General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

সম্পাদকীয়

নারী নির্যাতনের স্বরূপ ও আমাদের বিবেক

যে কথা যায় না বলা

আলোকিত আরতি
আসমা ও তার নারী কল্যাণ সংস্থা
আঁধারে আশার প্রদীপ
আত্মবিশ্বাসী দোলনা
আনোয়ারার সংগ্রাম চলছে
এলাচি কথন
এক নিরলস নারী সংগঠক
এক স্বাবলম্বী নারীর একান্ত কথা
এখন তিনি এলাকার সফল নেত্রী
কিশোরগঞ্জের শিখা: এক লড়াকু সংগ্রামী
জীবন সংগ্রামে জয়ী জাহানারা
জেসমিনের স্বপ্ন: আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ
দৃঢ় প্রত্যয়ী নাসিমা
রামুর নারী উন্নয়নের প্রতীক
লুৎফা: এক অনুপ্রেরণার নাম
সাজেদা মেম্বার হতে চায়
সাঈদা: অসহায় মানুষের পাশে
সব বাধাই হার মানলো
সাহস করেই স্বপ্ন দেখি
বাঘিয়ার বাহারজান
নকশিকাঁথা: জীবনের রঙিন ফোঁড়

ইভানের কথা

 

রামুর নারী উন্নয়নের প্রতীক
আবু মুস্তাফিজ

 

রামুর মেয়ে দিলরুবা৷ কখনো কখনো ঝর্ণার মত চঞ্চল হলেও দিলরুবা ভাবেন বেশির ভাগ সময়ই রামুর নয়নাভিরাম ছোট ছোট টিলার মতোই ভাবগম্ভীর৷ শৈশব থেকেই কী যেন ভাবেন মেয়েটা৷ সমাজ, সংসার, পৃথিবী, মানুষ তার সব সময়ের ভাবনা৷ আর তখন থেকেই অন্যের দুঃখে দুঃখী আর অন্যের সুখে সুখী হওয়াটা দিলরুবার স্বভাবজাত৷ যে কারণে যে বয়সে সমাজের আর দশটা মেয়ে ঘর সংসারের স্বপ্ন বোনে, সে সময় দিলরুবার ভাবনা নারীর মুক্তি, তার ক্ষমতায়ন, তার আত্মনির্ভরশীলতা, মা ও শিশুর সুস্থ জীবন৷ সর্বোপরি মানুষের উন্নত জীবন৷ তবে দিলরুবার ভাবনা কোনো স্বপ্নবিলাসীর মতো শুধু ভাবনাতেই আটকে থাকেনি৷ ভাবনার সাথে যোগ হয়েছে কর্মেরও৷

অবশ্য তার আগে দিলরুবাকে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেকটা পথ৷ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তাকে নিতে হয়েছে সমাজকর্মের হাতেখড়ি৷ স্থানীয় নাদেরুন্নেছা উচচ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করার পর দিলরুবা ভর্তি হন রামু ডিগ্রি কলেজে৷ ২০০৭ সালে যথারীতি তিনি এইচএসসি পাশ করেন৷ এরই মধ্যে তার সাথে পরিচয় ঘটে কক্সবাজার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক রফিকুল ইসলামের৷ যার আমন্ত্রণেই দিলরুবা ২০০৭ সালের আগস্ট মাসে ১২২১তম উজ্জীবক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ দিলরুবার জন্য যা ছিল সত্যিই অভিনব৷ এ যেন অন্য এক জগৎ৷ যেখানে সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ একটি সুখী সমৃদ্ধশালী আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ায়৷ দিলরুবা নিজেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন৷ এই প্রশিক্ষণেই তিনি পরিষ্কার ধারণা পান নারীর ক্ষমতায়ন, নারী নির্যাতন ও যৌতুক প্রতিরোধ, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসহ নানা বিষয়ে৷

এরপরই মূলত দিলরুবার সেই ভাবনাগুলো বাস্তবতার দেখা পায়৷ তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেন সমাজকর্মের৷ দিলরুবার এমন ইচছায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি তার পরিবার৷ বরং সহযোগিতার হাত বাড়িয়েই এগিয়ে এসেছে৷ কারণ দিলরুবার বাবা মোজাম্মেল হক নিজেও একজন সমাজকর্মী৷ যে কারণে দিলরুবার কোনো কষ্ট হয়নি নিজের বাড়িটাকে কর্মস্থল হিসাবে ব্যবহারের৷ রামু পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহযোগিতা নিয়ে দিলরুবা শুরু করে দেন তার সমাজসেবা৷ প্রথমেই গ্রামের গর্ভবতী মা এবং শিশুদের প্রতি নজর দেন তিনি৷ কারণ তিনি খুব ভালো করেই জানেন গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে সুস্থ শিশুর জন্মদান সম্ভব নয়৷ আর সুস্থ শিশুর জন্ম সম্ভব না হলে এবং শিশু মৃত্যুরোধ করা না গেলে দেশের উন্নয়নও অসম্ভব৷ তাই সঠিক সময়ে প্রতিটি শিশুকে টিকা দিতে তিনি গ্রামের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালান৷ বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশু এবং শিশুর মায়েদের ও ডেকে ডেকে টিকা কেন্দ্রে পাঠান৷ গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন জটিলতা এড়াতে পরামর্শ দেন তিনি৷ এজন্য প্রতিমাসে অন্তত একবার নিজ বাড়িতে এসব মায়েদের নিয়ে বৈঠকের আযোজন করেন তিনি৷

