General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

সম্পাদকীয়

নারী নির্যাতনের স্বরূপ ও আমাদের বিবেক

যে কথা যায় না বলা

আলোকিত আরতি
আসমা ও তার নারী কল্যাণ সংস্থা
আঁধারে আশার প্রদীপ
আত্মবিশ্বাসী দোলনা
আনোয়ারার সংগ্রাম চলছে
এলাচি কথন
এক নিরলস নারী সংগঠক
এক স্বাবলম্বী নারীর একান্ত কথা
এখন তিনি এলাকার সফল নেত্রী
কিশোরগঞ্জের শিখা: এক লড়াকু সংগ্রামী
জীবন সংগ্রামে জয়ী জাহানারা
জেসমিনের স্বপ্ন: আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ
দৃঢ় প্রত্যয়ী নাসিমা
রামুর নারী উন্নয়নের প্রতীক
লুৎফা: এক অনুপ্রেরণার নাম
সাজেদা মেম্বার হতে চায়
সাঈদা: অসহায় মানুষের পাশে
সব বাধাই হার মানলো
সাহস করেই স্বপ্ন দেখি
বাঘিয়ার বাহারজান
নকশিকাঁথা: জীবনের রঙিন ফোঁড়

ইভানের কথা

 

কিশোরগঞ্জের শিখা: এক লড়াকু সংগ্রামী
জয়ন্ত কর

 

’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ তৎকালীন সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য একটি স্বাধীনভূমির স্বীকৃতি এনে দেয়৷ কিন্তু কতিপয় সুবিধাবাদীদের দখল-বেদখল খেলার কবলে পরে অনেক দুর্ভাগ্যবানরা হয়ে পড়ে ভূমিহীন৷ যুদ্ধের বিশৃঙখলায় পরে তাদের অনেককেই উচেছদ হতে হয় প্রিয় পূর্ব-পুরুষদের ভিটা থেকে৷ এমনই এক ভাগ্যহত পরিবারের সন্তান শিখা৷

শিখা রানী দেবী৷ পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের নিশ্চিতপুর গ্রামে৷ যুদ্ধে উচেছদ হয়ে যাওয়া শিখার দিশাহারা পরিবার শহরের রথখোলা এলাকায় একটি স্যাঁতস্যাঁতে মাটির ছোট্টঘর ভাড়া নিয়ে থাকত৷ তখন খেয়ে-না খেয়ে কোনোরকমে মানবেতর জীবনযাপন করত শিখার পরিবার৷ শিখার জন্ম ১৯৭৭ সালের ১৫ই নভেম্বর রথখোলার সেই মাটির ঘরে৷ বাবা হীরালাল ছিলেন একটি সিনেমা হলের সামান্য কর্মচারী আর মা বাসনা রানী দেবী গৃহিণী৷ দু ভাই দু বোনের মধ্যে শিখা সবার ছোট৷

শিশুকাল থেকেই শিখার আচরণ ছিল পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে অনেকটা ব্যতিক্রমী৷ অভাবের তাড়না, আজ খেলাম তো কাল কী খাব সে দুর্ভাবনায় শিখার বাবা যখন হতাশ হয়ে বলতেন ‘আর মনে হয় পারলাম না’৷ তখন ছোট্ট শিখা ওই বয়সেই বাবাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলত, ‘বাবা আমি আর একটু বড় হই, দেখবে আমাদের আর কোন অভাব থাকবে না’৷

বাবা যেন অবুঝ এই শিশুটির এতটুকু সান্ত্বনাতেও বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা পেতেন৷ তাই পরের দিন অভুক্ত থেকে আবারো ছুটতেন সিনেমা হলের কাজে৷ শিখার মা অনেকটা বাস্তববাদী, বিচক্ষণ এবং স্বাধীনচেতা হওয়ায় এত কষ্টের মধ্যেও ভাইদের পড়াশোনাটা বন্ধ হয়নি৷ তবে যতটুকু খেয়ে শেষ হয় তাতে দু’ ভাইয়ের কেউই পরিবারের হাল ধরার মতো অবস্থায় পৌঁছতে পারেনি৷ টিউশনি করে নিজের জীবনের ন্যূনতম ব্যয়টুকু মেটাতে পারতো শুধু৷

