General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

সম্পাদকীয়

নারী নির্যাতনের স্বরূপ ও আমাদের বিবেক

যে কথা যায় না বলা

আলোকিত আরতি
আসমা ও তার নারী কল্যাণ সংস্থা
আঁধারে আশার প্রদীপ
আত্মবিশ্বাসী দোলনা
আনোয়ারার সংগ্রাম চলছে
এলাচি কথন
এক নিরলস নারী সংগঠক
এক স্বাবলম্বী নারীর একান্ত কথা
এখন তিনি এলাকার সফল নেত্রী
কিশোরগঞ্জের শিখা: এক লড়াকু সংগ্রামী
জীবন সংগ্রামে জয়ী জাহানারা
জেসমিনের স্বপ্ন: আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ
দৃঢ় প্রত্যয়ী নাসিমা
রামুর নারী উন্নয়নের প্রতীক
লুৎফা: এক অনুপ্রেরণার নাম
সাজেদা মেম্বার হতে চায়
সাঈদা: অসহায় মানুষের পাশে
সব বাধাই হার মানলো
সাহস করেই স্বপ্ন দেখি
বাঘিয়ার বাহারজান
নকশিকাঁথা: জীবনের রঙিন ফোঁড়

ইভানের কথা

 

এক নিরলস নারী সংগঠক
মো: আবুল বাশার ও
মীর ফরহাদ হোসেন সুমন

  বিশাল একটি চটের ওপর গোল হয়ে বসে ২৫-৩০ জন নারী গল্প করছেন৷ চেহারা-পোশাকে দারিদ্র্যের ছাপ থাকলেও তাদের বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হচেছ৷ তাদের অভিব্যক্তিই বলে দিচেছ, তারা এমন কিছু করছেন- যা নিশ্চিত সাফল্য বয়ে আনবে৷ কথাবার্তা ও তাদের আচরণে মনে হচেছ, তারা শুধু বাহ্যিকভাবে নয়, অন্তর্গতভাবেও সংগঠিত৷ দূর থেকে তাদের দিকে যে কেউ তাকালে বুঝতে পারবে- এমনি এমনি তারা বসেননি, নিশ্চয়ই বিশেষ কোনো এজেন্ডা নিয়ে আলোচনার জন্য তারা জড়ো হয়েছেন৷ তখন বিকেলবেলা৷ এটি ছিল ৩০ জানুয়ারি, ২০০৯ সালে তাদের নিয়মিত আলোচনা সভা৷

লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পিয়ারাপুর গ্রাম৷ রামগতি রোডের স্বর্ণকারবাড়ি৷ ইউনিয়নের নাম ভবানীগন্‌জ৷ সীতা রানী কুরী এই গ্রামেরই বাসিন্দা৷ দিনের নির্ধারিত বিষয় আলোচনায় স্থান পেলো৷ সেদিনের বিষয় ছিলো ‘হাঁস-মুরগির বাচচা ফোটানো ও তৎপরবর্তী যত্ন’ এবং ‘রাজনীতিতে নারীর অবস্থান ও করণীয়’৷ অংশগ্রহণমূলক ও প্রাণবন্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে সেদিনের সভা শেষ হলো৷ সভা শেষে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো পাশের একটি আবাদি জমিতে৷ জমির পরিমাণ কাঠা দশেক৷ সেখানে সীম ও কফির চাষ হয়েছে৷ ফলনও ভালো৷ কথা বলে জানা গেলো বেশ লাভজনক৷ সবজি চাষে সাফল্যের পেছনে আছে এই পাক্ষিক সভার অবদান৷ কারণ, এই সভাতে নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য নিজস্ব পুঁজি ও সামর্থে্যর ভিত্তিতে যা যা করা যায় তার ব্যাপারেও আলোচনা হয়৷ সভায় অংশগ্রহণকারী নারীদের অনেক সময় সরকারী-বেসরকারি বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বীজ ও টেকনিক্যাল সেবা দেয়ারও ব্যবস্থা করা হয়৷

