|
|
একটি ঘটনা
গাজীপুর জেলার বাঘিয়া গ্রামের মো: সফিউদ্দিন ও হামিদার মেয়ে
হাদিয়া৷ কোণাবাড়ির আমবাগ গ্রামের মৃত রশিদ ও ছাহেরা বেগমের ছেলে
মোস্তফা৷ ১৯৯৪ সালে পারিবারিক সম্মতিতে হাদিয়া ও মোস্তফার বিয়ে
হয়৷ মোস্তফা গার্মেন্টেসে চাকরি করতেন৷ হাদিয়া ঘর-সংসারেই সময়
ব্যয় করতেন৷ অভাবের সংসারে হাদিয়া তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা,
ধান চাউল কাপড়সহ সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস আনতেন৷ এছাড়া থাকার
ঘর তৈরির টিন, কাঠও বাবার বাড়ি থেকে এনেছেন৷ সংসারের আর্থিক
সচছলতার কথা ভেবেই হাদিয়া গার্মেন্টেসে চাকরি করতে চান৷ কিন্তু
মোস্তফা তাতে রাজি হন না৷ বলেন, ‘তুমি চাকরিতে গেলে তোমগগো বাড়ি
থেইক্যা সাহায্য বন্ধ অইয়্যা যাইব৷’ হাদিয়ার চাকরি করা নিয়ে
শুধু আপত্তি নয়; চলে অকথ্য ভাষায় গালাগালাজ এবং শারীরিক ও
মানসিকভাবে নির্যাতন৷
বিয়ের এক বছর পরের ঘটনা৷ হাদিয়া প্রথম কন্যাসন্তানের মা হন৷
মেয়েসহ হাদিয়া বাবার বাড়িতে দু বছর অবস্থান করেন৷ এ সময়ে স্বামী
মোস্তফা ভরণ-পোষণ তো দূরে থাক; সামান্য খোঁজ-খবর পর্যন্ত নেন
না৷ হাদিয়ার বাবা-মা শ্বশুরবাড়ি আমবাগে যোগাযোগ করেন৷ এ নিয়ে
গ্রামে বেশ ক’বার সালিশ বসে৷ মীমাংসাও হয়৷ কিন্তু তাতে ঘটনার
প্রকৃত সুরাহা হয় না৷ কিছুদিন পর হাদিয়া জানতে পারেন, মোস্তফার
আরও একটি বিয়ের ঘটনা৷ গার্মেন্টেসে কর্মরত এক কর্মীকে মোস্তফা
বিয়ে করেছেন৷ হাদিয়া খবরটি শুনে অনেকটাই দিশাহারা হয়ে পড়েন৷
পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে হাদিয়া বাঘিয়া গ্রামের
‘মহিলা সেবাসংঘে’র শরণাপন্ন হন৷ সংঘের প্রতিষ্ঠা ও পরিচালকের
সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতা কামনা করেন৷ পরিচালক গ্রামের
চেয়ারম্যানের সহায়তায় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয়
বিয়ের বিষয়টি তদন্ত করেন৷ ১৫ মে, ২০০৬ ইউনিয়ন পরিষদে মোস্তফার
মা এবং বড় ভাইকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়৷ প্রথমে
চেয়ারম্যান নোটিশ করে মোস্তফার মা-ভাইকে হাজির করেন৷ কিন্তু
মোস্তফা হাজির হন না৷ চেয়ারম্যান মা-ভাইকে সাত দিনের সময় দিয়ে
মোস্তফাকে হাজির করার নিদের্শ দেন৷
বাঘিয়াবাসী আইন-আদালতের চেয়ে মোস্তফার বড় ভাইকে বিষয়টি গ্রামেই
মীমাংসা করার পরামর্শ দেন৷ গ্রামবাসী, হাদিয়া ও মোস্তফার
পরিবার মিলে বসেন ‘মহিলা সেবাসংঘে’৷ সভায় উপস্থিত সকলের
সিদ্ধান্তক্রমে মোস্তফার দুই শতাংশ জমি হাদিয়ার নামে
রেজিস্ট্রেশন করে দেয়া হয়৷ বর্তমানে মোস্তফা ও হাদিয়া দুই জনই
গার্মেন্টেসে চাকরি করেন৷ মেয়ে স্কুলে যায়৷ শুধু হাদিয়া নয়,
এরকম অসহায় অনেক নারীর সুবিচার নিশ্চিত করা ও তাদের অধিকার
প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘মহিলা সেবাসংঘ’র সদস্যগণ প্রতিনিয়তই কাজ
করে চলেছেন৷ তাদের নিরলস শ্রমেই গ্রামে সকল ধরনের বৈষম্য,
নির্যাতন এবং সমঅধিকারের প্রশ্নে সোচচার থাকেন এ সংঘের সদস্যরা৷
ঘটনার নেপথ্যে
সুবিচার নিশ্চিতকরণে ‘মহিলা সেবাসংঘ’- এর পরিচালক বাহারজান
আক্তার বলেন, ুআমাদের সমাজে এরকম ঘটনা অহরহই ঘটছে৷ প্রথম
স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় বিয়ে করা মুসলিম পারিবারিক আইন
অনুযায়ী অপরাধ৷ বহুবিবাহের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক
