| Main Links |
| |
|
standing Committee of Forum |
| |
|
নারীর কথা-৪ |
|
|
|
|
এক স্বাবলম্বী নারীর একান্ত কথা
মাজেদুল ইসলাম |
|
|
আমার নাম মর্জিয়া আক্তার রুনা৷ আমার
বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ পৌরসভার আয়লা গ্রামে৷ করিমগঞ্জ
উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের সিংগুয়া গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে
আমার জন্ম৷ তিন ভাই, তিন বোনের মধ্যে আমি দ্বিতীয়৷ আমার শৈশব
কেটেছে অনাবিল আনন্দে৷ বন্ধুদের সাথে খেলেছি, গাছে চড়েছি, বরই
পেরেছি- কত আনন্দের ছিল সেই দিনগুলি৷ আমি এখনও একাকিত্বে আমার
শৈশব, কৈশোরকে আলিঙ্গন করি৷ আমার ভালো লাগে৷ ১৯৯৩ সালে
মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচচ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিলাম৷
যৌবনের উচছলতায় ভেসে উচচ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলাম৷
আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারে একবার অকৃতকার্য হলে দ্বিতীয়বার
সুযোগ পাওয়া কঠিন৷ আমার উকিল হবার স্বপ্নের মৃত্যু হলো৷ তবে আমি
ব্র্যাক পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে তাদের একটি
স্কুলে শিক্ষকতার দায়িত্ব নিলাম৷ টানা তিন বছর কাজ করলাম৷
পারিবারিক সিদ্ধান্তে ১৯৯৯ সালে কুড়ি হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে
আমার বিয়ে দেয়া হলো বাবার বাড়ির পার্শ্ববর্তী আয়লা গ্রামে৷
স্বামীর ছয় ভাই তিন বোনের বড় সংসার৷ সংসারে দারিদ্র সব সময়ের
সঙ্গী৷ বিয়ের পর স্বামী আমাকে বলল, ‘তুমি সুখ পাবে এমন কিছু এই
সংসারে নেই৷ এই সংসারটিকে তুমি তোমার মনের মত করে সাজিয়ে নাও৷
আমার যদি সহযোগিতার দরকার হয়, আমাকে বলবে৷’ বলে রাখছি, আমার
স্বামী আল আমিন, রাজশাহী শহরে ২৭ বছর ধরে একটি দোকানে মাসিক
বেতনে চাকরি করে৷ পারিবারিক প্রয়োজনে বা অনুষ্ঠানে কালেভদ্রে
বাড়িতে আসে৷ স্বামীর কথার পর আমার সংসার সাজানোর কাজ শুরু হলো৷
অল্প দিনের মধ্যেই আমার শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ সবাই আমাকে
আপন করে নিল৷ এটি আমার সংসার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া৷ অল্প
অল্প করে কিছু টাকা জমানো শুরু করলাম৷ স্বামীকে বললাম, ‘আমাকে
একখণ্ড জমির ব্যবস্থা করে দাও৷ আমি শাক-সবজির চাষ করতে চাই’৷
স্বামী আমার চাওয়া পূর্ণ হবে বলে আশ্বাস দিলেন৷ কিছু দিনের
মধ্যেই আমার জমানো টাকা ও কিছু লোন করে প্রথমে ১০ শতক ও পরে ৫
শতক জমি ক্রয় করলাম৷ এই ১৫ শতক জমিকে আমার এবং আমার সংসারের
জন্য ফলবান বৃক্ষে পরিণত করতে দিনরাত পরিশ্রম করতে শুরু করলাম৷
পরিশ্রমের ফল পেলাম৷ ১৫ শতক জমিতে শাক-সবজি আবাদ করে অর্জিত
মুনাফার কিছু অংশ জমিয়ে বাকি টাকা দিয়ে পূর্বের ঋণ পরিশোধ
করলাম৷ সবজি বিক্রি করে প্রায় এক লক্ষ টাকা জমলো৷ এই টাকা,
স্বামীর কাছ থেকে নিলাম চল্লিশ হাজার টাকা এবং কিছু ঋণ নিয়ে আরো
তিন কাঠা জমি ক্রয় করলাম৷
আবার শুরু হলো চাষাবাদ৷ একদিকে সবজি চাষ চলছে, অন্যদিকে বাবার
কাছ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা, ভাইয়ের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা,
মায়ের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা এবং ব্যাংক থেকে ত্রিশ হাজার ঋণ
নিয়ে আরো ১.৫০ কাঠা জমি কিনলাম৷ জমির পরিমাণ বাড়লো, পরিশ্রমের
মাত্রাও বাড়লো৷ একজন নারী হয়েও আমি প্রতিদিন জমিতে পরিশ্রম
করেছি৷ আমার এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রেরণা দিল উজ্জীবক প্রশিক্ষণ৷
২০০৮ সালে আমার বন্ধু উজ্জীবক নীলুর মাধ্যমে জানতে পারলাম
করিমগঞ্জের উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১৩৬৩তম উজ্জীবক প্রশিক্ষণ
অনুষ্ঠিত হবে৷
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করলাম৷
নারীর ক্ষমতায়ন পর্বে আলোচনায় মনে হলো যেন প্রশিক্ষক আমার এগিয়ে
যাওয়ার ঘটনাটিকেই উপস্থাপন করছেন৷ আমি অনুপ্রাণিত হলাম৷ এখন
আমাদের দুজনার মোট সম্পত্তি ৭ কাঠা৷ লিজ নিয়েছি আরো ৩.৫০ কাঠা৷
এখন বৎসরে ‘কু ফসিল’ চাষ করে খরচ বাদে মুনাফা থাকে প্রায়
চল্লিশ হাজার টাকা৷ আমাদের এলাকায় সবজি চাষকে ‘কু ফসিল’ বলে৷
জমিতে আমন ধানের আবাদও করি৷
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলে সকল বলা অপূর্ণ থেকে যাবে৷
আমার মনের গভীরে একটি অনুভূতি সবসময় আমাকে আন্দোলিত করে, তা হলো
আমার মাতৃত্ব৷ আমার দু’টি মেয়ে৷ বড় মেয়ে ইভা, বয়স ছয় বছর এবং
ছোট মেয়ে মোহনা, তিন বছর বয়স৷ আমার সকল স্বপ্ন এখন ইভা এবং
মোহনাকে ঘিরে৷ কল্পনায় দেখি, আমার বড় মেয়ে ডাক্তার হয়েছে এবং
ছোট মেয়ে হয়েছে পুলিশ অফিসার৷
সবার সহযোগিতায় আমার এগিয়ে যাওয়া৷ এখন পারিবারিক যে কোনো
সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিবারে সবাই আমার মতামতের দিকে চেয়ে থাকে৷
পারিপার্শ্বিক কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা আমার গতিপথকে রুদ্ধ
করতে পারে না৷ আর আমি ইতিবাচক দিকগুলিকে তুলে ধরতে ভালোবাসি৷
পুরো পরিবারের ভার এখন আমার উপর৷
|
|
|
|
|
|
National
Girl Child Advocacy Forum |
|
|
Contact Us
3/7 Asad Avenue Mohammodpur,
Dhaka-1207
Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975,
Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net |
|