General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

সম্পাদকীয়

নারী নির্যাতনের স্বরূপ ও আমাদের বিবেক

যে কথা যায় না বলা

আলোকিত আরতি
আসমা ও তার নারী কল্যাণ সংস্থা
আঁধারে আশার প্রদীপ
আত্মবিশ্বাসী দোলনা
আনোয়ারার সংগ্রাম চলছে
এলাচি কথন
এক নিরলস নারী সংগঠক
এক স্বাবলম্বী নারীর একান্ত কথা
এখন তিনি এলাকার সফল নেত্রী
কিশোরগঞ্জের শিখা: এক লড়াকু সংগ্রামী
জীবন সংগ্রামে জয়ী জাহানারা
জেসমিনের স্বপ্ন: আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ
দৃঢ় প্রত্যয়ী নাসিমা
রামুর নারী উন্নয়নের প্রতীক
লুৎফা: এক অনুপ্রেরণার নাম
সাজেদা মেম্বার হতে চায়
সাঈদা: অসহায় মানুষের পাশে
সব বাধাই হার মানলো
সাহস করেই স্বপ্ন দেখি
বাঘিয়ার বাহারজান
নকশিকাঁথা: জীবনের রঙিন ফোঁড়

ইভানের কথা

 

বাঘিয়ার বাহারজান
সরস্বতী রানী পাল

 


একটি ঘটন


গাজীপুর জেলার বাঘিয়া গ্রামের মো: সফিউদ্দিন ও হামিদার মেয়ে হাদিয়া৷ কোণাবাড়ির আমবাগ গ্রামের মৃত রশিদ ও ছাহেরা বেগমের ছেলে মোস্তফা৷ ১৯৯৪ সালে পারিবারিক সম্মতিতে হাদিয়া ও মোস্তফার বিয়ে হয়৷ মোস্তফা গার্মেন্টেসে চাকরি করতেন৷ হাদিয়া ঘর-সংসারেই সময় ব্যয় করতেন৷ অভাবের সংসারে হাদিয়া তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা, ধান চাউল কাপড়সহ সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস আনতেন৷ এছাড়া থাকার ঘর তৈরির টিন, কাঠও বাবার বাড়ি থেকে এনেছেন৷ সংসারের আর্থিক সচছলতার কথা ভেবেই হাদিয়া গার্মেন্টেসে চাকরি করতে চান৷ কিন্তু মোস্তফা তাতে রাজি হন না৷ বলেন, ‘তুমি চাকরিতে গেলে তোমগগো বাড়ি থেইক্যা সাহায্য বন্ধ অইয়্যা যাইব৷’ হাদিয়ার চাকরি করা নিয়ে শুধু আপত্তি নয়; চলে অকথ্য ভাষায় গালাগালাজ এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন৷

বিয়ের এক বছর পরের ঘটনা৷ হাদিয়া প্রথম কন্যাসন্তানের মা হন৷ মেয়েসহ হাদিয়া বাবার বাড়িতে দু বছর অবস্থান করেন৷ এ সময়ে স্বামী মোস্তফা ভরণ-পোষণ তো দূরে থাক; সামান্য খোঁজ-খবর পর্যন্ত নেন না৷ হাদিয়ার বাবা-মা শ্বশুরবাড়ি আমবাগে যোগাযোগ করেন৷ এ নিয়ে গ্রামে বেশ ক’বার সালিশ বসে৷ মীমাংসাও হয়৷ কিন্তু তাতে ঘটনার প্রকৃত সুরাহা হয় না৷ কিছুদিন পর হাদিয়া জানতে পারেন, মোস্তফার আরও একটি বিয়ের ঘটনা৷ গার্মেন্টেসে কর্মরত এক কর্মীকে মোস্তফা বিয়ে করেছেন৷ হাদিয়া খবরটি শুনে অনেকটাই দিশাহারা হয়ে পড়েন৷

পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে হাদিয়া বাঘিয়া গ্রামের ‘মহিলা সেবাসংঘে’র শরণাপন্ন হন৷ সংঘের প্রতিষ্ঠা ও পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতা কামনা করেন৷ পরিচালক গ্রামের চেয়ারম্যানের সহায়তায় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি তদন্ত করেন৷ ১৫ মে, ২০০৬ ইউনিয়ন পরিষদে মোস্তফার মা এবং বড় ভাইকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়৷ প্রথমে চেয়ারম্যান নোটিশ করে মোস্তফার মা-ভাইকে হাজির করেন৷ কিন্তু মোস্তফা হাজির হন না৷ চেয়ারম্যান মা-ভাইকে সাত দিনের সময় দিয়ে মোস্তফাকে হাজির করার নিদের্শ দেন৷

বাঘিয়াবাসী আইন-আদালতের চেয়ে মোস্তফার বড় ভাইকে বিষয়টি গ্রামেই মীমাংসা করার পরামর্শ দেন৷ গ্রামবাসী, হাদিয়া ও মোস্তফার পরিবার মিলে বসেন ‘মহিলা সেবাসংঘে’৷ সভায় উপস্থিত সকলের সিদ্ধান্তক্রমে মোস্তফার দুই শতাংশ জমি হাদিয়ার নামে রেজিস্ট্রেশন করে দেয়া হয়৷ বর্তমানে মোস্তফা ও হাদিয়া দুই জনই গার্মেন্টেসে চাকরি করেন৷ মেয়ে স্কুলে যায়৷ শুধু হাদিয়া নয়, এরকম অসহায় অনেক নারীর সুবিচার নিশ্চিত করা ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘মহিলা সেবাসংঘ’র সদস্যগণ প্রতিনিয়তই কাজ করে চলেছেন৷ তাদের নিরলস শ্রমেই গ্রামে সকল ধরনের বৈষম্য, নির্যাতন এবং সমঅধিকারের প্রশ্নে সোচচার থাকেন এ সংঘের সদস্যরা৷

ঘটনার নেপথ্যে
সুবিচার নিশ্চিতকরণে ‘মহিলা সেবাসংঘ’- এর পরিচালক বাহারজান আক্তার বলেন, ুআমাদের সমাজে এরকম ঘটনা অহরহই ঘটছে৷ প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় বিয়ে করা মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী অপরাধ৷ বহুবিবাহের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইনানুযায়ী ভরণ-পোষণ দিতে পারলে বাধা নেই৷ তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আগের (প্রথম) স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন৷ এলাকায় বিচারকার্যের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বিচার সুনিশ্চিতের বিষয়টিই বেশি প্রাধান্য পায়৷ কারণ সমাজে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সুবিচার সুনিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন৷ অসহায় নারীদের জীবন নানা ধরনের প্রতিকূলতা থাকে, কিন্তু তারপরও তারা থেমে থাকে না৷ দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক শক্তি হিসাবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছি৷

১৯৯৮ সালে কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করি৷ সে বছরই নারীর কল্যাণে কাজ করার জন্য গাজীপুরের বাঘিয়া গ্রামেই আট জন [বাহারজান, রওশন আরা কাজল, জাহেদা বেগম, সেলিমা, রহিমা, রেহানা, শাহিদা, শাহানাজ (মৃত)] নারীর উদ্যোগে গড়ে তুলি ‘মহিলা সেবাসংঘ’ নামে একটি সংগঠন৷ প্রথমত নারীর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়৷ সদস্যদের সঞ্চিত অর্থ থেকেই বৃক্ষ রোপন, সবজি চাষ, গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগি পালনের জন্য সদস্যদের প্রত্যেককে ঋণ প্রদান করা হয়৷ মহিলা সেবাসংঘের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ২৫ জন৷ সংঘে গ্রুপ বা দল আছে ১১টি৷ প্রতিটি দল মাসিক সর্বনিম্ন পাঁচ টাকা এবং সর্বোচচ কুড়ি টাকা হিসাবে সঞ্চয় করে৷