আইনানুযায়ী ভরণ-পোষণ দিতে পারলে বাধা নেই৷ তবে এক্ষেত্রে
অবশ্যই আগের (প্রথম) স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন৷ এলাকায়
বিচারকার্যের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পায় জানতে চাইলে
তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বিচার
সুনিশ্চিতের বিষয়টিই বেশি প্রাধান্য পায়৷ কারণ সমাজে
সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সুবিচার সুনিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন৷ অসহায়
নারীদের জীবন নানা ধরনের প্রতিকূলতা থাকে, কিন্তু তারপরও তারা
থেমে থাকে না৷ দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক
শক্তি হিসাবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছি৷
১৯৯৮ সালে কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করি৷ সে বছরই নারীর কল্যাণে
কাজ করার জন্য গাজীপুরের বাঘিয়া গ্রামেই আট জন [বাহারজান, রওশন
আরা কাজল, জাহেদা বেগম, সেলিমা, রহিমা, রেহানা, শাহিদা,
শাহানাজ (মৃত)] নারীর উদ্যোগে গড়ে তুলি ‘মহিলা সেবাসংঘ’ নামে
একটি সংগঠন৷ প্রথমত নারীর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য পদক্ষেপ
গ্রহণ করা হয়৷ সদস্যদের সঞ্চিত অর্থ থেকেই বৃক্ষ রোপন, সবজি
চাষ, গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগি পালনের জন্য সদস্যদের প্রত্যেককে ঋণ
প্রদান করা হয়৷ মহিলা সেবাসংঘের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ২৫ জন৷
সংঘে গ্রুপ বা দল আছে ১১টি৷ প্রতিটি দল মাসিক সর্বনিম্ন পাঁচ
টাকা এবং সর্বোচচ কুড়ি টাকা হিসাবে সঞ্চয় করে৷
মহিলা সেবাসংঘটি গড়ে তোলার উদ্দেশ্য ছিল নারী ও শিশু নির্যাতন
বন্ধ করা, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ এবং যৌতুকমুক্ত বিয়েসহ এলাকার
নানা সমস্যায় সম্মুখীন নারীদের নিয়ে কাজ করা৷ এছাড়া
বাঘিয়াবাসীকে সম্পৃক্ত করে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস, রোকেয়া
দিবস, জাতীয় কন্যাশিশু দিবসগুলো পালনের মাধ্যমে তাদের সচেতন করে
তোলা৷ আর এ সকল কাজের পেছনের ভিত্তিটি ছিল ‘নারী নেতৃত্ব বিকাশ’
প্রশিক্ষণটি৷ প্রশিক্ষণটি গ্রহণের পর থেকেই মূলত চিন্তা ও
কাজের সহায়ক শক্তিটি মজবুত হয়েছে৷ কাজের ক্ষেত্রে সমর্থন পেয়েছি
মূলত বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক থেকেই৷ ঢাকায় মোহাম্মদপুরে
কেন্দ্রিয় অফিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ব্যাচে প্রশিক্ষণের সুযোগটি
আমার জীবনে একটি বড় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে৷”
বাহারজানের বক্তব্য থেকে একথা সুস্পষ্ট, প্রশিক্ষণটি তাকে আলোর
সন্ধান দিয়েছে৷ প্রশিক্ষণ থেকে ফিরে তাই তার মনে হয় সমাজের
উন্নয়নের জন্য ব্যক্তির উন্নয়ন বিশেষ করে নারীর উন্নয়ন জরুরি৷
এজন্য সংঠগনের কোনো বিকল্প নেই৷ ফলে সাংগঠনিক কাজের প্রতি তিনি
আরো বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন৷ এককভাবে কোনো কাজ করার চেয়ে
সমন্বিতভাবে করলে তার ফল টেকসই হবে৷ এ ধারণা থেকে বাহারজান
স্থানীয় অন্যান্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নারী অধিকার
বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসে সম্মিলিতভাবে
আলোচনা সভা,র্ যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকেন৷ এছাড়া
জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নারী ও শিশু অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন,
বিষয়ক নিয়মিত উঠান-বৈঠক ও প্রচারণাধর্মী কর্মসূচি গ্রহণ করে
থাকেন৷ তিনি জানান, ‘বাল্যবিবাহের মূল কারণ দারিদ্র্য আর
সামাজিক মূল্যবোধ৷ ফলে বাল্যবিবাহ রোধ করতে গেলে এ দুটি বিষয়কে
মাথায় রাখতে হবে৷’ ২০০৭ সালে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের দ্বিতীয়
ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরবর্তী কাজগুলো নিম্নরূপ:
নারী নেতৃত্ব বিকাশ শীর্ষক অনবর্তন (ফলোআপ) অর্জন
|
µwgK
bs |
Kvh©µg |
¯’vb |
AskMÖnYKvixi
msL¨v |
AR©b |
|
1. |
weKwkZ bvix †bUIqvK©- Gi Kg©kvjv |
†Kvbvevox |
22 |
bvix‡`i G mKj Kv‡R m¤ú„³ Kiv |
|
2. |
wmWi G kxZe¯¿ weZiY |
ev‡MinvU GjvKvq |
-- |
-- |
|
3. |
mvgvwRK m‡PZbZv e„wׇZ gmwR‡`i Bgvg‡`i wb‡q ˆeVK I
Av‡jvPbvmfv |
†Kvbvevwo |
18 |
mvgvwRK Kv‡R Zv‡`i m¤ú„³ Kiv |
|
4. |
bvix wbh©vZb cÖwZ‡iva, cvwievwiK ch©v‡q wbh©vZb e‡Ü
DVvb-ˆeVK Ges †ckvRxex‡`i m‡½ gZwewbgq |
†Kvbvevwo |
17 |
cÖwZwU cwievi cvwievwiK wbh©vZb eÜ Kivi A½xKvi K‡i |
|
5. |
†iv‡Kqv w`em cvjb |
†Kvbvevwo |
23 |
†eMg †iv‡Kqvi Av`k© I Kg© wb‡q Av‡jvPbvi gva¨‡g
gvbyl‡K m‡PZb Kiv| |
|
6. |
evj¨weevn wel‡q m‡PZbZvi j‡¶¨ QvÎ-QvÎx‡`i wb‡q Av‡jvPbvmfv |
evwNqv, †Kvbvevox |
115 |
evj¨weev‡ni Kzdj wb‡q ‡evSv‡bv I m‡PZb Kiv |
এছাড়া বাহারজান তার নিজ কর্মগুণে
সমাজের বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে
এগুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করার দিক নির্দেশনা প্রদান করে
চলেছেন৷ বর্তমানে তিনি খধনড়ঁৎ জবংড়ঁৎপব ঈবহঃৎব সংগঠনের সভাপতির
দায়িত্ব পালন করছেন৷ ২০০৩-২০০৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের অংশ
হিসাবে ভূমিহীনদের সচেতন করা এবং তাদের সংঘবদ্ধ করার কাজটি
করছেন৷ এছাড়া ‘আলোকিত মানুষ’, ‘এনজিও ফোরাম’- গাজীপুর সদরে
কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন৷
বাহারজানের নিজের কথা...
বাবায় আমারে ‘বাজান’ কইয়্যা ডাকতো।
চৌদ্দ বছর বয়সে বাবা মারা যান। আর তখন
থেকেই আমার জীবন সংগ্রাম শুরু। সবাই
চাইল বিয়ে দিতে৷ কিন্তু আমার ছোট ভাই-বোন ছিল৷ তাই দায়িত্বও
ছিল৷ বাবা ওহাজউদ্দিন মণ্ডল একাধিক বিয়ে করেছিলেন৷ আমার মা
বিলাতননেছা ছিলেন চতুর্থ স্ত্রী৷ আর পঞ্চম মা ছিলেন কর্পূরজান৷
কৃষিনির্ভর পরিবারে কোন অভাব-অনটন ছিল না৷ বড় পরিবারে যে বিষয়টি
দেখেছি- কোনো দ্বন্দ্ব বা বিরোধ ছিল না৷ সবসময় আনন্দের বন্যা
বয়ে যেত৷ সবাই যে যার কাজে এত বেশি ব্যস্ত থাকতেন যে
দ্বন্দ্বের কোনো অবকাশই ছিল না৷ বাবা, দাদা সবাই ছিলেন গ্রামে
একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে ব্যস্ত৷ বাবা বলতেন, ‘ছেলে দূরে
গিয়ে পড়বে কিন্তু মেয়ে?’ মূলত আমার দাদা নান্দু মণ্ডলের উদ্যোগে
এবং গ্রামবাসীর সহায়তায় তিনি গড়ে তোলেন ‘বাঘিয়া প্রাইমারি
সরকারি বিদ্যালয়’৷ এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৩৯ সালে৷ এরপর
বাবার উদ্যোগ এবং ঐকান্তিক চেষ্টায় ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়
‘বাঘিয়া উচচ বিদ্যালয়’৷
