Woman day

 
Search  ...a  page
Main Links

 

 

standing Committee of Forum
 
Recent

 

উদযাপিত হল

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

 
 
 

Last Update - 12 June, 07

 

২০০৭  ২০০৬  ২০০৫  

 



আন্তর্জাতিক নারী দিবস, ২০০
 

 

পরিবারই হোক নারী অধিকার নিশ্চিত করার প্রথম সোপান

   
৮ মার্চ ৷ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ৷ একটি স্মরণীয় দিন ৷ বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল নারী বছরে একটি দিন পেয়েছেন সমাজের প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধে প্রতীকি প্রতিবাদ করার

পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের নারীরা যেখানে তাদের অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার সেখানে বাংলাদেশের নারীরা আজও অবহেলিত ও করুণার পাত্র
৷ গ্রাম বাংলার নারীকে পৃথিবীর কঠোরতম বৈষম্যের মধ্যে বড় হতে হয় ৷ জীবনের প্রতিটি স্তরই তার অপুষ্টি, ব্যক্তি সত্ত্বার অস্বীকৃতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বঞ্চনার মাঝে কাটে৷ যা তার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে ৷ বাংলাদেশে অধিকাংশ গ্রামীণ সমাজে আজও কন্যাশিশুর জন্ম অনাকাঙ্ক্ষিত৷ জন্মের পর থেকেই তারা বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার ৷ ফলে বাংলাদেশের জনসংখ্যায় নারী পুরুষের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়৷ শিক্ষা, খাবার ও চিকিত্‍সার ক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের অবহেলা চরমেই থেকে যায় ৷ পুত্রশিশুদের এসকল সুবিধা দেবার পর পরিবারের সামর্থ্য থাকলে তবেই তারা তা পেয়ে থাকে

আবার একটু বয়স হতে না হতেই পরিবারের ছোটছোট ফরমাস খাটা, বৃদ্ধ বা শিশুদের সেবা করা, গর্ভবতী মায়ের সেবা করা, বাহির থেকে জ্বালানী কাঠ, পানি সংগ্রহ ইত্যাদি তাদের কৈশোরের আনন্দ মুছে দেয়
৷ স্বাভাবিক খেলাধুলা করার সুযোগও তারা পায় না ৷ এরপর ১৪-১৫ বছর হতেই তাকে সাজানো হয় কিশোরী বধু ৷ শুরু হয় তার জীবনের নতুন চক্র ৷ সংসারের বিরাট দায়িত্ব তখন তার কাঁধে৷ অতিরিক্ত শ্রম, অপুষ্টি ও অল্প বয়সে গর্ভধারণের কারণে তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়৷ এভাবে সে জন্ম দেয় আর একটি অপুষ্ট শিশুর

এই পারিবারিক অবহেলা ছাড়াও রয়েছে সামাজিক নির্যাতন
৷ ২০০৩ সালে তথ্যানুযায়ি দেখা যায় সে বছরে ৪৯৪ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়, এছাড়া ৩৩৯ জন শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়, ৩০৮ জনকে অপহরণ ও ১৩০ জনকে পাচার করা হয়৷ নির্যাতন ও ধর্ষণের পর ৪৭৭ শিশুকে হত্যা করা হয় এবং ১০১ জন আত্মহত্যা করে ৷ আবার ২০০৩ সালে ৬১ জন কিশোরী এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়৷ (ঈডঈঝ রিপোর্ট-২০০৩) ৷ শুধুমাত্র লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নারীর প্রতি যে নৃশংস আচরণ করা হয় তা বর্তমানে সবচাইতে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন৷ নারীর প্রতি এসকল নৃশংসতা/ সহিংসতা দূরীকরণের জন্য তাদেরকে সামাজিকভাবে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেবার জন্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট নারীদের অগ্রগমনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট তৃণমূল পর্যায়ে নারীকে উজ্জীবিত, অনুপ্রণিত ও সংগঠিতকরণ এবং তাদের অগ্রগমনে এডভোকেসি এই দুই পর্যায়ে নারীদের অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে
৷ কন্যাশিশু ও নারীদের নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়োজিত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সমন্বয়, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে কন্যাশিশুদের অবস্থা ও অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন, সমাজে তাদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এ কাজের মূল লক্ষ্য৷ এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গঠন করা হয়েছে কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম

