| Main Links |
| |
|
standing Committee of Forum |
| |
|
নারীর কথা-৪ |
|
|
|
|
এক নিরলস নারী সংগঠক
মো: আবুল বাশার ও
মীর ফরহাদ হোসেন সুমন |
|
|
বিশাল একটি চটের ওপর গোল হয়ে বসে
২৫-৩০ জন নারী গল্প করছেন৷ চেহারা-পোশাকে দারিদ্র্যের ছাপ
থাকলেও তাদের বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হচেছ৷ তাদের অভিব্যক্তিই বলে
দিচেছ, তারা এমন কিছু করছেন- যা নিশ্চিত সাফল্য বয়ে আনবে৷
কথাবার্তা ও তাদের আচরণে মনে হচেছ, তারা শুধু বাহ্যিকভাবে নয়,
অন্তর্গতভাবেও সংগঠিত৷ দূর থেকে তাদের দিকে যে কেউ তাকালে বুঝতে
পারবে- এমনি এমনি তারা বসেননি, নিশ্চয়ই বিশেষ কোনো এজেন্ডা নিয়ে
আলোচনার জন্য তারা জড়ো হয়েছেন৷ তখন বিকেলবেলা৷ এটি ছিল ৩০
জানুয়ারি, ২০০৯ সালে তাদের নিয়মিত আলোচনা সভা৷
লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পিয়ারাপুর
গ্রাম৷ রামগতি রোডের স্বর্ণকারবাড়ি৷ ইউনিয়নের নাম ভবানীগন্জ৷
সীতা রানী কুরী এই গ্রামেরই বাসিন্দা৷ দিনের নির্ধারিত বিষয়
আলোচনায় স্থান পেলো৷ সেদিনের বিষয় ছিলো ‘হাঁস-মুরগির বাচচা
ফোটানো ও তৎপরবর্তী যত্ন’ এবং ‘রাজনীতিতে নারীর অবস্থান ও
করণীয়’৷ অংশগ্রহণমূলক ও প্রাণবন্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে সেদিনের
সভা শেষ হলো৷ সভা শেষে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো পাশের একটি আবাদি
জমিতে৷ জমির পরিমাণ কাঠা দশেক৷ সেখানে সীম ও কফির চাষ হয়েছে৷
ফলনও ভালো৷ কথা বলে জানা গেলো বেশ লাভজনক৷ সবজি চাষে সাফল্যের
পেছনে আছে এই পাক্ষিক সভার অবদান৷ কারণ, এই সভাতে নারীদের
কর্মসংস্থানের জন্য নিজস্ব পুঁজি ও সামর্থে্যর ভিত্তিতে যা যা
করা যায় তার ব্যাপারেও আলোচনা হয়৷ সভায় অংশগ্রহণকারী নারীদের
অনেক সময় সরকারী-বেসরকারি বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে
বীজ ও টেকনিক্যাল সেবা দেয়ারও ব্যবস্থা করা হয়৷
বর্ণিত ঘটনাটি একটি খণ্ডিত চিত্র৷ এর সার্বিক চিত্র ভৌগোলিকভাবে
এমনকি তথ্যগতভাবেও অনেক বড়৷ এসব কাজ যে মানুষটির নিরলস চেষ্টায়
ঘটে চলছে তার নাম সীতা রানী কুরী৷ তার কর্মকাণ্ড দেখার তাগিদ
থেকেই সেদিন আমরা হাজির হয়েছিলাম তার গ্রামে৷ আসুন, আমরা
পরিচিত হই তার সঙ্গে৷
লক্ষ্মীপুর শহরে বসন্ত কুমার কুরী ও শান্তিবালা কুরীর সংসারে
জন্মগ্রহণ করেন সীতা রানী কুরী৷ ১৯৬৭ সালের ১ জানুয়ারি৷ ৮
ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি৷ ‘লক্ষ্মীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়’
ও ‘লক্ষ্মীপুর হাই স্কীম গার্লস স্কুল’ থেকে ১৯৮৩ সালে এসএসসি
পাশ করেন৷ ১৯৮৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হতে পারেননি৷
আনুষ্ঠানিক পড়ালেখার পাঠ এখানেই শেষ করে লক্ষ্মীপুর ত্রিধারা
কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা শুরু করেন৷ ১৯৮৯ সালে লক্ষ্মীপুরে
জীবনবীমা কর্পোরেশনে ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত বিজন
বিহারী ঘোষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন৷ শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে
এবার ঋচঅই তে চাকরি শুরু করেন৷ সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্বান্ত
