বৈষম্য নয়, নারীর জন্য চাই
সমতার পৃথিবী
আন্তর্জাতিক
নারী দিবস, ২০০৮
প্রচারে: জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম
র্যালি, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য
দিয়ে
আনন্দঘন পরিবেশে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের আন্তর্জাতিক নারী দিবস
উদযাপিত
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম বিভিন্নমুখি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে
প্রতিবারের মত এবারও আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করে৷ এ সকল কর্মসূচির
মধ্যে ছিল র্যালি, আলোচনা সভা, বিশেষ সম্মাননা প্রদান এবং মনোজ্ঞ
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷
সকাল ৮.৩০টায় শাহবাগ থেকে
র্যালি উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক
ব্যক্তিত্ব কবরী সারোয়ার৷ “নারীর নিরাপত্তা, নিশ্চিত করো; নারীর প্রতি
বৈষম্য নয়, সমতার পৃথিবী চাই; নারীর সকল অধিকার, নিশ্চিত করো” - প্রভৃতি
দাবি সম্বলিত এ
র্যালিতে নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে প্রায় এক হাজার জন
সর্বস্তরের নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন৷
র্যালিটি সকাল ৯.০০টায়
রমনার শতায়ূ অঙ্গনে এসে শেষ হয়৷
র্যালি উদ্বোধন করতে গিয়ে নারীর সমঅধিকার
প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পুরুষদের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার আহবান
রেখে কবরী সারোয়ার বলেন, আর বৈষম নয়, সমতা প্রয়োজন৷ ছেলে ও মেয়ে সন্তান হিসেবে যেন আমরা আমাদের সন্-তনদের আলাদা করে না দেখি সেজন্যও তিনি
অভিভাবকদের অনুরোধ জানান৷
র্যালি শেষে রমনার শতায়ু অঙ্গন সংলগ্ন গাবতলায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জাতীয়
কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাষা সৈনিক ড. হালিমা খাতুন৷ আলোচনা
সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের
সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি৷ এছাড়া অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন মহিলা
ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ডা. তাহমিনা
হোসেন, ভাষা সৈনিক ও
শিক্ষাবিদ জনাব রওশন আরা বাচচু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক
লতিফা আকন্দ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মেহের-ই-খোদা, বাংলাদেশ টেলিভিশনের
সাবেক মূখ্য বার্তা সম্পাদক জনাব রফিকুল ইসলাম সরকার, বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী
ইফ্ফাত আরা নার্গিস,
বিশিষ্ট নারী সংগঠক জনাব , জাতীয় এ্যথলেট সুফিয়া
খাতুন, কবি লিলি হক প্রমুখ।
“বৈষম্য নয়, নারীর জন্য চাই সমতার পৃথিবী” - এই শ্লোগানকে সামনে রেখে
অনুষ্ঠিত এ আলোচনা পর্বের এক পর্যায়ে সমাজে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
বিশিষ্ট ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী ও বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ত্ব দিলারা
জামান’কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়৷ তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন
যথাক্রমে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সভাপতি৷ সম্মাননা গ্রহণের পর সংক্ষিপ্ত
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী বলেন, যেদিন আমাদের বিশ্ব
নারী দিবস পালন করতে হবে না, শুধু মানবাধিকার দিবস পালন করব সেদিনই আমরা
সফল হব৷ জনাব দিলারা জামান ব্যক্তি জীবনের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও
সংগ্রামের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, একটি মেয়েও এসিডদগ্ধ হবে না, একটি
মেয়েও নির্যাতিত হবে না - আমি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি৷ তিনি
নারীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের সোচচার কন্ঠ দিয়ে আমাদের অধিকার আদায়
করতে হবে৷
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. হালিমা খাতুন নারী-পুরুষকে একত্রে এগিয়ে যাবার
আহবান রেখে বলেন, আমাদের প্রতিদিনই সংগ্রাম করতে হবে, যেখানে অনিয়মের দুর্গ
সেখানে আঘাত করতে হবে৷ এছাড়া আমাদের নিজেদের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করে এগুলোকে
ক্ষয় করতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি অর্জন করতে হবে৷
জনাব মেহেরুননেছা রোজী ও জনাব
শরিফ উদ্দিন আহমেদ সলামের উপস্থাপনায় সভায় কন্যাশিশুদের
বর্তমান চিত্রপট, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের কার্যক্রম ও করণীয়
বিষয়সমূহের প্রতি ড. বদিউল আলম মজুমদার গুরুত্ব সহকারে আলোকপাত করেন৷ তিনি
বলেন, সমাজে নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা
জরুরি৷ একইসাথে সকল বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসানের জন্য সংগঠিত ও সোচচার
প্রতিবাদ জানানোর আহবান রেখে বলেন, সমাজে কন্যাশিশু ও নারীদের অবস্থা ও
অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তন ও সমতার পৃথিবী গড়ে তুলতে আমাদের সকলকেই
দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে৷
ডা. তাহমিনা হোসেন নারী উন্নয়ন নীতিমালার কথা তুলে ধরে বলেন, নীতিমালাকে আইনে
পরিণত করে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে৷ তিনি আরো বলেন, নারী যেন
সত্যিকারের মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে৷
অধ্যাপক লতিফা আকন্দ নারী সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা কোথায় আছি সেই
অবস্থানটি উপলব্ধি করা প্রয়োজন৷ তিনি বলেন, সেখান থেকেই
সম-অধিকারের জায়গাটি
উঠে আসবে৷
স্বাগত বক্তব্যে জনাব নাছিমা আক্তার জলি বলেন, আঠারো’শ সাতান্ন সাল থেকে
শুরু করে আজকের এই সময় পর্যন্- এসেও সমাজের সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য বিরাজমান৷
তিনি বলেন, শুধু বৈষম্যের ধরন ও আঙ্গিকগত পরিবর্তন হয়েছে৷ তিনি বলেন,
আমাদের নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষিত হয়েছে সেটিকে হাতিয়ার হিসেবে ধরে আমাদেরকে
অগ্রসর হতে হবে৷ এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধি,
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সদস্য সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি ও সদস্য,
শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের
শিক্ষার্থীরা খোলামেলাভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ও তাদের মতামত তুলে ধরেন৷
অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়৷