সিডো, সিডো অপশনাল প্রটোকল , বেইজিং ঘোষণা, পিএফএসহ সকল মানবাধিকার সনদে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণের কথা উল্লেখ রয়েছে
৷ বাংলাদেশও এসব ঘোষণার অংশীদার ৷ এছাড়া নারীর প্রতি সমতার অঙ্গীকার বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন ধারায়ও উচ্চারিত হয়েছে ৷ তথাপিও এদেশে নারীর সমান অধিকারের বাস্তবতা এখনও তৈরী হয়নি ৷ নারীকে অধ:স্তন হিসাবে দেখার বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভংগী, পরিবারের সম্পদে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরুষের নিয়ন্ত্রণ, নারীর প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার প্রবণতার কারণে এদেশের নারীরা এখনও ব্যাপক বৈষম্যের শিকার ৷ দু:র্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, নারীর প্রতি এই বৈষম্যর সূত্রপাত হয় তার জীবনের প্রারম্ভেই নিজ পরিবার থেকেই ৷ বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী ও কন্যাশিশু শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত, যৌতুক ও বাল্যবিবাহের অভিশাপে জর্জরিত ৷ বাংলাদেশে যত ধরনের নারী নির্যাতন সংঘটিত হয় তার একটি বড় অংশই সংঘটিত হয় পারিবারিক পর্যায়ে বা পরিবারের সম্পর্কের গন্ডীর মধ্যে৷ অথচ পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনাগুলি নারী নির্যাতন বিষয়ক আলোচনায় প্রায়শ:ই রয়ে যায় অনুল্ল্লেখিত ৷ পারিবারিক নির্যাতনকে এদেশে ব্যক্তিগত ও গোপনীয় বিষয় হিসাবে মনে করার কারণে বেশির ভাগ নির্যাতনেরই প্রতিকার হয় না ৷ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ৪৭% নারী পরিবারিক সহিংসতার শিকার হন৷ ১২% কর্মজীবি নারী পারিবারিক সহিংসতার কারণে কর্ম ক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হন

উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে 'কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম' এবারে "পরিবারই হাক নারী অধিকার নিশ্চিত করার প্রথম সোপান" এই শ্লোগানকে সামনে রেখে রমনা পার্কের শতায়ু অঙ্গনে (গাবতলায়) পালন করে আন্তর্জাতিক নারী দিবস
৷ এবারের নারী দিবসে বাংলার দুই কৃতি নারীকে সম্মাননা দেয়া হয় ৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্রী, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষিকা ২০০৪ সালে রোকেয়া স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত শ্রদ্ধেয়া বেগম হুসনা বানু খানম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক, লেখিকা এবং ২০০৪ সালে রোকেয়া স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত শ্রদ্ধেয়া ড. দিলারা চৌধুরীকে ফোরামের পক্ষ থেকে সম্বর্ধিত করা হয় ৷ অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মেহের-ই-খোদা৷ অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন ড. জেসমিন আরা, সাথী, আফরোজা সুলতানা, হাবিবুল্লাহ চঞ্চল এবং রফিকুল ইসলাম সরকার ৷ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনাব আসমা বেগম ৷ উপস্থিত সুধীজনদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন, প্রাক্তন সচিব ড. বদরে আলম খান, কবি লিলি হকসহ অনেকে৷ অনুষ্ঠানে ফোরামের ২৪টি সদস্য সংগঠন অংশগ্রহণ করেন

আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে চলে গান ও কবিতা আবৃতি৷ যে সকল সংগঠন উপস্থিত ছিল -আস্থা, হীড বাংলাদেশ, এএসডি, টিএমএসএস, ইউসেপ, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, সমতা, আনন্দধারা, ফর ইউ ফর এভার, অমি, প্রাকৃতজন,
ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ, উদ্দীপন, উদ্দীপক, আইন ও শালিস কেন্দ্র, আনন্দধারা, ডবি্লওএসিসি, যুবক, সিডব্লিওসিএ

বক্তেব্যে ড. দিলারা চৌধুরী প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, "প্রাথমিকভাবে পরিবারেরই দায়িত্ব কন্যাশিশুদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে৷ পরিবারই পারে তাদের বঞ্চনা ও অবহেলা প্রতিরোধ করতে
তিনি আরো বলেন, "আমরা সকলেই নারীদের জন্য কাজ করি কিন্তু নারীদের সকলেরই উচিত এগিয়ে আসা তাদের অধিকার রক্ষার জন্য৷"

