General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
 

 

কন্যাশিশুর অধিকার: প্রসঙ্গ বাংলাদেশ

ইভটিজিং : চাই সামাজিক প্রতিরোধ

একটি মুখের হাসির জন্য

আদিবাসী সমাজে নারী ও উন্নয়ন পরিকল্পনা

নারীর মানবাধিকার-রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব

ভাঙা-গড়ায় নূরুন্নাহার

নারী মুক্তির অগ্রদূত বেগম রোকেয়া

ইভটিজিং-একটি সামাজিক ব্যাধি

ওরা ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিল

 
 

কন্যাশিশু- ৪

ভাঙা-গড়ায় নূরুন্নাহার
ড. নিতাই দাস*

 


বিরামপুরে আমরা পৌঁছলাম শীতের সন্ধ্যা আসি আসি করছে এমন মুহূর্তে৷ তখনো চারপাশ অাঁধারে ঢেকে যায়নি৷ আবার যে চারপাশ আলোয় আলোময় অবস্থা এমনও নয়৷ ধূসর একটা আলোর মালা যেন পশ্চিম থেকে জোর করে উঠে আসতে চাইছে৷ ফলে আলোর প্রয়াস সত্ত্বেও চারপাশ ক্রমেই ম্লান হয়ে আসছিলো৷ পূর্বদিকে ক্রমেই ক্ষীণ ক্ষয়ে আসা আলোতে আমরা চোখ রাখি আশপাশে৷

বামপাশের পরিচিত দোকানগুলোর কোনো অস্তিত্ব আর নেই এখন৷ এমনকি দীন দরিদ্রের ততোধিক দীন কুটিরগুলোও উঠে গেছে সব আলাদীনের জাদুর কাঠির এক ঘর্ষণে৷ তার স্থলে ইট কাঠ বাঁশ পড়ে আছে বিধবস্ত অবস্থায়৷ মনে হয় যেন একটা যুদ্ধের ঝড় বয়ে গেছে বিরামপুরের ওপর দিয়ে৷ ঝড় শেষে কিছু বিপন্ন মানুষ এখন খুঁজে ফিরছে তাদের প্রিয়তম সম্পদের ধবংসাবশেষ৷ যদি কিছু পাওয়া যায় খরকুটো শেষ আশ্রয়ের প্রয়োজনে সম্ভবত সেই আশায়৷

বাঁয়ের বিধবস্ত চেহারায় তুলনায় ডানের অবস্থা কিছুটা ভালো৷ এদিকে বেশ কিছু স্থাপনা দৃশ্যমান হচেছ৷ সম্ভবত বাঁয়ের কিছু উদ্বাস্তু ঠাঁই পেয়েছে ডানেরে নিরাপদ অন্দরে৷ পেট্রোল পাম্পের পাশে এমনি একটি বেঁচে যাওয়া হাওয়া যন্ত্রের সামনে ড্রাইভার আমাদের মাইক্রোবাসটিকে দাঁড় করিয়ে মেকানিকের সন্ধান করতে শুরু করে৷

ঘোড়ঘাট থেকে আমাদের বহনকারী গাড়িটি নিজেকে টেনে নিতে বেশ হিমশিম খেয়ে চলেছিলো৷ এই চলে তো, এই থেমে যায়- এমনি দোলাচলে ছুটতে ছুটকে শেষ পর্যন্ত বিরামপুরে এসে যেন একটি বিশ্রামের জন্য আশ্রয় গ্রহণ করে৷
ড্রাইভার মেকানিক খুঁজে পাওয়ার পর আমরা নেমে আসি মাটির ধরাধামে৷ নেমে টের পাই, শীত কাটার তীব্রতা৷ এতক্ষণ হালকা শার্ট প্যান্টে বেশ ছিলাম গাড়ির ভিতরে৷ কিন্তু দিনাজপুর আর ঢাকা যে এক নয় তা বিশেষভাবে জানান দিলো বিরামপুরের রাজপথ৷ শীতের হুল ঠেকাতে অতঃপর আমরা শীতবস্ত্র সন্ধানে ব্যাগের চেইনে হাত রাখি৷