এভাবে চলতে থাকে বেশ কটা বছর৷ শিখা ১৯৯৫ সালে জেলা সরণী বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন৷ শিখার সহপাঠীরা যখন উচচ শিক্ষার জন্য নামি-দামি কলেজে ভর্তির জন্য ব্যস্ত; তখন শিখা গেলেন শহরের গাইটাল এলাকার ব্র্যাক অফিসে৷ উদ্দেশ্য ছোটখাটো কোনো চাকরি জোটে কি-না৷ দরিদ্র পরিবারের শিখা ছিলেন পুষ্টিহীনতার শিকার৷ ফলে বয়স অনুপাতে শারীরিক বৃদ্ধি না ঘটায় দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্র্যাক কর্মকর্তা বললেন, ‘এত ছোট মেয়ে, তুমি এসেছো চাকরি করতে!’ শিখা বাইসাইকেল চালাতে জানতেন৷ কঠোর পরিশ্রম করতেও রাজি আছেন৷ কিন্তু এতসব যুক্তি দেখানোর পরও তাকে ফিরে আসতে হয় শূন্য হাতে৷

অথচ পরিবারের প্রচণ্ড ুঅভাবও আর সহ্য করার মতো নয়৷ তাই মাটির ব্যাংকের সঞ্চয় আর মায়ের অাঁচল থেকে নেওয়া মাত্র ১৫০ টাকা নিয়ে ১৯৯৫ সালে শিখা নিজের বাড়িতেই শুরু করে মশলার ব্যবসা৷ উদ্দেশ্য পড়াশুনা চালানো আর অভাবের বিরুদ্ধে একটু লড়াই করা৷ প্রায় ছয় মাস চলে ব্যবসাটি, পুঁজি দাঁড়ায় ১০-১২ হাজার টাকা৷ মায়ের নামে নাম দেয়া হয় ‘বাসনা মসলা’৷ কিন্তু এক রাতে শিখাদের দুর্বল ঘর প্রবল বৃষ্টির ধারা সামলাতে না পারায় ঘরে থাকা সকল মসলা ভিজে যায়৷ এর পরের কয়েক দিন ভালোমতো রোদ না ওঠায় ছত্রাক পরে নষ্ট হয়ে যায় সব মসলা৷ মসলা ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর শিখা নিজ বাড়িতে একটি দেশি মুরগির খামার চালু করেন৷ কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় এক বিরল মুরগির মড়ক দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে নিঃশেষ হয়ে যায় তার ফার্মের সকল মুরগি৷

অদম্য শিখা আবারও শপথ নেন ঘুরে দাঁড়ানোর৷ তাই নতুন আশা নিয়ে চাকরি নেন হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে৷ এবার হয়তো দুঃখ ঘুচবে৷ কিন্তু এখানেও বিধিবাম দু মাস যেতে না যেতেই বোঝা গেল চাকরির নামে তারা যা করছে তা আসলে প্রতারণা৷ পরিবার থেকে এ ধরনের অনৈতিক শিক্ষা না পাওয়ায় প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শিখা এখান থেকেও ফিরে আসেন৷ এবার শিখা অনুভব করতে পারেন তার পিঠটা একেবারেই দেয়ালে ঠেকে আছে; তাই পিছনে যাওয়ার পথ আর কোথায়? তাই তাকে নিতে হয় যাওয়ার শপথ৷ ১৯৯৭ সালের মাঝামাঝি শিখা তার এলাকার নারী ও পুরুষদের সংগঠিত সমিতির মাধ্যমে সঞ্চয় কার্যক্রম শুরু করেন এবং পরবর্তীতে উক্ত সঞ্চয়ের টাকা থেকে দরিদ্র নারী-পুরুষদের নামমাত্র লাভে ঋণ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন৷ জনতা প্রকল্প নামে এ সংগঠনটি সমাজসেবা থেকে নিবন্ধন লাভ করে এবং ধীরে ধীরে গোটা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এর কাজ ছড়িয়ে পড়ে৷