বেগম হুসনা বানু খানম তাঁর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিময় অতীত জীবনের কথা স্মরণ করেন
৷ কিভাবে তিনি পরিবার ও সমাজের প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছেন ৷" তিনি কন্যাশিশুদের স্বাধীন বিকাশের জন্য পরিবারে ভূমিকাই মূখ্য বলে মনে করেন ৷ সেই সাথে তিনি ফোরামকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তাঁকে সংবর্ধিত করার জন্য, সম্মান দেবার জন্য

সকালে রমনার অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ২.৩০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে, এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ব্র্যাক, কেয়ার-বাংলাদেশ,
এক্সপ্রেশানস, কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় উদযাপন করা হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস ৷ তারা একত্রিত হন সেই সব কাপুরুষদের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানাতে যারা এসিড ছুঁড়ে স্তব্ধ করে দিতে চান আমাদের বোন, মেয়ে বা মায়ের জীবন ৷ বর্তমানে নারীর প্রতি এসিড সহিংসতাসহ সকল ধরণের সহিংসতাই এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে ৷ এই ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য, এই বর্বর অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবার জন্য সকল পুরুষকে এগিয়ে আসা উচিত ৷ এ লক্ষ্যেই তারা দিনের কর্মসূচির মধ্যে রেখেছেন পুরুষদের র্যালি৷ প্রায় তিন হাজার লোকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় উক্ত র্যালি ৷ র্যালিটি শহীদ মিনার থেকে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয় ৷ উক্ত র্যালির সাথে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, লেখক, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একাত্মতা ঘোষণা করেন

ঢাকার বাইরেও ফোরামের সদস্য সংগঠগুলোর উদ্যোগে প্রায় ৪০০ স্থানে এ দিবসটি উদযাপিত হয়
৷ বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে র্যালি, আলোচনা সভা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ৷ এ সকল সভায় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, জেলা সমাজসেবা অফিসার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক/শিক্ষয়িত্রী, ছাত্রছাত্রী, স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং হাঙ্গার প্রজেক্টের উজ্জীবকরাও উপস্থিত ছিলেন ৷ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশই উজ্জীবক, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, এনজিও প্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক, চিকিত্‍সকসহ বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ ছিলেন

আঞ্চলিক অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল নেত্রকোণার সদ
উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের আয়োজনটি ৷ সেখানে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও সংস্থার প্রায় ৭০০ জনকে নিয়ে এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয় ৷ র্যালিটি মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়৷ সেখানে এক পথসভায় নারী দিবসের তাত্‍পর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মেদনী ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান জনাব সামসুদ্দিন খান ও দি হাঙ্গার প্রজেক্টের নেত্রকোণার সমন্বয়কারী জনাব সুশান্ত সরকার৷ বিকেলে নেত্রকোণার উজ্জীবকদের আয়োজনে মেদনী ইউনিয়ন পরিষদে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পথ নাটক অনুষ্ঠিত হয় ৷ এছাড়াও সিংহের বাংলা ইউনিয়নে উজ্জীবকদের আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ৷ নান্দাইলে উজ্জীবক ও প্রেসক্লাবের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি জনাব হান্নান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক এড. হাবিবুর রহমান এবং সহসভাপতি জনাব অরবিন্দ পাল৷ টাঙ্গাইলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে স্থানীয় উজ্জীবক ও স্মরণী টাঙ্গাইালের যৌথ আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভায় বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের আহ্বায়ক ও স্মরণী টাঙ্গাইলের নির্বাহী পরিচালক জনাব মঞ্জুরাণী প্রামাণিক, শিল্প কলা একাডেমির পরিচালক জনাব হারুনর রশিদ এবং নারী পক্ষের জনাব শেলী