বর্ণিত ঘটনাটি একটি খণ্ডিত চিত্র৷ এর সার্বিক চিত্র ভৌগোলিকভাবে এমনকি তথ্যগতভাবেও অনেক বড়৷ এসব কাজ যে মানুষটির নিরলস চেষ্টায় ঘটে চলছে তার নাম সীতা রানী কুরী৷ তার কর্মকাণ্ড দেখার তাগিদ থেকেই সেদিন আমরা হাজির হয়েছিলাম তার গ্রামে৷ আসুন, আমরা পরিচিত হই তার সঙ্গে৷

লক্ষ্মীপুর শহরে বসন্ত কুমার কুরী ও শান্তিবালা কুরীর সংসারে জন্মগ্রহণ করেন সীতা রানী কুরী৷ ১৯৬৭ সালের ১ জানুয়ারি৷ ৮ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি৷ ‘লক্ষ্মীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়’ ও ‘লক্ষ্মীপুর হাই স্কীম গার্লস স্কুল’ থেকে ১৯৮৩ সালে এসএসসি পাশ করেন৷ ১৯৮৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হতে পারেননি৷ আনুষ্ঠানিক পড়ালেখার পাঠ এখানেই শেষ করে লক্ষ্মীপুর ত্রিধারা কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা শুরু করেন৷ ১৯৮৯ সালে লক্ষ্মীপুরে জীবনবীমা কর্পোরেশনে ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত বিজন বিহারী ঘোষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন৷ শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে এবার ঋচঅই তে চাকরি শুরু করেন৷ সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্বান্ত শ্বশুরবাড়িতে শুরু হয় সীতা আর বিহারীর দাম্পত্য জীবন৷

শ্বশুড়রবাড়িতে পরিবার ছিলো ১৪টি৷ ধ্যান-ধারণা ছিলো মান্ধাতার আমলের৷ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ওই বাড়ির সনাতন আচার-আচরণে কোনো ছাপ মেলেনি তখনো৷ সীতার শ্বশুর, ভাসুর, জা ছিলেন শিক্ষক৷ কিন্তু দৈনন্দিন জীবনাচরণে সেকেলে ভাবনা! জীবনাচার ছিলো এমন যে- বউরা জুতা পরতে পারবে না৷ চলাফেরাও ছিলো নিয়ন্ত্রিত৷ পাড়া-প্রতিবেশীরা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত থাকতো৷ মেয়েরা শীতকালেও চাদর পরতে পারতো না-পারিবারিক বিধি-নিষেধের কারণে৷ শ্বশুরালয়ের এ পরিবেশ সীতাকে কেমন যেন অস্থির করে তুলতো৷ চাপা ক্ষোভ ও যন্ত্রণা তাকে তাড়িয়ে বেড়াতো৷

কী করে এই বিধি-নিষেধের দেয়াল ভাঙ্গা যায়- এ নিয়ে একদিন কথা বলেন স্বামী বিজন বিহারী ঘোষের সঙ্গে৷ স্বামী বললেন, ‘তুমি ইচছা করলে এগুলো পাল্টাতে পারো৷ ঘাটে যখন বাড়ির বউরা সব একত্র হবেন তখন তুমি তাদের বোঝাবে৷’ কথা মতো কাজ৷ বাড়ির বউরা সবাই যখন ঘাটে স্নানের জন্য জড়ো হতেন, সীতা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নানা বিধি-নিষেধ ভাঙার ব্যাপারে উৎসাহ যোগাতেন৷ তারাও সীতার কথামতো নিজেরা পরিবারের মধ্যে একটা পরিবর্তন আনলেন৷ প্রথম প্রথম সামান্য সমস্যা হলেও পরে সবই ঠিক হয়ে গিয়েছিল৷

