|
|
ঢাকার জুরাইন, মুরাদপুর এলাকা৷
জুরাইন রেলগেট থেকে রিক্সায় মুরাদপুর হাইস্কুল রোডের
বিড়িফ্যাক্টরি৷ ফ্যাক্টরি সংলগ্ন গলির পথ ধরে কিছুটা অগ্রসর
হলেই ‘নকশি কাঁথা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’টি অতি সহজে চোখে পড়ে৷
মুরাদপুরের ৮৪নং বাসার বাসিন্দা জেসমিনা সুরুজ জুঁই টিনের ঘরটি
সজ্জিত করে তুলেছেন নানা হস্তশিল্পের কারুকাজের সম্ভারে৷ স্বামী
সুরুজ এবং একমাত্র পুত্র জিমকে নিয়ে এখানে আছেন৷ এত কারুকাজ;
তাও আবার এক হাতে করা! কীভাবে সম্ভব? অপেক্ষার মুহূর্তে
দেখছিলাম তার তৈরি হস্তশিল্পের কারুকাজ৷ শুধু কাজ নয়; সাফল্যের
স্বীকৃতিও পরিপূর্ণ করেছে তার সেই ঘরটি৷ এবার জানা যাক সেই
জুঁইয়ের কথা, যিনি এর সফল রূপকার৷
স্বপ্নের রূপকারের জীবনকথা
পিতা মো: আমির হোসেন ছিলেন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিসার এবং মা
তাহ্মিনা হোসেন গৃহিণী৷ পাঁচ ভাই-বোনের সবাই উচচশিক্ষিত৷ তাই
পরিবারে কোনো বিষয়ে অধিকার বঞ্চিত হওয়ার গল্প ছিল না৷ অষ্টম
শ্রেণি পর্যন্ত ঢাকায় থাকার পর পরিবারের সাথে চলে যান বরিশালের
বেতাগীতে৷ বাবা ঢাকায় বদলি হন৷ তাই পরিবারের সাথে তিনিও চলে
আসেন৷ ১৯৮৯ সালে রাজাপুর স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৯১ সালে ফজলুল
হক মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৯৩ সালে একই কলেজ থেকে ডিগ্রি
পাশ করেন৷ এরপর সুযোগ ঘটে সর্বোচচ বিদ্যাপীঠে পড়ার৷
১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে এমএ
সম্পূর্ণ করেন৷ এ সময়ে তিনি চাকরির জন্য নানা জায়গায় যোগাযোগ
করেন৷ একটি চাকরি মিলে যায় ব্র্যাকে৷ কর্মক্ষেত্র সোনারগাঁওয়ে
মোটরসাইকেলে ঘুরে ঘুরে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির কাজ করতে হতো৷
জুঁইয়ের ভাষায়, ‘মাস শেষে আর্থিক সচছলতা আসত, কিন্তু আমি যা
করতে চাই তা পারি না৷ এমন মনোভাব থেকেই সৃষ্টিশীল কিছু করার
তাড়না অনুভব করি৷ তবে ব্র্যাকে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছিলাম,
নারী প্রতিমুহূর্তেই কিছু করতে চান৷’ তাই জুঁই নারীদের নিয়েই
কিছু করার কথা ভাবলেন৷
শিক্ষাজীবন থেকেই জুঁই মানসিকভাবে স্বনির্ভর জীবনযাপন করতেন৷
কিন্তু ২০০৬ সালে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ের পর তার সেই
স্বাবলম্বী হওয়ার পথ যেন আরও প্রশস্ত হয়৷ স্বামী সুরুজ তাকে
বন্ধুর মত সার্বক্ষণিক সহায়তা করেন৷ আর তাই তার প্রতিভার শতভাগ
বিকাশও যেন পরিপূর্ণতা পায়৷ জুঁই জানালেন, ‘একজন নারী হিসেবে
যখন নানান ব্যস্ততায় ছুটে চলতাম তখন অনেকের কাছেই তা পাগলামি
মনে হতো৷ কিন্তু আমার স্বামী সুরুজ সকল কিছুর উর্দ্ধে আমাকে
ছুটে চলার অনুপ্রেরণা দিতেন৷ এটি আমার জন্য অন্যরকম পাওয়া!’