মহিলা সেবাসংঘটি গড়ে তোলার উদ্দেশ্য ছিল নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ করা, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ এবং যৌতুকমুক্ত বিয়েসহ এলাকার নানা সমস্যায় সম্মুখীন নারীদের নিয়ে কাজ করা৷ এছাড়া বাঘিয়াবাসীকে সম্পৃক্ত করে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস, রোকেয়া দিবস, জাতীয় কন্যাশিশু দিবসগুলো পালনের মাধ্যমে তাদের সচেতন করে তোলা৷ আর এ সকল কাজের পেছনের ভিত্তিটি ছিল ‘নারী নেতৃত্ব বিকাশ’ প্রশিক্ষণটি৷ প্রশিক্ষণটি গ্রহণের পর থেকেই মূলত চিন্তা ও কাজের সহায়ক শক্তিটি মজবুত হয়েছে৷ কাজের ক্ষেত্রে সমর্থন পেয়েছি মূলত বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক থেকেই৷ ঢাকায় মোহাম্মদপুরে কেন্দ্রিয় অফিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ব্যাচে প্রশিক্ষণের সুযোগটি আমার জীবনে একটি বড় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে৷”

বাহারজানের বক্তব্য থেকে একথা সুস্পষ্ট, প্রশিক্ষণটি তাকে আলোর সন্ধান দিয়েছে৷ প্রশিক্ষণ থেকে ফিরে তাই তার মনে হয় সমাজের উন্নয়নের জন্য ব্যক্তির উন্নয়ন বিশেষ করে নারীর উন্নয়ন জরুরি৷ এজন্য সংঠগনের কোনো বিকল্প নেই৷ ফলে সাংগঠনিক কাজের প্রতি তিনি আরো বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন৷ এককভাবে কোনো কাজ করার চেয়ে সমন্বিতভাবে করলে তার ফল টেকসই হবে৷ এ ধারণা থেকে বাহারজান স্থানীয় অন্যান্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নারী অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসে সম্মিলিতভাবে আলোচনা সভা,র্ যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকেন৷ এছাড়া জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নারী ও শিশু অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, বিষয়ক নিয়মিত উঠান-বৈঠক ও প্রচারণাধর্মী কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকেন৷ তিনি জানান, ‘বাল্যবিবাহের মূল কারণ দারিদ্র্য আর সামাজিক মূল্যবোধ৷ ফলে বাল্যবিবাহ রোধ করতে গেলে এ দুটি বিষয়কে মাথায় রাখতে হবে৷’ ২০০৭ সালে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের দ্বিতীয় ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরবর্তী কাজগুলো নিম্নরূপ:


নারী নেতৃত্ব বিকাশ শীর্ষক অনবর্তন (ফলোআপ) অর্জন
 

µwgK

bs

Kvh©µg

¯’vb

AskMÖnYKvixi msL¨v

AR©b

1.

weKwkZ bvix †bUIqvK©- Gi Kg©kvjv

†Kvbvevox

22

bvix‡`i G mKj Kv‡R m¤ú„³ Kiv

2.

wmWi G kxZe¯¿ weZiY

ev‡MinvU GjvKvq

--

--

3.

mvgvwRK m‡PZbZv e„wׇZ gmwR‡`i Bgvg‡`i wb‡q ˆeVK I Av‡jvPbvmfv

†Kvbvevwo

18

mvgvwRK Kv‡R Zv‡`i m¤ú„³ Kiv

4.

bvix wbh©vZb cÖwZ‡iva, cvwievwiK ch©v‡q wbh©vZb e‡Ü DVvb-ˆeVK Ges †ckvRxex‡`i m‡½ gZwewbgq

†Kvbvevwo

17

cÖwZwU cwievi cvwievwiK wbh©vZb eÜ Kivi A½xKvi K‡i

5.