হালকা শীতে ভারি জ্যাকেট গায়ে চাপানোর পর এবার চায়ের তৃষ্ণা হা করে এগিয়ে চলে পশ্চিম পানে৷ সেখানে দক্ষিণ থেকে উচেছদ হাওয়া একটি হোটেল অস্থায়ী আস্তানা গেড়েছে সবেমাত্র৷ তবে পূর্ব অবস্থায় নয়, নেহায়েত কিছু মালপত্র একটা তক্তপোশে সাজিয়ে বসেছে দোকানি৷ এহেন অবস্থায় স্থায়ীভাবে অগ্নিদেবকে স্থাপন করা সম্ভব নয়, সম্ভবত অন্য উৎস থেকে আগুন ধার করে লাল চায়ের ব্যবস্থা রেখেছেন একটি কালো ফ্ল্যাস্কে৷ নুন ঝাল মিষ্টির মিশ্রণ নামক চায়ের গ্লাসে মুখ রেখে আপাতত আমরা শীতের সাথে সম্মুখ সমরের আয়োজন করি৷

একদিকে চকচকে মাইক্রোবাস আর অন্যদিকে একদল নারী-পুরুষের ভাঙাহাটের চায়ের গ্লাসে হুমড়ি খেয়ে পড়া দেখেই সম্ভবত আশপাশে একটা ছোটখাটো কাফেলা জমে যায়৷ কেউ কেউ আমাদের উৎস, গন্তব্য ইত্যাদি জানতে উৎসাহী হয়৷ আমরা উৎসাহী হই এখানকার অবস্থা, বিশেষ করে রাস্তার পাশে বিধবস্ত ইটকাঠ সম্পর্কে৷

এগুলো সবই অবৈধ স্থাপনা৷ নির্মাণ করেছিলো জনপদের সরকারি জমিতে৷ দীন-দরিদ্র সাধারণ মানুষ কেউ ইটকাঠের এসব স্থাপনার মালিক হয়নি৷ বরং সমাজের উচচবিত্ত, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরাই প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কিংবা প্রশাসনকে প্রভাবিত করে এসব স্থাপনার মালিক হয়েছিলো৷ বছরের পর বছর ধরে পকেটস্থ করেছে হাজার লাখ কোটি টাকার সম্পদ৷ জরুরি অবস্থায় ততোধিক জরুরিভাবে অবৈধ স্থাপনা নির্মূল করতে মাঠে নেমেছে যৌথ বাহিনী৷ এতে স্বভাবতই উৎফুল্ল সাধারণ মানুষ, যাদের নাকের ডগায় ডাণ্ডা ঘুরিয়ে এতদিন ক্ষমতায় দাপট দেখিয়ে গেছে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া আদম সন্তানের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা৷ তথ্য আদান-প্রদানের কাফেলায় একজন মধ্যবয়স্ক নারী বেশ অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে চলেছিলেন অনেকক্ষণ ধরে৷ অধিকাংশ কথা তিনিই বলছিলেন৷

নূরুন্নাহার বেগম নিজেও তার বসতবাড়ি হারিয়েছেন৷ বসতবাড়ি অবশ্য তেমন কিছু নয়৷ সামান্য একচালা৷ কয়েকটা টিন উপরে, চারপাশে বাঁশের আবরণ৷ এগুলো তিনি সরিয়ে নিয়েছেন পেছনের একটি আবাদহীন জমিতে৷ তেমন কোনো অসুবিধা হচেছ না এই দুর্দিনেও৷ শুধু বৃষ্টি বাতাস হলে রাতের ঘুম হারাম করে বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না৷ গরিবের কপালে সুখ আর জুটেছে কবে, মহিলা হলে তো কথাই নেই৷