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নোয়াখালীর বিআরডিবি মিলনায়তনে পরিবারই হোক নারী অধিকার নিশ্চিত করার প্রথম সোপান শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়
৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ ও স্থানীয় সঙ্গঠনগুলো একত্রিতভাবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ৷ অনুষ্ঠানের আর্থিক ব্যায় বহন করে যুব কর্মসংস্থা সোসাইটি (যুবক) ৷ অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসো গড়ি উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আওয়াল, ক্যাফ এর নির্বাহী পরিচালক আবু নাসের খান পান্নু ও কচি এবং সাংবাদিক মাহমুদুল হক কায়েস ৷ উক্ত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডা. মো: নুরুল ইসলাম (সিভিল সার্জেন, নোয়াখালী), অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান (নোয়াখালি সরকারী কলেজ, সৈয়দ রাশেদুল হুদা চৌধুরী-জোনাল ইনচার্জ যুবক এবং ফৌজিয়া সুলতানা -জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা ৷ এ ছাড়াও আলোচনা করেন কল্পনা রাণী দাস-এডভোকেট জজকোর্ট, এড নুরুজ্জামান (বিআইএএসটি) এবং অধ্যাপিকা শিরিন আখতার ৷ সভায় সভাপতিত্ব করেন যুবকের এরিয়া ম্যানেজার রাশেদা আখতার ৷ আলোচনা শেষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় ৷ উক্ত অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ লোক উপস্থিত ছিলেন ৷ সভায় আলোচনার মাধ্যমে পরিবারই যে নারী অধিকার নিশ্চিত করার প্রথম সোপান তা নিশ্চিত হয় ৷ এলাকাবাসী নারীদেও নিয়ে বা নারীদেও জন্য কাজ করতে উত্‍সাহিত হন এবং এলক্ষ্যে একটি ফোরাম প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করেন ৷ সকলে একসাথে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি হয়
এছাড়াও জর্মান টেকনিক্যাল
কপোর্রেশনের আয়োজনে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার এর সিলেট জেলার ইউনিটগুলোর সহযোগিতায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়৷ উক্ত র্যালিতে ১৩টি সংগঠন অংশগ্রহণ করে ৷ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার জনাব জেবুন্নাহার শিরিন ও মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান৷ র্যালিতে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের সদস্যরা তাদের সর্ব্বোচ্চ্চ উপস্থিতি ও সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণকারী সংগঠন হিসেবে প্রথম পুরস্কার লাভ করে ৷ তাছাড়া নারী দিবস উপলক্ষ্যে ৭ দিন ব্যাপি মেলায় সিলেট জালালাবাদ ইউনিট হস্তশিল্প প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে

এ সকল এলাকায় বক্তারা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে নারীর প্রতি বর্তমান সমাজে যে বৈষম্য, অবহেলা, বঞ্চনা বিদ্যমান তা নিয়ে আলোচনায় মহিলারা তাদের নিজেদের অধিকার সম্মন্ধে জানতে পারেন৷ পরিবারে তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তা সংশোধনের চেষ্টা করবেন বলে তারা পরিকল্পনা করেন৷ তারা উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন যে অধিকার কেউ কাউকে দিয়ে দেয় না, তা অর্জন করে নিতে হয়
৷ দক্ষিণাঞ্চলে যশোরের মনিরামপুর মহিলা কলেজে আলোচনা সভায় ১৬ জন নারী যৌতুক দিয়ে বিয়ে করবে না বলে ঘোষণা দেয় ৷ এবং ১৯ জন পুরুষ যৌতুক নিবে না বলে অঙ্গীকার করে৷ আবার সাতক্ষীরার পারুলিয়া ইউনিয়নে নারীরা নির্যাতন, বৈষম্য, ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচার, বাল্য বিবাহ, মজুরী বৈষম্য ইত্যাদির বিরুদ্ধে কাজ করার অঙ্গীকার করেন ৷ কুমিল্লার হেসাখাল ইউনিয়নে আলোচনার মাধ্যমে এলাকাবাসী উপলব্ধি করেন নারীরা যদি আয়বৃদ্ধিমূলক কাজে অংশ নেয় তাহলে পরিবারে ও সমাজে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসবে

নারীর প্রতি অধিকাংশ বৈষম্যই সৃষ্টি হচ্ছে পরিবার থেকে৷ পরিবারের মধ্যে যদি নারী অধিকার নিশ্চিত করা ও নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা না যায়, তাহলে বিচ্ছিন্নভাবে কোন কোন ক্ষেত্রে সফলতা পেলেও সামগ্রিকভাবে নারী মুক্তির স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে
৷ তাই সামগ্রিকভাবে পরিবারে ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা চাই-

নারীর প্রতি সহিংসতাকে ব্যক্তিগত ও স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা
সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব তৈরীতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা
নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বিশেষ আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা
নারীর অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সনদ সমূহের বাস্তবায়নের পাশাপাশি নারী অধিকার রক্ষার্থে বিদ্যমান আইন সমূহের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা

Top

Feedback
 

   
   
   
   
 

প্রচারে: জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ও

 

National Girl Child Advocacy Forum

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2)8116812, E-mail-thpb@bangla.net