| Main Links |
| |
|
standing Committee of Forum |
| |
|
Recent |
|
|
|
কন্যাশিশু-৩ |
|
|
সম্পাদকীয়
বিশ্বের দরিদ্রতম জাতি কন্যাজাতি। বিশ্বজুড়েই কন্যাশিশুরা দারিদ্র্যের সাথে জড়িত যত
প্রকারের অন্ধকার, বহুমুখী বঞ্চনা, বৈষম্য, নিপীড়ন, নির্যাতন, অপমান ও অপমৃত্যু
প্রভৃতির শিকার। এসব রূঢ় অবর্ণনীয় বিষয়গুলো কখনো দৃশ্য কখনো অদৃশ্য। বাংলাদেশসহ
তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এই বাস্-বতা আরো রূঢ় আরো করুণ।
দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় তিন কোটি কন্যাশিশু। লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে খাদ্য,
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম, বিবাহ, সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তাসহ প্রায় প্রতিটি
ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তে এই বিশাল জনগোষ্ঠী নানারকম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ফলে
পুষ্টিহীনতা, নিরক্ষরতা, পারিবারিক নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে একটি
পুষ্টিহীন কন্যাশিশু কিশোরী অবস্থায় আর একটি পুষ্টিহীন কন্যাশিশুর জন্ম দিচ্ছে।
এভাবে আমরা অপুষ্টির দুষ্টচক্রে আবর্তিত হচ্ছি। অন্যদিকে এই পুষ্টিহীন কন্যাশিশু
জন্ম দিয়ে যাবতীয় দায়ভার কাঁধে নিয়ে নানা প্রকার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ‘মা’
কন্যাশিশুটি। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এক হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে
নারীদের গড় বিবাহের বয়স ১৬ দশমিক ৯ বছর। বিবাহিত এই নারীদের ৬০ ভাগ ১৯ বছর বয়সের
পূর্বেই প্রথম সন্-ানের মা হয়। অপরিণত বয়সে গর্ভ ধারণ এবং প্রসব করা এ সকল শিশুর
প্রায় ৮০ ভাগ অপুষ্ট, যার একটি বড় অংশ অকালেই ঝরে পড়ে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের বেশ কিছু অনুচ্ছেদে কন্যাশিশুর অধিকার ও তার
প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন না করার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। তন্মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০-এ জাতীয়
জীবনে মহিলাদের অংশগ্রহণ, ১১-তে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা, ১৫-তে অন্ন, বস্ত্র,
আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবন ধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা, ১৭-তে
বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান, ১৯-এ সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের
সমতা নিশ্চিতকরণ, ২৭-এ আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ২৮-এ নারী-পুরুষ ভেদে বৈষম্য না করা ও
নারী-পুরুষের সমানাধিকার (বিনোদন ও শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রেও) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
এমনকি অনুচ্ছেদ ২৮/৪-এ বলা হযেছে, ‘নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন
অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই
রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।’
সংবিধানের এ সকল অনুচ্ছেদ ও বাস্-বতার মধ্যে অনেক ফারাক রয়েছে। সংবিধানে শিশু ও
নারীদের এগিয়ে নেয়ার যে গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে বাস্-বে কন্যাশিশু ও নারীর ক্ষেত্রে
ঘটছে এর উল্টো। তারা ব্যাপকভাবে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার। কন্যাশিশুদের অধিকার
নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা ও পদক্ষেপ
গ্রহণ করতে হবে। কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গীর অবসান ঘটাতে হবে। শিক্ষা
লাভের ক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, সমাজের মোট
জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক অংশকে বঞ্চিত রেখে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমাজের
সৌন্দর্য বিকাশে নারী-পুরুষ সকলের অংশগ্রহণ একান্- জরুরি। বিশেষ করে নারীদের
ক্ষেত্রে আরো বেশি জরুরি। কেননা, একজন পুরুষ শিক্ষিত হলে কেবলমাত্র তিনি নিজেই
শিক্ষিত হন, অন্যদিকে একজন মহিলা শিক্ষিত হলে গোটা পরিবার শিক্ষিত হয়।
বাংলাদেশের কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান
এখন সোচ্চার। তারা শুধু কন্যাশিশু দিবস পালন নয়, সারা বছর কন্যাশিশুদের অধিকার
প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে ‘জাতীয় কন্যাশিশু
এডভোকেসি ফোরাম’। প্রতি বছর সরকারি ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয়
কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবটি পালন করে আসছে। দিবসটি
উপলক্ষে ফোরামের আয়োজনে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কণ ও রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক,র্ যালি
প্রভৃতি অনুষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিজস্বভাবে
‘কন্যাশিশু’ শিরোনামে একটি বিশেষ সংকলন প্রকাশ করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘জাতীয়
কন্যাশিশু দিবস-২০০৭’ উদ্যাপন উপলক্ষে ফোরামের উদ্যোগে ‘কন্যাশিশু - ৩’ সংকলনটি
প্রকাশিত হল। সংকলনে মোট পঁচিশটি নিবন্ধ রয়েছে। পূর্বের ন্যায় এবারও নিবন্ধসমূহ
লেখকের নামের বর্ণানুক্রমে সাজানো হয়েছে।
সংকলনটির জন্য নিবন্ধ সংগ্রহ, কম্পিউটার কম্পোজ, প্রুফ-রিডিং, সংযোজন, সংশোধন,
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সদস্য ও কার্য-নির্বাহি কমিটির তালিকা প্রস্তুত
প্রক্রিয়ার সাথে সার্বিকভাবে জড়িত ছিলেন শাকিলা রুমা, মুনিরা সুলতানা মিতু এবং
রোকসানা কনা। কন্যাশিশুদের জন্য একটি সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় যেসকল লেখক তাদের
মূল্যবান নিবন্ধ পাঠিয়ে সংকলনটিকে সমৃদ্ধ করেছেন তাদের সকলকে জানাই আন্-রিক ধন্যবাদ
এবং কৃতজ্ঞতা। এরূপ একটি সংকলন সম্পাদনায় সীমাবদ্ধতা, অসুবিধা ও ত্রুটি থাকা
অস্বাভাবিক নয়। এ সংকলনটিও এর ব্যতিক্রম নয়। ভুল-ত্রুটি ও মুদ্রণপ্রমাদ থাকলে সহৃদয়
পাঠকদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ড. বদিউল আলম মজুমদার
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০০৭ |
|
|
|
|
|
|
|
|
National
Girl Child Advocacy Forum |
|
|
Contact Us
3/7 Asad Avenue Mohammodpur,
Dhaka-1207
Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975,
Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net |
|