একই সাথে তিনি নজর দেন গ্রামের কিশোর কিশোরীদের প্রতি৷ কারণ দিলরুবা তার নিজের জীবন দিয়েই বুঝতে পেরেছেন, অল্প বয়সী এসব কিশোর-কিশোরীদের মনের ব্যথা৷ এরা না পরিণত মানুষ না অপরিণত৷ ফলে ঝামেলাটা বাঁধে ওখানেই৷ কেউ তাদের শিশু মনে করে, আবার কেউ ভাবে বয়স্ক মানুষ৷ এসব দেখে প্রতিটি কিশোর-কিশোরীরই মুষড়ে পড়া স্বাভাবিক৷ কারণ কেউ তাদের সাথে সঠিক আচরণটি প্রায় সময়ই করে না৷ উপরন্তু তাদের শারীরিক পরিবর্তনগুলোও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাদের নিজেদের কাছেই৷ বিশেষ করে কিশোরীদের৷ যে ব্যাপারগুলো দিলরুবার খুব ভালোভাবেই জানা৷ তাই বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তন বিষয়ে এসব কিশোরীদের সচেতন করে তোলার পাশাপাশি তাদের ৫টি বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেন তিনি৷ ফলে দিলরুবার গ্রাম পানিরছড়া তো বটেই আশপাশের গ্রামের মা, শিশু ও কিশোরীরা বিশেষভাবে উপকৃত হচেছন৷

দিলরুবা খুব ভালো করেই জানেন, একটি নির্ভর গ্রামের প্রধান শর্তই তার আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা৷ যেজন্য তিনি গ্রামের স্যানিটেশন ব্যবস্থাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন৷ গ্রামের ১২৫টি পরিবারের মধ্যে বর্তমানে অন্তত ৩০টি পরিবার স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করছে৷ সংখ্যাটি প্রতিদিনই বেড়েই চলছে৷ তবে দিলরুবার বিশ্বাস, চলতি বছরের মধ্যেই গ্রামের সমস্ত মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হবেন৷

এছাড়া যৌতুক আর বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও দিলরুবার প্রচারণা থেমে নেই৷ এরই মধ্যে তিনি গ্রামে এ বিষয়ে চারটি সভা সফলভাবে শেষ করেছেন৷ যেখানে গ্রামের নারী ও কিশোরীদের তিনি এর কুফল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন৷ এবং এসব রোধের কর্মপদ্ধতিও আলোচনা করেছেন৷ এছাড়া যুববান্ধব কর্নার ক্লাবের মাধ্যমে তিনি গ্রামের কিশোর-কিশোরীদের সচেতন করে তুলছেন৷ এজন্য তিনি মাসে অন্তত ২টি করে ক্লাস নিচেছন৷ যেখানে তিনি ১২ জন ছেলে এবং ১২ জন মেয়েকে বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক যে পরিবর্তনগুলো ঘটে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিচেছন৷

পুরো রামুকে আরও সুন্দর আরও সবুজ করার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই৷ দিলরুবা সেখানেও পিছিয়ে নেই৷ এরই মধ্যে তিনি ৩০০টি চারাগাছ লাগিয়েছেন৷ এত কিছুর পরও দিলরুবার স্বপ্ন কিন্তু একজন ভালো প্যারামেডিক হওয়া৷ আর একজন ভালো প্যারামেডিক হওয়ার মাধ্যমেই দিলরুবা পেতে চান গর্ভবতী মা ও শিশুর পরম বন্ধুতা৷ আর এভাবেই রামুর মতো একটি প্রত্যন্ত এলাকায় দিলরুবা এগিয়ে চলেছেন সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্যে৷ তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচছা থাকলে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখা সম্ভব৷ দিলরুবা উপলদ্ধি করেছেন, কিশোর-কিশোরী ও নারীদের উন্নয়নই একদিন ব্যাপক সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করবে৷

 

 
 

National Girl Child Advocacy Forum

 

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net