†iv‡Kqv w`em cvjb

†Kvbvevwo

23

†eMg †iv‡Kqvi Av`k© I Kg© wb‡q Av‡jvPbvi gva¨‡g gvbyl‡K m‡PZb Kiv|

6.

evj¨weevn wel‡q m‡PZbZvi j‡¶¨ QvÎ-QvÎx‡`i wb‡q Av‡jvPbvmfv

evwNqv, †Kvbvevox

115

evj¨weev‡ni Kzdj wb‡q ‡evSv‡bv I m‡PZb Kiv

এছাড়া বাহারজান তার নিজ কর্মগুণে সমাজের বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে এগুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করার দিক নির্দেশনা প্রদান করে চলেছেন৷ বর্তমানে তিনি খধনড়ঁৎ জবংড়ঁৎপব ঈবহঃৎব সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন৷ ২০০৩-২০০৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসাবে ভূমিহীনদের সচেতন করা এবং তাদের সংঘবদ্ধ করার কাজটি করছেন৷ এছাড়া ‘আলোকিত মানুষ’, ‘এনজিও ফোরাম’- গাজীপুর সদরে কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন৷

বাহারজানের নিজের কথা...
বাবায় আমারে ‘বাজান’ কইয়্যা ডাকতো চৌদ্দ বছর বয়সে বাবা মারা যান আর তখন থেকেই আমার জীবন সংগ্রাম শুরু সবাই চাইল বিয়ে দিতে৷ কিন্তু আমার ছোট ভাই-বোন ছিল৷ তাই দায়িত্বও ছিল৷ বাবা ওহাজউদ্দিন মণ্ডল একাধিক বিয়ে করেছিলেন৷ আমার মা বিলাতননেছা ছিলেন চতুর্থ স্ত্রী৷ আর পঞ্চম মা ছিলেন কর্পূরজান৷ কৃষিনির্ভর পরিবারে কোন অভাব-অনটন ছিল না৷ বড় পরিবারে যে বিষয়টি দেখেছি- কোনো দ্বন্দ্ব বা বিরোধ ছিল না৷ সবসময় আনন্দের বন্যা বয়ে যেত৷ সবাই যে যার কাজে এত বেশি ব্যস্ত থাকতেন যে দ্বন্দ্বের কোনো অবকাশই ছিল না৷ বাবা, দাদা সবাই ছিলেন গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে ব্যস্ত৷ বাবা বলতেন, ‘ছেলে দূরে গিয়ে পড়বে কিন্তু মেয়ে?’ মূলত আমার দাদা নান্দু মণ্ডলের উদ্যোগে এবং গ্রামবাসীর সহায়তায় তিনি গড়ে তোলেন ‘বাঘিয়া প্রাইমারি সরকারি বিদ্যালয়’৷ এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৩৯ সালে৷ এরপর বাবার উদ্যোগ এবং ঐকান্তিক চেষ্টায় ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বাঘিয়া উচচ বিদ্যালয়’৷

সময় অনেকটাই গড়ায়৷ ১৯৬৪ সালে বাবার মৃত্যুতে কৃষি জমি দেখাশুনা এবং পরিবারে শূন্যতা দেখা দেয়৷ তখন ক্লাস নাইনের ছাত্রী৷ বাবার অবর্তমানে বড় সন্তান হিসেবে পরিবারে দায়িত্ব পালনেই সময় ব্যয় হত৷ তাই পড়াশুনায়ও বিরতি পড়ে৷ আমার দুই ফুপু এবং সহপাঠীরা ডিগ্রি পাশ করে অনেকেই শিক্ষকতা পেশা শুরু করে দিয়েছে৷ সে সময়ে আমার হতাশ মনে আশার সঞ্চার ঘটায় আমার ফুপু এবং সহপাঠীরা৷ আমার বাবা মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে উচচ ধারণা পোষণ করতেন৷ বলতেন, ‘মেয়ে আমার প্রফেসর হবে৷’ এটিই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া৷ পরিবারে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ১৯৭২ সালে ‘বাঘিয়া উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে ম্যাটিক পাশ করি