নূরন্নাহার নারী হলেও এই পুরুষ প্রাধান্যের সমাজে কিন্তু নিজেই আয়-রোজগার করে থাকেন৷ একটি সংস্থা থেকে কিছু টাকা ধার হিসেবে নিয়ে একটা পুকুর লিজ নিয়েছেন৷ সেখানে মাছের চাষ করেছেন৷ স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে সেই মাছ পরিচর্যা করে থাকেন৷ সেই আয় থেকে সপ্তাহে কিস্তি শোধ করে এসেছেন নিয়মিত৷ এর মধ্যেই একটি দুর্ঘটনা ঘটে যায় নূরুনাহারের সংসারে৷ আরো লাভের আশায় অন্য একটি এনজিও থেকেও তিনি দশ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন৷ কিন্তু সেই অর্থ চুরি হয়ে যায় ঘর থেকে৷

ভাঙাভাঙির ডামাডোলের বেশ আগে পাশের বাড়িতে আবগারি বিভাগের উদ্যোগে তল্লাশি হয়ে যায়৷ মাঝে মাঝেই এমন তল্লাশি হয় এই এলাকায়৷ সে সময়ে তার ঘরেও ঢুকে পড়ে আবগারির লোকজন৷ তারপর থেকে তিনি আর ধার করা লোকজনের হাতে পায়ে ধরেও কোনো কাজ হয়নি৷ আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে কোনো লাভ হয়নি৷ সংশ্লিষ্ট এনজিওর কাছে ধরনা দিয়ে কোনো ফল পাওয়া যায়নি৷ অতঃপর নিরুপায় হয়ে সপ্তাহে সপ্তাহে দুইশত সত্তর টাকা করে কিস্তি দিয়ে যেতেই হচেছ নূরুন্নাহারকে৷ এই অহেতুক টাকা দেয়ার পালা চলেছে আট মাস এবং চলবে আরো চার মাস৷ তাতে অবশ্য ক্ষোভ নেই নূরন্ন্‌হাারের৷ টাকা তো হারিয়েছে তার ঘর থেকে, অতএব কাফফারা গুনতে হবে তাকেই৷ এতে আর ওই এনজিও দায় কোথায়? এই সপ্তাহে অবশ্য তাকে কোনো কিস্তি দিতে হয়নি৷ সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মীটি এসেছিলো গতকাল৷ ভাঙচুরা বসতভিটা দেখে চুকচুক সহানুভূতি জানিয়ে চলে গেছে, কিস্তি চাওয়ার সাহস হয়নি৷ নূরুন্নাহারের ভাষায়, তারাও তো মানুষ, তাদের প্রাণেও তো দয়ামায়া বলে জিনিস আছে৷ এই বিপদের দিনে সাহায্য না করুক, কিস্তি তো আর চাইতে পারে না৷