বিয়ের পর শাশুড়ি তার গুণী জুঁই বউমাকে অনেক বেশি ভালোবাসতেন৷
শাশুড়ির দৃষ্টিতে জুঁই ছিলেন একজন পরিশ্রমী পুত্রবধূ৷ শাশুড়ি
তার গুণী বউয়ের কাছে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নিজেও কাজ শিখতেন৷
এটি ছিল জুঁইয়ের জীবনে অনেক বড় পাওয়া৷ এমনি করে জুঁইয়ের জীবন
বয়ে চলে৷ ইতোমধ্যে তিনি প্রথম পুত্র সন্তানের জননী হন৷ একদিকে
সংসার জীবন; অন্যদিকে কিছু করার ভাবনা তাকে বেশ তাড়িত করত৷
নিজেকেই খুঁজে পেয়েছেন নতুন করে
২০০৮ সাল৷ ১-৩ মে৷ জুরাইনে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আয়োজনে
অনুষ্ঠিত সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন জুঁই৷ সেটিই ছিল তার
অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা৷
এরপর তিনি নিজের অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণে অর্জিত দক্ষতাকে কাজে
লাগিয়ে অগ্রসর হতে থাকেন৷ তার আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার পথে
যুক্ত হয় উজ্জীবক প্রশিক্ষণটি৷ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ
এর ৩/৭ আসাদ এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত ১১০৯তম ব্যাচে উজ্জীবক
প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তখন আমার আর্থিক অবস্থা এমন ছিল যে,
সামান্য যাতায়াতের খরচ পর্যন্ত ছিল না৷ কিন্তু প্রশিক্ষণের
জন্য এক ধরনের টান অনুভব করি৷ তাই ছুটে যেতে ভালোই লাগত৷
প্রশিক্ষণের সবচেয়ে ভালো লাগা বিষয়টি ছিল- নারীর ক্ষমতায়ন এবং
নারী নেতৃত্বের বিকাশ৷ এছাড়া স্বর্নিভরতা, নয় বিন্দুর খেলা এবং
স্বপ্নের গ্রামের ভাবনা যুক্ত করেছিল নতুন মাত্রা৷ চার দিনের
অনেক জানা আর ভালো লাগার পরিধি থেকে তিনি যেন নিজেকেই খুঁজে
পেয়েছেন নতুন করে৷ এরপর জুঁই নিজ উদ্যোগেই যুক্ত হয়েছেন ২০০৮
সালের ২৭-২৯ আগস্ট, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে
অনুষ্ঠিত বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সাথে৷
অতপর...
উজ্জীবক প্রশিক্ষণের পর নিজের স্বর্নিভরতা অর্জনের পাশাপাশি
এলাকায় বেশ কিছু কার্যক্রম শুরু করেন৷ নিজ ঘরেই শুরু করেন
সেলাইয়ের কাজ৷ অন্যদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে দি হাঙ্গার
প্রজেক্টের সহায়তায় খিলগাঁও পূর্ব গোড়ানে তিন দিন ব্যাপী
দক্ষতাবৃদ্ধিমূলক ব্লক-বাটিক এবং হস্তশিল্পের উপর একটি
প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন৷ স্থানীয় উজ্জীকদের উদ্যোগে আয়োজিত এই
প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল এলাকার আর্থ-সামাজিক বিশেষ করে
নারীদের জন-সম্পদে পরিণত করা৷ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী ৩০ জন
নারী উজ্জীবকদের প্রত্যেককেই ব্লক-বাটিকের উপর হাতে কলমে
প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়৷ প্রশিক্ষণ শেষে স্বীকৃতিস্বরূপ প্রত্যেক
অংশগ্রহণকারীকে সনদপত্র প্রদান করা হয়৷
নকশিকাঁথা
কাঁথার প্রতিটি ফোঁড়েই থাকে একেকটি দুঃখগাথা৷ সেই দুঃখগাথা
দিয়েই পরিপূর্ণ হয় একেকটি নকশিকাঁথা৷ এরূপ ভাবনা থেকে কিছু
করার দরকার অনুভব করেন জুঁই৷ ১৯৯৩ সালে ঘরোয়াভাবে গড়ে তোলা
সেলাই শিক্ষা কেন্দ্রটির নাম দেন ‘নকশিকাঁথা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’৷
অল্প ক’জন নারীকে নিয়ে জুঁই মুরাদপুর এলাকায় গড়ে তোলা সংগঠনটির
শুরুর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানালেন, নারিন্দায় খালার বাসায়
গায়ের মাপ দিয়ে খালা যখন পোশাক বানাতেন, তখন নিজের অজান্তেই
কল্পনার জগতে তৈরি পোশাকটি দেখতে পেতাম৷ এছাড়া খালার বাড়ির
প্রতিবেশী দীপালী ও শেফালী মাসিকে কাপড়ের ফুল বানাতে দেখে
মুগ্ধ হতাম!’