এরপরই সাভার গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রে চাকরির সুযোগ আসে৷ সে সময় গণস্বাস্থ্যের পরিচালক বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে কাজের জন্য স্বেচছাসেবী সংগ্রহ করতেন৷ বাঘিয়া গ্রাম থেকে স্বেচছাসেবী হিসেবে কাজের সুযোগ মেলে এখানে আমি স্বাস্থ্যসেবার কাজগুলো যেমন- শিশুর ছয়টি টিকা, মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, শিশু ও বয়স্ক শিক্ষার দায়িত্ব পালন করতাম৷ এছাড়া নিজ দায়িত্ব থেকেই নারীদের স্বনির্ভর করার জন্য বাঁশ, বেত, সেলাই, বেকারি, পাদুকা তৈরি ও গিরিলের কাজ শেখানোর প্রশিক্ষণ দিতাম৷ এলাকা থেকে আমিই প্রথম চাকরি করেছি৷ তাই গ্রামে গেলে অনেকের অহেতুক কথা শুনতে হতো৷ তাদের কথায় কান না দিয়ে নিজের কাজেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়তাম৷ সুদীর্ঘ সময় কর্মজীবনের পর ১৯৯৭ সালে অনেকটা ইচছাকৃতই অবসর গ্রহণ করি৷ কাজের অভিজ্ঞতা ছিল বলে বিভিন্ন সংগঠন থেকে সুযোগ আসে৷ কিন্তু নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকি৷ আর সেরূপ ভাবনা থেকেই গড়ে তুলি একটি সংগঠন (‘মহিলা সেবাসংঘ’)৷ জীবন সংগ্রামে সর্বত্র স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছি৷ চলার পথে কর্মজীবনের সহকর্মী ডা. লায়লা এবং ফ্রান্সের নার্স জিজেল ছিলেন আমার অনুপ্রেরণার উৎস

নতুন করে স্বপ্ন জাগায়
বাহারজানের স্বামী মোসলেম আলী গণস্বাস্থ্যের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষক হিসাবে বর্তমানে আফগানিস্থানে কর্মরত৷ ছেলে বায়েজিদ হোসেন ভাওয়াল বদরে আলম কলেজের অনার্স ফাইনার ইয়ারের ছাত্র৷

আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা অক্লান্ত পরিশ্রম, চেষ্টায় সফল হন নিজ তাগিদ থেকেই৷ প্রতিকূলতার কোনো পরিস্থিতিতেই তারা দমে যান না৷ প্রতিনিয়তই ছুটে চলেন নতুন কিছু করার জন্য৷ ‘হেই পাঁচটায় রওনা দিচি, ছয়টার আগেই সংসারের সব করচি; তাড়াতাড়ি যাইতে অইব বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের নিয়মিত মাসিক সভায়৷’

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ মোহাম্মদপুর কেন্দ্রিয় অফিসেই কথা হয় বাঘিয়ার বাহারজানের সঙ্গে৷ সময়মত মিটিং এ হাজির হওয়ার জন্য খুব ভোরে রওনা দিয়েছেন তিনি৷ নিজ তাগিদবোধ থেকে এই ছুটে আসার গল্প শুনে তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং আস্থা বেড়ে যায়৷ বাহারজান আক্তার পরিশ্রম করেছেন, সুফলও মিলেছে তার৷ তিনি সমাজ বদলের আকাঙক্ষায় যেভাবে কাজ করে চলেছেন তা আমাদের চলার পথকে প্রশস্ত করে; আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়৷

 

 
 

National Girl Child Advocacy Forum

 

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net