সময় অনেকটাই গড়ায়৷ ১৯৬৪ সালে বাবার মৃত্যুতে কৃষি জমি দেখাশুনা
এবং পরিবারে শূন্যতা দেখা দেয়৷ তখন ক্লাস নাইনের ছাত্রী৷ বাবার
অবর্তমানে বড় সন্তান হিসেবে পরিবারে দায়িত্ব পালনেই সময় ব্যয়
হত৷ তাই পড়াশুনায়ও বিরতি পড়ে৷ আমার দুই ফুপু এবং সহপাঠীরা
ডিগ্রি পাশ করে অনেকেই শিক্ষকতা পেশা শুরু করে দিয়েছে৷ সে সময়ে
আমার হতাশ মনে আশার সঞ্চার ঘটায় আমার ফুপু এবং সহপাঠীরা৷ আমার
বাবা মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে উচচ ধারণা পোষণ করতেন৷ বলতেন,
‘মেয়ে আমার প্রফেসর হবে৷’ এটিই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া৷
পরিবারে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ১৯৭২ সালে ‘বাঘিয়া উচ্চ
বিদ্যালয়’ থেকে ম্যাটিক পাশ করি।
এরপরই সাভার গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রে চাকরির সুযোগ আসে৷ সে সময়
গণস্বাস্থ্যের পরিচালক বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে কাজের জন্য
স্বেচছাসেবী সংগ্রহ করতেন৷ বাঘিয়া গ্রাম থেকে স্বেচছাসেবী
হিসেবে কাজের সুযোগ মেলে। এখানে আমি
স্বাস্থ্যসেবার কাজগুলো যেমন- শিশুর ছয়টি টিকা, মাতৃস্বাস্থ্য,
পরিবার পরিকল্পনা, শিশু ও বয়স্ক শিক্ষার দায়িত্ব পালন করতাম৷
এছাড়া নিজ দায়িত্ব থেকেই নারীদের স্বনির্ভর করার জন্য বাঁশ,
বেত, সেলাই, বেকারি, পাদুকা তৈরি ও গিরিলের কাজ শেখানোর
প্রশিক্ষণ দিতাম৷ এলাকা থেকে আমিই প্রথম চাকরি করেছি৷ তাই
গ্রামে গেলে অনেকের অহেতুক কথা শুনতে হতো৷ তাদের কথায় কান না
দিয়ে নিজের কাজেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়তাম৷ সুদীর্ঘ সময়
কর্মজীবনের পর ১৯৯৭ সালে অনেকটা ইচছাকৃতই অবসর গ্রহণ করি৷
কাজের অভিজ্ঞতা ছিল বলে বিভিন্ন সংগঠন থেকে সুযোগ আসে৷ কিন্তু
নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকি৷ আর সেরূপ ভাবনা থেকেই গড়ে তুলি একটি
সংগঠন (‘মহিলা সেবাসংঘ’)৷ জীবন সংগ্রামে সর্বত্র স্বাধীনভাবে
কাজ করতে পেরেছি৷ চলার পথে কর্মজীবনের সহকর্মী ডা. লায়লা এবং
ফ্রান্সের নার্স জিজেল ছিলেন আমার অনুপ্রেরণার উৎস।”
নতুন করে স্বপ্ন জাগায়
বাহারজানের স্বামী মোসলেম আলী গণস্বাস্থ্যের পক্ষ থেকে
প্রশিক্ষক হিসাবে বর্তমানে আফগানিস্থানে কর্মরত৷ ছেলে বায়েজিদ
হোসেন ভাওয়াল বদরে আলম কলেজের অনার্স ফাইনার ইয়ারের ছাত্র৷
আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা অক্লান্ত পরিশ্রম,
চেষ্টায় সফল হন নিজ তাগিদ থেকেই৷ প্রতিকূলতার কোনো
পরিস্থিতিতেই তারা দমে যান না৷ প্রতিনিয়তই ছুটে চলেন নতুন কিছু
করার জন্য৷ ‘হেই পাঁচটায় রওনা দিচি, ছয়টার আগেই সংসারের সব করচি;
তাড়াতাড়ি যাইতে অইব বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের নিয়মিত মাসিক সভায়৷’
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ মোহাম্মদপুর কেন্দ্রিয় অফিসেই কথা হয়
বাঘিয়ার বাহারজানের সঙ্গে৷ সময়মত মিটিং এ হাজির হওয়ার জন্য খুব
ভোরে রওনা দিয়েছেন তিনি৷ নিজ তাগিদবোধ থেকে এই ছুটে আসার গল্প
শুনে তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং আস্থা বেড়ে যায়৷ বাহারজান
আক্তার পরিশ্রম করেছেন, সুফলও মিলেছে তার৷ তিনি সমাজ বদলের
আকাঙক্ষায় যেভাবে কাজ করে চলেছেন তা আমাদের চলার পথকে প্রশস্ত
করে; আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়৷
|