আমাদের দলের কৌতূহলী সমস্যা মুশফিকা এবার নূরন্নাহারের আরো গভীরে প্রবেশ করে৷ তার পরিবারে কে কে আছে, তাদের অবস্থান এখন কোথায়- এসব অন্তরঙ্গ আলাপে মশগুল হয়ে পড়ে তারা দু’জন৷ যদিও আরও কিছু নারী-পুরুষ তাদের কথার সঙ্গে লেপ্টে থাকে ঢাকের সঙ্গী ঢোল হয়ে৷ নূরুন্নাহারের বড় মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে বেশ আগে৷ তারা এই এলাকায় গ্রামে ঘর- গেরস্থালি নিয়ে সুখেই আছে৷ ছেলে আছে একটা, ভ্যান চালায়৷ তারও বিয়ে হয়েছে৷ তবে সে বাবা- মায়ের সঙ্গে থাকে না৷ পাশের গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই নিয়েছে৷ তাতে অবশ্য নূরুন্নাহারের কোনো আক্ষেপ নেই৷ যার যার সুখ, তার তার৷ এর মধ্যে সে কেন ভাগ বসাতে যাবে৷ গায়ে-গতরে যখন এখনো শক্তি আছে, অর্থ রোজগারের যখন উৎস আছে, আয় - রোজগারের পথ যখন জানা আছে; তখন কেন সে অন্যের ঘাড়ে গিয়ে বোঝা হয়ে থাকবে৷ এমনকি এই ভাঙাভাঙির দিনেও সে ছেলে কিংবা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে উঠতে চায় না৷ এর পেছনে অবশ্য অন্য একটি কারণের উল্লেখও করলো নূরুন্নাহার৷ এনজিও থেকে যারা টাকা ধার নেয়, তাদের ওপর একটি অলিখিত নির্দেশ জারি করা থাকে; তারা কেউ এলাকা ছেড়ে যেতে পারে না৷ বাড়িঘর হারিয়েও নূরুন্নাহারের মতো অনেক ঋণগ্রহীতা এখনো বিরামপুরকে অাঁকড়ে ধরে পড়ে আছে৷ তাছাড়া, ক্ষীণ একটি আশাও জেগে আছে তাদের মনে, যদি কোনোদিন সরকার উচেছদ হওয়া গরিব মানুষগুলোর কথা ভাবে, তাদের জন্য কিছু রিলিফ কিংবা বাসস্থানের ব্যবস্থা করে- তাহলে তো এলাকা ছাড়া হলে চলবে না৷ এখানে থেকেই তো সরকারি সহায়তা গ্রহণ করতে হবে৷
দ্বিতীয়বার চা খাওয়ার সময় নূরুন্নাহারের হাতে একটি বিস্কুটের প্যাকেট তুলে দেয় মুশফিকা৷ ছোঁ মেরে দামি বিস্কুট প্যাকেটটি হাতে নিয়ে ত্বরিত গতিতে ডুকিয়ে দেন তিন অাঁচলের নিচে৷ এতক্ষণ তার মুখে ভারি কথা শুনতে শুনতে আমার মনে হয়েছিলো, বিস্কুটগুলো বোধহয় তিনি নিতে চাইবেন না৷ কিন্তু সন্ধ্যার আধো অন্ধকারের মধ্যে তার চোখে একটি লোভের হলুদ আলো মিট মিট করতে দেখে আমি কিছুটা হতাশই হলাম বলা চলে৷ পাশে দাঁড়ানো বাচচাদের হাতেও মুশফিকা বিস্কুট আর আপেল তুলে দেয়৷ এসব দানখয়রাত করতে দেখে ভিড় আর একটু ভারি হয়৷ একটি অর্ধ উলঙ্গ শিশু কিছুই পায়নি দেখে নূরুন্নাহারকে মুশফিকা অনুরোধ করে শিশুটিকে কিছু দেয়ার জন্য৷ নিতান্ত অনিচছা সত্ত্বেও তিনি শিশুটির হাতে অাঁচলের নিচ থেকে খুঁজে পেতে একটি বিস্কুট বাড়িয়ে দেন৷ অথচ তার হাতে তখনো আস্ত একটা প্যাকেট, কমপক্ষে পনের বিশটি বিস্কুট থাকার কথা৷

পত্রিকায় তাকে নিয়ে কিছু লেখার কথা মাথায় আসতেই আমরা তার একটি ছবি তোলার কথা ভাবতে থাকি৷ গাড়ি থেকে ক্যামেরা এনে তার দিকে তাক করতেই এতক্ষণ ধরে অন্তরঙ্গ পরিবেশ কথা বলা নূরুন্নাহারের চেহারা যেন কোথায় হারিয়ে যায়৷ দুই হাত নেড়ে নাক-মুখ ফুলিয়ে ফটো তোলায তার তীব্র আপত্তির কথা জানিয়ে দেন স্পষ্ট করে৷ আমার ছবি কেন তুলবেন, ছবি দিয়ে কী করবেন, আপনারা ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা তাক করেছেন, অথচ আমার অনুমতি নিলেন না- এ কেমন কথা৷