এভাবে শিখাদের পরিবারে যখন একটু পরিবর্তনের হাওয়া লাগতে শুরু করে৷ ঠিক তখন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান শিখার বাবা৷ বাবার হঠাৎ মৃত্যু শিখার কাছে মনে হলো বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো৷ এবার শুরু হলো তার জীবনের আসল সংগ্রাম৷ কারণ তার আপন ভাইয়েরাই হয়ে ওঠলো তার প্রত্যক্ষ শত্রু৷ বাবার মৃত্যুর শোক না ভুলতেই শুরু হলো দুই বৌদিদের মধ্যে সংসারের চাবি দখলের যুদ্ধ৷ ফলে সংসারে শিখার অবস্থানটি হয়ে ওঠলো খড়কুটোর মতো৷ এ অবস্থায় শিখা যেহেতু তাদের প্রতিপক্ষ তাই শুরু হলো তাকে যেনতেন একটি পাত্রের কাছে কোনো রকমে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা৷

এমন অস্থির সময়ের মধ্যেও শিখা ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন৷ এ ঘটনা শিখাকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দেয়৷ শিখা তাই ওই সময় বিয়ে করতে রাজি হতে পারেননি৷ কিন্তু বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তার পরিবার থেকেই নানা ধরনের চাপ আসতে থাকে৷ সে চাপ সামলে এগিয়ে যাওয়া দুরূহ হলেও অসম্ভব হতে পারেনি শিখার জন্য৷ এই যখন অবস্থা তখন শিখার পরিবার অন্য ফন্দি অাঁটে৷ শিখার ভগ্নিপতি এবং তার কিছু বন্ধুবান্ধব মিলে প্রচারণা চালাতে শুরু করে যে, এ ধরনের কাজ কোনো ভালো মেয়ে করে না, শিখা নষ্ট হয়ে গেছে৷ সে পরিবারের মান সম্মান নষ্ট করছে৷ সুতরাং তাকে অবশ্যই তার জনতা প্রকল্প বন্ধ করতে হবে৷

কিন্তু তত দিনে জনতা প্রকল্পের পুঁজির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকায় পৌঁছে গেছে৷ যেখানে ঋণগ্রহীতাদের প্রতি শিখার ছিল অনেক দায়বদ্ধতা৷ কিন্তু এর মধ্যে পরিবারের একমাত্র আপনজন তার মাও একদিন হঠাৎ তাকে ছেড়ে চলে যান৷ ফলে শিখা বাস্তবিকই একা হয়ে পড়েন৷ আর এই সুযোগে তার ভগ্নিপতি শিখার বিরুদ্ধে ৭ লক্ষ টাকা চুরির অভিযোগ এনে সংস্থাটিকে বন্ধ করার জন্য জেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেন৷ কিন্তু শিখা যথাযথ প্রমাণ হাজির করায় এ যাত্রায়ও বেঁচে যান তিনি৷

কিছুতেই যখন কিছু হল না, তখন তার হতোদ্যম ভগ্নিপতি নানান কথার সূত্রধরে শিখার সাথে সরাসরি কলহে জড়িয়ে পড়েন৷ এক্ষেত্রে শিখার দুই ভাইও ভগ্নিপতির পক্ষ নিয়ে শিখাকে বেধড়ক মারধর করে৷ শিখা তখন প্রকৃত অথের্ই বুঝতে পারেন, আপন ভাইয়েরা যেখানে ঘোর শত্রু সেখানে আর কোনোভাবেই থাকা যায় না৷ ওই দিনই শিখা এক কাপড়ে বাড়ি থেকে অজানার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসেন৷ রাস্তায় বের হয়ে ভাবতে থাকেন, এখন তিনি কোথায় যাবেন৷ ভাবনা বেশি দূর অগ্রসর হয় না৷ কারণ শিখার পরিচিত এমন কেউ নেই যে তাকে এই দুঃসময়ে আশ্রয় দিতে পারেন৷ ফলে শহরের গৌরাঙ্গবাজার এলাকায় তার যে এক কামরার অফিসটি ছিল সেখানেই উঠে পড়েন৷ এখানে কোনোরকম একটা মাস পার করেন শিখা৷ তারপর হঠাৎ একদিন তার মনে পড়ে বান্ধবী ববির কথা৷ যাকে তিনিই এক বছর আগে একটা মেস ঠিক করে দিয়েছিলেন৷