শৈশবের স্বপ্নকে লালন করেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জুঁই ‘নকশিকাঁথা
প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’র মূল দায়িত্বটি পালন করে আসছেন৷ যুগের
পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের চাহিদা ও রুচিবোধের পরিবর্তন
হয়েছে৷ তাই গ্রাম বাংলার প্রকৃতি থেকে শুরু করে বিয়ে, গায়েহলুদ,
কনেবিদায়, কনেবরণ, গাছ-ফুল-পাতা-লতা-কলি, ধানক্ষেত, নৌকা,
হালচাষ এরকম প্রাকৃতিক দৃশ্য অঙ্কিত নকশিকাঁথা৷
এছাড়া রয়েছে পোশাক তৈরি (কাটিং), কারচুপি, কাপড়ের পুতুল তৈরি,
ফোমের শো-পিচ, জাপানি শো-পিস, জাপানি টাইডাই, বাটিক প্রিন্ট,
কারু মোম, ভেজিটেবল ডাইং, ব্রাশ প্রিন্ট, স্প্রে প্রিন্ট,
ড্রাই ফুল, কাপড়ের তৈরি ফুল, আর্টিফিসিয়াল বনসাই, ভেজিটেবল কাটিং,
ক্রিস্টালের শো-পিস, হাজার বুটি, ঝাড় বাহার, স্টোন ট্রি, চায়না
পটারি, ডায়মন্ড পটারি, গ্লাস পেইন্ট, গ্রিটিং কার্ড, চুড়ি
বাহারি, চট বাহারি রাজ পটারি, পাউরুটি শো-পিস, এম্রয়েডারি,
কোরিয়ান ফুল, টিস্যু ও পেপার ক্রাফট, রিবন ক্রাফট ও রাজশাহী
সিল্ক, গোল্ডেন সিরাডিক প্রিন্ট, ইরানি পটারি, রাজ পটারি, আড়ং
-এর কুসন কভার, রজনীগন্ধা স্ট্রিক, সাবানের শো-পিস, ফুল,
পুঁতি-পার্বণ, কৃত্রিম মাশরুম, তেজপাতার গাছ, নাইট কুইন, থাই
কুইন, সাবানের ফালুদা, সিরামিক প্রিন্ট, হ্যান্ড প্রিন্ট,
ব্লক-বাটিক, ডিমের খোসার শো-পিচ, কন-ফ্লায়ার, কাঁচের ফুলদানিসহ
প্রায় ২০০ রকমের আইটেম৷ এগুলো সবই জুঁইয়ের তৈরি৷
নকশিকাঁথা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শুধু হাতের কাজ নয়, রান্না
বিষয়েও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়৷ রান্নার বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে
মিষ্টি, আইসক্রিম, বেকারি, চাইনিজ, কেক ইত্যাদি অন্যতম৷
নকশিকাঁথা থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এ পর্যন্ত
৪৫ জন নারী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ
পেয়েছেন৷ কাজের সুবাদে বাড়তি আয়ের পথ অনেককেই দিয়েছে নতুন পথের
সন্ধান৷ এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়৷ এখানে
নিয়োজিত স্বাবলম্বী নারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সংসারে
কাজের ফাঁকে এই বাড়তি আয় তাদের স্বাবলম্বী করেছে৷ দিয়েছে জীবনে
নতুন পথের সন্ধানও৷ তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে
তার এই আয়োজনের চলমান প্রক্রিয়া বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত
রয়েছে৷
যুক্ত আছেন আরো যে সকল কাজে
নারীকে শতভাগ স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে প্রচার মাধ্যমেও
রয়েছে তার নিয়মিত অংশগ্রহণ৷ আরটিভি’র গৃহশৈলী’তে (পাক্ষিক/প্রতি
বৃহঃ) হস্তশিল্পের উপর প্রচারিত অনুষ্ঠানে জুঁই নিয়মিত
অংশগ্রহণ করেন৷ প্রচারের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার
জন্যই তার এই মহতী উদ্যোগ৷ এছাড়া ২০০২ সাল থেকে বর্তমান সময়