আমাদের দলটি সম্ভবত এমন ধরনের আচরণ আশা করেনি নূরুন্নাহারের কাছ থেকে৷ গ্রামের একজন সাধারণ নারী ছবি তোলায় প্রস্তাবে সানন্দে রাজি হয়ে যাবে- এমনটাই আমরা আশা করি৷ অথচ আমাদের সমাজেই কিনা সাধারণ এই নারীটি একজন সচেতন নাগরিকের মতো অনুমতি নেয়ার প্রশ্ন উত্থাপন করে বসলেন৷

আমি অবশ্য মনে মনে খুশিই হলাম৷ একজন গ্রামের নারী এতটা অগ্রসর হয়েছে? এই আত্মসম্মানবোধ, আত্মমর্যাদার চেতনা, নাগরিক অধিকারের বোধ কীভাবে জাগরূক হলো তার মধ্যে? এসব কি ঋণদানকারী সংস্থাটির প্রদত্ত শিক্ষা, নাকি সমগ্র সমাজের প্রতিফলন? যেভাবে হোক, মনে মনে আমি উৎফুল্ল হয়ে উঠলাম৷ যাক, তাহলে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে৷ গ্রামের একজন অক্ষরজ্ঞানহীন মহিলা যখন আধুনিক নারী হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে তখন আর ভাবনা কি!

ইতোমধ্যে আমাদের দলটির অনুরোধ-উপরোধ সম্ভবত নূরুন্নাহারের মন কিছুটা নরম হয়েছে৷ তিনি ছবি তুলতে দিতে রাজি হলেন৷ তবে শর্ত একটাই, তার স্বামীর অনুমতি নিতে হবে৷ কেন, কেন? আমাদের সমবেত প্রশ্নে তার জবাব, স্বামীর অনুমতি ছাড়া আমি কিছু করতে পারি না, কিছুই করি না৷

এতক্ষণ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ভেঙে বেরিয়ে আসার যে সম্ভাবনার অগ্রগতি আমরা দেখতে পেয়েছিলাম নূরুন্নাহারের মধ্যে, তা যেন ভেঙে খান খান হয়ে যেতে শুরু করে কয়েক মুহূর্তের গুটি কয়েক শব্দাবলির মধ্য দিয়ে৷ আমাদের মুখে আর কোনো শব্দ উচচারণ হলো না৷ দ্বিতীয়বার চা শেষ করে কাপ ফিরিয়ে দিলাম দোকানির কাছে৷ মাঝ বয়সী দোকানি বোধহয় আমাদের মনের অবস্থা বুঝতে পারলেন৷ অতঃপর তিনি সক্রিয়ভাবে নেমে এলেন ময়দানে৷ নূরুন্নাহারকে উঁচু গলায় ছবি তুলতে যাওয়ার জন্য আদেশ নিলেন৷ যা, যা, সাহেবদের কথামতো ছবি তুলে দে৷ যা, এক্ষুণি যা৷

এবার কাজ হলো৷ মুশফিকাকে সঙ্গে নিয়ে নূরুন্নাহার এগিয়ে গেলেন যৌথ বাহিনীর তৎপরতায় ভেঙে যাওয়া অবৈধ স্থাপনার দিকে৷ কিন্তু বড়লোকের ভগ্ন তৈরি স্তূপের পাশে ছবি তুলতে রাজি হলেন না তিনি৷ বরং তার নিজের ভাঙা চুলার কাছে টেনে নিয়ে গেলে আমাদের দলটিকে৷ বড়লোকের ছায়ায় নয়, নিজের বিরান উনুনের সামনে উবু হয়ে বসে হাসতে হাসতে ছবি তুলতেই তিনি বেশি স্বাচছন্দ্যবোধ করলেন৷ এটা কার জয় আর কার পরাজয় কিংবা কার হাসি আর কার কান্না- তা মেলানো সম্ভবত তেমন সহজ বলে মনে হলো না আমাদের কারো কাছে৷
 

 

 

     

National Girl Child Advocacy Forum

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net