বলেন, আমি এই অগ্রযাত্রায় শান্-ি ও
আশা খুঁজে পাচিছ৷ এছাড়া তিনি নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে
সকলকে সোচচার হয়ে ওঠার আহবান জানান৷ সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ
করতে গিয়ে ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচচু বলেন, আমি একজন মা, আমি একজন নারী
কিন্তু আজ আমাদের পালন করতে হচেছ নারী দিবস৷ নারী দিবস আর যেন পালন করতে না
হয় সেজন্য আমি আজীবন সংগ্রাম করে যাব৷ এছাড়া তিনি দেশের ছোট্ট সোনামণিদের
আলোকিত মানুষ হয়ে দেশ গঠনে অবদান রাখার আহবান জানান৷ জনাব রামেন্দু মজুমদার
বলেন, আমাদের নারীদেরকে যোগ্য স্বীকৃতি আমরা দিতে পারি না, এটা
  
দিতে হবে৷
তিনি বলেন, কেননা আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী৷ আর তাঁদের অগ্রগতি না হলে
দেশের অগ্রগতি হবে না৷ নারীদের সমৃদ্ধ ও স্বার্থক অবস্থান প্রত্যাশা ব্যক্ত
করে জনাব মুন্নী সাহা বলেন, আমরা নারী দিবস পালন করব কিন্তু নারীর প্রতি
সহিংসতা ও নারী নির্যাতনের আলোচনা নিয়ে নয়৷র্ যালিতে অংশ নিতে গিয়ে
সংক্ষিপ্ত অনুভূতি প্রকাশের সময় নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক
পরিবর্তনের আহবান জানিয়ে জনাব আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশের নারী অনেকদূর
গিয়েছে, কিন্তু বাস্-বতা হলো এখনো নানাক্ষেত্রেই তাঁদের প্রতি বৈষম্য রয়ে
গেছে৷ তিনি বলেন এজন্য নারীদেরকে সমান সুযোগ ও অধিকার দিতে হবে৷র্ যালিতে
উচচারিত বিভিন্ন শ্লোগানে এবং অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বক্তব্যে
এসিডসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে
তোলার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা; জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর গৃহস্থালী কাজের
অবদানকে অন্-র্ভুক্ত করা; নারীর প্রতি সহিংসতাকে ব্যক্তিগত ও স্বাভাবিক
ঘটনা হিসাবে দেখার প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা; নারী নীতি, ২০০৭
যুগপোযোগী করে পুনর্বহাল করা; সম্পদ ও সম্পত্তিতে সম-অধিকার নিশ্চিত করা;
প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন ও আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও
বহুবিবাহ বন্ধ এবং যৌতুক গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্-মূলক শাস্-ির
ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; উত্যক্তকারী সম্পর্কিত হাইকোর্টের রায় দ্রুত আইনে
পরিণত করা এবং নারী পাচার, এসিড নিক্ষেপ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের
বিরুদ্ধে দৃষ্টান্-মূলক শাস্-ির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো
হয়৷ উল্লেখ্য যে, অনুষ্ঠানের বিশেষ এক পর্যায়ে নারী দিবসকে কেন্দ্র করে
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নারীর কথা-৫ এর মোড়ক
উন্মোচনও করা হয়৷
  
|