পর্যন্ত পিডিলাইট কোম্পানির সাধারণ সম্পাদিকা এবং একজন
প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন৷ নারী অধিকার নিয়ে তিনি
আফ্রিকার সাবেক ফাস্টলেডি উইনি মেন্ডেলার সাথে তার এলাকার
বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ পেয়েছিলেন৷ মূলত সে আলোকেই তিনি
এলাকায় সার্বক্ষণিক সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করছেন৷ এছাড়া ‘আলোকিত
মানুষ, আলোকিত নারী’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে নির্যাতিতা
নারীদের সাথে কাজ করছেন ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসে
ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)’৷
সাফল্যের স্বীকৃতি
নারীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে একদিকে সফল প্রশিক্ষকের স্বপ্ন;
অন্যদিকে তার সকল কর্মতৎপরতার জন্যই এলাকাবাসী জুঁইকে সাফল্যের
স্বীকৃতি দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন৷ আর সেই সাফল্যের অনুপ্রেরণা
থেকেই জুঁই কোতোয়ালি ইউনিট থানা থেকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের
আহবানে এবছর ‘জাতীয় যুবমেলা-২০০৮’-এ অংশগ্রহণ করেন৷ সাফল্যের
স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা ও সনদপত্র মিললেও মেলেনি
শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার৷ নারীকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি
কাজ করতে হয়৷ আত্মবিশ্বাসী জুঁই তার নানামুখী কর্মকাণ্ডের গুণে
আগামী বারে এই পুরস্কারটি পাওয়ার জন্য মনে মনে প্রত্যাশা করেন৷
আর তাই জুঁই নব নব সৃষ্টিশীল ভাবনা নিয়ে ছুটে চলার তাড়াও অনুভব
করেন৷
স্বাবলম্বী জুঁইয়ের স্বপ্ন
অনেক দিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জুঁই বলেন,
‘উজ্জীবক প্রশিক্ষণে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি আমাকে বিশেষভাবে
নাড়া দেয়৷ ফলে এটিকে বাস্তবায়নের জন্য নিজ এলাকাতেই কাজ করে
চলেছি৷’ এলাকার জন্য সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ যেমন, ব্লক-বাটিক,
সুঁচিকর্মসহ হস্তশিল্পের দ্বারা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা৷
এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়েই
এগিয়ে চলেছেন জুঁই৷
অন্যরকম স্বপ্নের সফল রূপকার...
জুঁইয়ের শৈশব স্বপ্নের অনেকটা অংশ জুড়েই যে গল্পটি খুব বেশি
অনুপ্রাণিত করে তোলে- বরিশালের সিকদার বাড়ির সুশ্রী মেয়ের (জুঁইয়ের
দাদী) তৈরি নকশিকাঁথা দেখার জন্য অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ
আসতেন৷ দাদা শীতের দিনে চাদরের পরিবর্তে দাদীর তৈরি নকশিকাঁথাটি
গায়ে দিয়ে ঘুরে বেড়াতেন৷ তখন থেকেই মূলত রূপকথার কাহিনীর মত
সুন্দর কারুকাজের কাঁথা মনে অাঁকা ছিল৷ বাবার কাছ থেকেই সেই
গল্প বার বার শুনতেন৷ জুঁইয়ের কাছে তা প্রতিবারই নতুন মনে হতো৷
সত্যি তাই! জুঁইয়ের সেই গল্প যেন তার শুধু একার নয়; আমাদেরও৷
|