শ্বশুরবাড়িতে শুরু হয় সীতা আর বিহারীর দাম্পত্য জীবন৷
শ্বশুড়রবাড়িতে পরিবার ছিলো ১৪টি৷ ধ্যান-ধারণা ছিলো মান্ধাতার
আমলের৷ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ওই বাড়ির সনাতন আচার-আচরণে কোনো
ছাপ মেলেনি তখনো৷ সীতার শ্বশুর, ভাসুর, জা ছিলেন শিক্ষক৷ কিন্তু
দৈনন্দিন জীবনাচরণে সেকেলে ভাবনা! জীবনাচার ছিলো এমন যে- বউরা
জুতা পরতে পারবে না৷ চলাফেরাও ছিলো নিয়ন্ত্রিত৷
পাড়া-প্রতিবেশীরা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত থাকতো৷ মেয়েরা শীতকালেও
চাদর পরতে পারতো না-পারিবারিক বিধি-নিষেধের কারণে৷ শ্বশুরালয়ের
এ পরিবেশ সীতাকে কেমন যেন অস্থির করে তুলতো৷ চাপা ক্ষোভ ও
যন্ত্রণা তাকে তাড়িয়ে বেড়াতো৷
কী করে এই বিধি-নিষেধের দেয়াল ভাঙ্গা যায়- এ নিয়ে একদিন কথা
বলেন স্বামী বিজন বিহারী ঘোষের সঙ্গে৷ স্বামী বললেন, ‘তুমি ইচছা
করলে এগুলো পাল্টাতে পারো৷ ঘাটে যখন বাড়ির বউরা সব একত্র হবেন
তখন তুমি তাদের বোঝাবে৷’ কথা মতো কাজ৷ বাড়ির বউরা সবাই যখন ঘাটে
স্নানের জন্য জড়ো হতেন, সীতা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নানা
বিধি-নিষেধ ভাঙার ব্যাপারে উৎসাহ যোগাতেন৷ তারাও সীতার কথামতো
নিজেরা পরিবারের মধ্যে একটা পরিবর্তন আনলেন৷ প্রথম প্রথম
সামান্য সমস্যা হলেও পরে সবই ঠিক হয়ে গিয়েছিল৷
আপনার তৎপরতা বাড়ির বাইরে গেলো কী করে? এ প্রশ্নের জবাব দিতে
গিয়ে সীতা বললেন, ‘আপনার দাদা বললেন, বাড়ির ভেতরে একটা
পরিবর্তন তো হলো, এবার বাড়ির বাইরে একটা পরিবর্তনের দরকার৷’
স্বামীর এই কথা শুনে সীতা ভাবলেন, এই কাজের জন্য শ্বশুরের সঙ্গে
সরাসরি কথা বলা দরকার৷ স্বামী-স্ত্রী পরামর্শ করে শ্বশুরের
সঙ্গে আলাপ করলেন সীতা৷ কথায় কাজও হলো৷ কিন্তু কীভাবে বাড়ির
বাইরের নারীদের সঙ্গে একটা নিয়মিত যোগাযোগ করা যায়৷ যোগাযোগ হলে
কাজের ভিত্তিই বা কী হবে৷ তাছাড়া কী করেই বা নারীদের পরিবর্তন
সূচিত হতে পারে- এরকম নানান চিন্তা থেকে সীতা একটি সংগঠন গড়ে
তোলার চেষ্টা করেন৷ সংগঠন তৈরির পেছনে সীতা যেসব বিষয়কে যুক্তি
হিসেবে দেখতেন তা হলো:
‘পুঁজি গঠন করা দরকার৷ অর্থ থাকলে মেয়েরা নিজেরা অনেক কাজ করতে
পারে৷ অসুখ-বিসুখ হলে অনেক সময় বাড়ির লোকজন চিকিৎসার ব্যাপারে
আগ্রহী হই না৷ সেক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্য থাকলে মেয়েরা
নিজেদের চিকিৎসা করাতে পারবে৷ স্বাবলম্বী নারী মানে সম্মানিত
নারী৷’ অর্থাৎ নারীর অবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর অবস্থান
পরিবর্তনের করেছিলেন সীতা৷ অবশ্য এ জায়গায় আসতে তার সময় লেগেছে
দীর্ঘ ৪ বছর৷ চেষ্টা করে ১৯৯৩ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘পিয়ারাপুর
বিত্তহীন মহিলা উন্নয়ন সমিতি’৷ সদস্য সংগ্রহ করেন ১০৩ জন৷ সবাই
নারী৷ সংগঠনের নারীরা প্রতিমাসে ২২ টাকা করে জমা দেন সীতাকে৷
১৯৯৬ সালে মহিলা অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন নেন৷ বর্তমানে
সমিতির তহবিলে আছে প্রায় দুই লক্ষ টাকা৷
সংগঠনের নারীরা সমিতির জমা টাকা থেকে পুঁজি নিয়ে বাঁশ বেতের