শিখা আর দেরি না করে ববির কাছে যায় এবং একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই প্রার্থনা করেন৷ নরসিংদীর মেয়ে ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের অনার্সের ছাত্রী ববির আন্তরিকতায়ই সেদিন শিখার আশ্রয় মিলেছিল৷ এরপর থেকে ববি আর শিখা ওই মেসেই এক সাথে থাকতে শুরু করে৷ কিন্তু ববির থাকা খাওয়া ও পড়ালেখার খরচ তার বাড়ি থেকে আসলেও শিখার তো সে জায়গাটি শূন্য৷ তাই জীবন বাঁচানোর জন্য কিছু একটা করার বিকল্প থাকে না৷ অবশেষে অনেক ভেবে দুই বান্ধবী মিলে মাত্র ১২ হাজার টাকায় ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের সামনে একটি ছোট্ট স্টেশনারি দোকান চালু করেন৷ এক্ষেত্রে মেসের মালিকও তাদের সহযোগিতা করেন৷

এরপর শিখার জীবনে সাফল্যে ছোঁয়া লেগেছে৷ শিখা আর ববির দিন-রাত পরিশ্রমে স্টেশনারী দোকানটি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে পরিণত হয়েছে৷ যার বর্তমান পুঁজির পরিমাণ দেড় লক্ষ টাকারও বেশি৷ জনতা প্রকল্পে কাজ করার সময় একটি ভোজ্য পণ্যের বিপণন ও বিতরণের কাজে শিখা মাত্র ৫০০০ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন৷ শিখার সেই পুঁজি বেড়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা৷ শিখা ২০০৬ সালে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ আয়োজিত ‘প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রম’ শীর্ষক একদিনের কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন৷ এরপর ৬-৮ ডিসেম্বর, ২০০৭ ময়মনসিংহের প্রশিকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের ১৮তম ব্যাচে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ এর পরই মূলত নারীনেত্রী হিসাবে কিশোরগঞ্জে শিখার গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রভাব বাড়তে থাকে৷

সব মিলিয়ে শিখা আজ কিশোরগঞ্জ জেলার নারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি সম্মানজনক আসন গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন৷ এর স্বীকৃতিস্বরূপ অতি সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ জেলার নারী ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন উইমেন চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য হিসেবে তাকে নির্বাচন করা হয়েছে৷ ঢাকার সোনার গাঁ শেরাটন হলে বেশ কয়েকটি জাতীয় উদ্যোক্তা মেলায় শিখা অত্যন্ত সম্মানের সাথে অংশগ্রহণ করেছেন৷ বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও তার সাফল্যের কাহিনী প্রচারিত হয়েছে৷ সর্বোপরি শিখা আজ একজন সফল ব্যবসায়ী৷ পাশাপাশি পড়াশুনাতেও আর ক্ষান্ত নেই৷ ওয়ালি নেওয়াজ খান কলেজের অর্নাস তৃতীয় বর্ষে চলছে তার পড়াশুনা৷

যে আপনজন শিখাকে একদিন বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল, শিখা আর সেখানে ফিরে যেতে চান না৷ পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বর্বর নিষ্ঠুরতা তিনি নিজের জীবন দিয়ে প্রত্যক্ষ করেছেন, এখন তার লড়াই সেই অমানবিকতার বিরুদ্ধে৷ তাই তার আশেপাশে যখন কোনো মেয়ে বিপদগ্রস্ত হয়, তখন নিজের সর্বশক্তি দিয়ে শিখা ঝাঁপিয়ে পড়েন অন্যায়ের বিরুদ্ধে৷ শিখার বন্ধু মাসুদ, কায়েস, শাহেদ এবং এলাকাবাসী বলেন- আমরা পুরুষ হিসেবে সমাজে সুবিধাজনক অবস্থায় থেকে যা পারিনি, শিখা একজন সাধারণ নারী হয়ে তা করে আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন৷ তাই সবার কাছে শিখা আজ উন্নয়নের এক জীবন্ত মডেল৷

 

 
 

National Girl Child Advocacy Forum

 

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net