Woman day

 
Search  ...a  page
Main Links

 

 

standing Committee of Forum
 
Recent

 

লিফলেট

 

 
 
 


২০০৮।। ২০০৭।। ২০০৬।। ২০০৫  


বৈষম্য নয়, নারীর জন্য চাই সমতার পৃথিবী
আন্তর্জাতিক নারী দিবস, ২০০
প্রচারে: জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম
 

প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালিত হচেছ ৮ মার্চ-আন্-র্জাতিক নারী দিবস৷ নারী-পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান সকল প্রকার বৈষম্য নিরসন ও সমতা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের উচচকিত অঙ্গীকার ঘোষণা করাই সাধারণত এ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য৷ দিবসটির মূল চেতনা নিহিত নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বলিষ্ঠ প্রত্যয়ের মধ্যে, যার প্রথম প্রকাশ ঘটেছিলো ১৮৫৭ সালে, নিউইয়র্কের একটি সুঁচ কারখানায় নারী শ্রমিকদের জ্বলন্- বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে৷ সেদিনের নারী শ্রমিকদের বঞ্চনা যেমন বিচিছন্ন কোনো ঘটনা ছিলো না, তেমনি সেদিনের বিদ্রোহও ছিলো না কোনো বিচিছন্ন প্রতিবাদ৷ এটি ছিলো দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত যন্ত্রণা, অশ্রু আর ক্ষোভের সংগঠিত বহিঃপ্রকাশ৷ পুলিশী নির্যাতন সেই অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে দমিত করতে পারে নি৷ বরং নির্যাতিত নারীর লড়াকু প্রত্যয় নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ব বিবেককে৷ বিশ্বের সকল প্রান্-ে নিগৃহীত হতে থাকা নারীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে সংগঠিত হবার আহবান৷ তাদের চেতনাকে করেছে উদ্দীপ্ত৷ তাদের ভীরু প্রাণে জ্বেলেছে অনির্বাণ সাহসের শিখা৷ তারই ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে জার্মানির সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রী নারীদের সম্মেলনে এ দিনটিকে আন্-র্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার ঘোষণা দেন৷ পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালের ৮ মার্চকে জাতিসংঘ দিবসটিকে আন্-র্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়৷

আমাদের সংবিধানের ২৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, “রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্-রে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন”৷ কিন্তু, সংবিধানের এই বলিষ্ঠ ও ন্যায্য প্রত্যয়টি আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক জীবনে যথাযথভাবে বাস্-বায়িত হয় নি৷ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও, নারীরা এখনো অব্যাহতভাবে অবদমন, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হচেছ৷ ক্রমবর্ধমান এই নির্যাতন এবং নির্যাতিত হবার ঝুঁকি নারীর মনোজগতে গভীর নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিচেছ৷ তার কর্মক্ষেত্র হয়ে পড়েছে সংকুচিত৷ ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, রাজনীতি, প্রশাসন, ক্ষমতায় অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্-গ্রহণ প্রক্রিয়াতে নারীর অবস্থান এখনও অত্যন্- দুর্বল৷ ইউনিসেফ ও অন্যান্য সংস্থার প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের নারী পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হল-

# শিক্ষা: ১১ বছর ও তদুর্দ্ধ বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুরুষদের চেয়ে নারীদের সাক্ষরতার হার ৮ ভাগ কম (যথাক্রমে ৫৪ শতাংশ ৪৬ শতাংশ)৷ উচচশিক্ষার ক্ষেত্রে এই হার নারী ৩৮ শতাংশ, পুরুষ ৬২ শতাংশ৷
# স্বাস্থ্য: প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ৩৮০ জন৷ শতকরা ৫২ ভাগ নারী এখনো রক্তশূন্যতায় ভোগে৷ গর্ভকালে সে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত খাবার বা বিশেষ যত্ন পায় না৷ এর পরিণতিতে এদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু স্বল্প ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে৷
# শ্রম: বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানী ক্ষেত্র পোষাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের শতকরা ৮০ ভাগই নারী৷ এদের গড় বেতন মাসিক ৯৩০ টাকা৷ একই ক্ষেত্রে পুরুষদের গড় বেতন ১৩০০ টাকা৷ অর্থাৎ মজুরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের হার শতকরা ১৯ ভাগ৷ বাংলাদেশে কৃষি শ্রমিকদের শতকরা ৪৬ ভাগ নারী, যারা ন্যূনতম মজুরীতে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনা মজুরীতেও কাজ করে৷
# নির্যাতন: কেবলমাত্র সহিংসতার কারণে শতকরা ৭ ভাগ নারী মৃত্যুবরণ করছে৷ শতকরা ৪৭ ভাগ নারী তার অন্-রঙ্গ সঙ্গীর দ্বারা পরিবারে নির্যাতিত হয়৷ শারীরিকভাবে নির্যাতিত নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের সম্ভাবনা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ৷ এক্ষেত্রে স্বল্প ওজনবিশিষ্ট সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় চারগুণ এবং এসব সন্-ানদের জন্মের পাঁচ বছরের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ৷

নারীর প্রতি বঞ্চনার শেকড় প্রোথিত রয়েছে সমাজজীবনের গভীরে৷ বঞ্চনা ও বৈষম্যের এই বাস্-বতা যত দীর্ঘায়িত হবে, জাতীয় উন্নয়নসহ সার্বিক উন্নয়ন ততই সুদূরপরাহত হয়ে উঠবে৷ তাই পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর অধিকার সংরক্ষণ ও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি৷ এর মাধ্যমেই গোটা সমাজে অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে৷ তাই আমরা চাই-

- দেশের সকল রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র ও তাদের আসন্ন নির্বাচনী ইস্-েহারে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অন্-র্ভুক্ত করা এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তা বাস্-বায়ন নিশ্চিত করা;
- নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের সময় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্-াব গ্রহণ করা;
- জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন এবং অন্-ত শতকরা ৪০ ভাগ রোটেশনের ভিত্তিতে পূরণ করা;
- নারীর ক্ষমতায়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা;
- প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন ও আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ বন্ধ এবং যৌতুক গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করা;
- নারী পাচার, এসিড নিক্ষেপ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্-মূলক শাস্-ির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা;
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা৷

আসুন, আজকের এই আন্-র্জাতিক নারী দিবসে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে আওয়াজ তুলি-

বৈষম্য নয়, নারীর জন্য চাই সমতার পৃথিবী
 

 

 
 

প্রচারে: জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম

 

National Girl Child Advocacy Forum

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2)8116812, E-mail-thpb@bangla.net