কাজ শুরু করে৷ কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সীতা তাদের
প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিতেন৷ বিপণনের জন্য নিজে বিভিন্ন
জায়গায় গিয়ে কথাবার্তা বলতেন৷ তাছাড়া কেউ কেউ মুড়ি ভেজে বাজারে
বিক্রি করা শুরু করেন৷ এই কাজটি এখনো চালু আছে৷ এভাবে সদস্য
নারীরা স্বনির্ভর হয়ে ওঠার পথ তৈরি করেছেন এবং আগের তুলনায় ভালো
আছেন৷ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিন জন নারী ৫,০০০-১০,০০০ টাকা সমিতি
থেকে ঋণ নিয়ে সেলাই মেশিন ক্রয় করেন৷ বর্তমানে এই তিনজনই
স্বাবলম্বী৷
সীতা এই পর্যায়ে উপলব্ধি করলেন, সংগঠনের নারীদের শিক্ষাদান
দরকার৷ সীতা রানী কুরী, রেফাত শাহীদা ও ফাতেমা- এই তিনজন মিলে
সংগঠনের ১০৩ জন নারীকে লেখাপড়া শেখান৷ তারা সবাই এখন লিখতে-পড়তে
ও হিসাব-নিকাশ করতে পারেন৷ এছাড়াও সংগঠনের মোট পুঁজি থেকে
গরু-ছাগল ক্রয় করে সদস্যদের পালতে দেয়া হয়৷ যা থেকে তারা
লাভবান হচেছন৷
সীতা এভাবে ‘পিয়ারাপুর বিত্তহীন মহিলা উন্নয়ন সমিতি’র নারীদের
আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করেছেন দীর্ঘদিন ধরে৷ কিন্তু
কোথায় যেন একটা গলদ অনুভব করছিলেন৷ নারীরা তো আর্থিকভাবে
লাভবান হচেছ; কিন্তু নারী হিসেবে তার সম্মানতো অর্জন হচেছ না৷
তা-ই নয়, সম্মান যে প্রয়োজনীয় এবং তার জন্য নারীর সক্রিয়তা
দরকার- সেটিও তাদের উপলব্ধিতে আসেনি৷ এই পরিস্থিতি সীতাকে
ভাবিয়ে তোলে৷ তাহলে কি নারীর জন্ম শুধু সংসারে দাসী হিসেবে
থাকার জন্য?
এমন সময় ২০০৭ সালে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উজ্জীবক প্রশিক্ষণ
গ্রহণকারী ও বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সদস্য আফসানা খাতুন রোজীর
কাছ থেকে ‘নারী নেতৃত্ব বিকাশ’ প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ পান সীতা
রানী কুরী৷ ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত ১৬তম
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন তিনি৷ প্রশিক্ষণে অনেক পুরনো
প্রশ্নের সমাধান বের করতে সাহায্য করে সীতাকে৷ তার ভাষায়,
‘প্রশিক্ষণের পর আমি নতুন করে অনেক রাস্তা খুঁজে পেয়েছি৷ ১৩/১৪
বছর ধরে আমি সমাজ পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করে আসছি৷ এই
প্রশিক্ষণটা আগে পেলে আমি অনেকটা বেশি কাজ করতে পারতাম৷ তারপরও
বসে থাকিনি একদিনও৷ আমার চোখের অনেকগুলো পর্দা সরে গেছে৷ আমি
সমাজকে নতুন করে দেখতে পারছি৷ যে জায়গাটিতে আমাদের যাওয়া দরকার
সেটিও আমি দেখতে পাই৷’
এরপর সীতা আর বসে থাকেননি৷ সীতা এবার নারীর মানসিকতা পরিবর্তন
ও সমাজে নারীর বৈষম্যগুলো চিহ্নিত করা ও সেগুলো দূরীকরণের জন্য
নতুন করে কাজ শুরু করেছেন৷ আগের একমুখী কাজকে বহুমাত্রা দেয়ার
ব্রত গ্রহণ করেছেন তিনি৷ ২০০৮ সালেই তিনি মোট ৫টি নারীদের
সংগঠন বা গ্রুপ গঠন করেছেন৷ গড়ে তোলা সংগঠনের ঠিকানা নিম্নরূপ:
|
|
ক্রমিক নং |
সংগঠন গঠনের তারিখ
|
ইউনিয়নের নাম ও ঠিকানা নারী |
সদস্য সংখ্যা |
|
১. |
১০/০৮/০৮ |
ফতেহ আলী হাজীবাড়ি, দক্ষিণ
পিয়ারাপুর
১৭ নং ভবানীগঞ্জ
ইউনিয়ন, সদর লক্ষীপুর |
২৫ জন |
|
২. |
১১/০৮/০৮ |
স্বর্ণকারবাড়ি,
উত্তর পিয়ারাপুর ২৫ জন
১৭নং ভবানীগন্জ ইউনিয়ন, সদর লক্ষ্মীপুর |
২৫ জন |
|
৩. |
৩০/১০/০৮ |
ডা: সোলেমানবাড়ি, পিয়ারাপুর ২৫ জন
১৫নং লাহারকান্দি ইউনিয়ন, সদর লক্ষ্মীপুর
|
২৫ জন |
|
৪. |
২৬/১০/০৮ |
কমর আলী পাটোয়ারীবাড়ি, কুমিদপুর ২৫
জন
১৫নং লাহারকান্দি ইউনিয়ন, সদর লক্ষ্মীপুর |
২৫ জন |
|
৫. |
২৯/১০/০৮ |
কর্মকারবাড়ি, আব্দুল্লাপুর ২৫ জন
১৭নং ভবানীগন্জ ইউনিয়ন, সদর লক্ষ্মীপুর |
২৫ জন |
|
এই গ্রুপগুলোতে ১৫ দিন পর পর একটি
সভা হয়৷ সভাতে আলোচনা করেন সীতা রানী কুরী৷ সীতা গ্রুপের
নারীদের কর্মমুখী হওয়ার জন্য প্রণোদনার দায়িত্ব পালন করেন৷ তিনি
বললেন, নানা ধরনের আয়বৃদ্ধিমূলক কাজ যেমন, হাঁস-মুরগী পালন,
সবজি চাষের ব্যাপারে নারীদের উৎসাহিত করি৷ এসকল কাজে দক্ষতা
বাড়ানোর জন্য মৎস্য অধিদপ্তর ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে
সহযোগিতা নেয়া হয়৷ এছাড়া স্থানীয় এনজিওদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয়
সেবা গ্রহণ করা হয়৷ এর পাশাপাশি ওই নারীদের মানসিকতা
পরিবর্তনের জন্য প্রতি বৈঠকে বাল্যবিবাহ রোধ, নারী নির্যাতন
রোধ, মা ও শিশুর পুষ্টি থেকে শুরু করে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের
প্রশিক্ষণে যে বিষয়টি আমাদের বোঝানো হয়, তা আমি এই সভাগুলোতে
আলোচনা করি৷
এভাবেই গ্রুপগুলোর কাজ সম্পর্কে বিবরণ দিচিছলেন সীতা রানী কুরী৷
এসব কাজের পাশাপাশি তিনি তার নিজ গ্রামে কিংবা আশপাশের গ্রামে
পারিবারিক কোনো কলহের খবর পেলেই সেখানে গিয়ে হাজির হন৷
আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে কলহ দূর করার চেষ্টা করেন এই নারীনেত্রী৷
কথা প্রসঙ্গে বললেন, ‘অমীয়দের (ছদ্ম নাম) বাড়িতে অমীয় প্রায়ই
তার বউকে মারধর করতেন৷ আমি অমীয় ও তার বৌকে নানাভাবে বুঝিয়েছি৷
এখন তারা সুখেই আছেন৷’
এসব কাজের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের
গ্রুপের নারীদের স্বামীরাও খুশি৷ তাছাড়া ওই মেয়েরা কেউ বসে
থাকেন না৷ সংসারের কাজের পাশাপাশি কেউ সবজি চাষ করে, কেউ
হাঁস-মুরগি পালন করেন৷ এসব কারণে তাদের কিছু উপার্জনও হয়৷ এতে
করে সংসারে একটা পরিবর্তন আসছে৷’ ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিষয়ে জানতে
চাইলে সীতা বলেন, যদি আগের ৫টি গ্রুপের কাজে সন্তোষজনক অগ্রগতি
দেখতে পাই, তবে নতুন আরো কয়েকটা গ্রুপ গঠনের কথা ভাববো৷ আর এসব
গ্রুপের কাজের খোঁজ-খবর রাখার মাধ্যমে এই সমাজের একটি ইতিবাচক
অবস্থা তৈরি করাই আমার ভবিষ্যত প্রত্যাশা৷ সংসারের কাজের
পাশাপাশি এই সামাজিক কাজগুলো নিয়ে থাকতে পারলেই আমার জীবনটা
সার্থক বলে জানালেন তিনি৷
গ্রামীণ নারীদের অবস্থা ও অবস্থান পরিবর্তনের জন্য নিরলসভাবে
কাজ করে চলেছেন সীতা৷ যার মধ্যে একটি গ্রুপের একদিনের
কর্মকাণ্ড আমরা শুরুতে বর্ণনা করেছি৷ আসুন আমরাও সীতা রানী
কুরীর মত সামাজিক দায়িত্ব গ্রহণ করি, তাহলেই আমাদের কাঙিক্ষত
সমাজ গড়ে তুলতে পারবো৷
|
|
|
|
|
|
National
Girl Child Advocacy Forum |
|
|
Contact Us
3/7 Asad Avenue Mohammodpur,
Dhaka-1207
Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975,
Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net |
|