আপনার তৎপরতা বাড়ির বাইরে গেলো কী করে? এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সীতা বললেন, ‘আপনার দাদা বললেন, বাড়ির ভেতরে একটা পরিবর্তন তো হলো, এবার বাড়ির বাইরে একটা পরিবর্তনের দরকার৷’ স্বামীর এই কথা শুনে সীতা ভাবলেন, এই কাজের জন্য শ্বশুরের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা দরকার৷ স্বামী-স্ত্রী পরামর্শ করে শ্বশুরের সঙ্গে আলাপ করলেন সীতা৷ কথায় কাজও হলো৷ কিন্তু কীভাবে বাড়ির বাইরের নারীদের সঙ্গে একটা নিয়মিত যোগাযোগ করা যায়৷ যোগাযোগ হলে কাজের ভিত্তিই বা কী হবে৷ তাছাড়া কী করেই বা নারীদের পরিবর্তন সূচিত হতে পারে- এরকম নানান চিন্তা থেকে সীতা একটি সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করেন৷ সংগঠন তৈরির পেছনে সীতা যেসব বিষয়কে যুক্তি হিসেবে দেখতেন তা হলো:

‘পুঁজি গঠন করা দরকার৷ অর্থ থাকলে মেয়েরা নিজেরা অনেক কাজ করতে পারে৷ অসুখ-বিসুখ হলে অনেক সময় বাড়ির লোকজন চিকিৎসার ব্যাপারে আগ্রহী হই না৷ সেক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্য থাকলে মেয়েরা নিজেদের চিকিৎসা করাতে পারবে৷ স্বাবলম্বী নারী মানে সম্মানিত নারী৷’ অর্থাৎ নারীর অবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর অবস্থান পরিবর্তনের করেছিলেন সীতা৷ অবশ্য এ জায়গায় আসতে তার সময় লেগেছে দীর্ঘ ৪ বছর৷ চেষ্টা করে ১৯৯৩ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘পিয়ারাপুর বিত্তহীন মহিলা উন্নয়ন সমিতি’৷ সদস্য সংগ্রহ করেন ১০৩ জন৷ সবাই নারী৷ সংগঠনের নারীরা প্রতিমাসে ২২ টাকা করে জমা দেন সীতাকে৷ ১৯৯৬ সালে মহিলা অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন নেন৷ বর্তমানে সমিতির তহবিলে আছে প্রায় দুই লক্ষ টাকা৷

সংগঠনের নারীরা সমিতির জমা টাকা থেকে পুঁজি নিয়ে বাঁশ বেতের কাজ শুরু করে৷ কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সীতা তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিতেন৷ বিপণনের জন্য নিজে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কথাবার্তা বলতেন৷ তাছাড়া কেউ কেউ মুড়ি ভেজে বাজারে বিক্রি করা শুরু করেন৷ এই কাজটি এখনো চালু আছে৷ এভাবে সদস্য নারীরা স্বনির্ভর হয়ে ওঠার পথ তৈরি করেছেন এবং আগের তুলনায় ভালো আছেন৷ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিন জন নারী ৫,০০০-১০,০০০ টাকা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে সেলাই মেশিন ক্রয় করেন৷ বর্তমানে এই তিনজনই স্বাবলম্বী৷

সীতা এই পর্যায়ে উপলব্ধি করলেন, সংগঠনের নারীদের শিক্ষাদান দরকার৷ সীতা রানী কুরী, রেফাত শাহীদা ও ফাতেমা- এই তিনজন মিলে সংগঠনের ১০৩ জন নারীকে লেখাপড়া শেখান৷ তারা সবাই এখন লিখতে-পড়তে ও হিসাব-নিকাশ করতে পারেন৷ এছাড়াও সংগঠনের মোট পুঁজি থেকে গরু-ছাগল ক্রয় করে সদস্যদের পালতে দেয়া হয়৷ যা থেকে তারা লাভবান হচেছন৷

সীতা এভাবে ‘পিয়ারাপুর বিত্তহীন মহিলা উন্নয়ন সমিতি’র নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করেছেন দীর্ঘদিন ধরে৷ কিন্তু কোথায় যেন একটা গলদ অনুভব করছিলেন৷ নারীরা তো আর্থিকভাবে লাভবান হচেছ; কিন্তু নারী হিসেবে তার সম্মানতো অর্জন হচেছ না৷ তা-ই নয়, সম্মান যে প্রয়োজনীয় এবং তার জন্য নারীর সক্রিয়তা দরকার- সেটিও তাদের উপলব্ধিতে আসেনি৷ এই পরিস্থিতি সীতাকে ভাবিয়ে তোলে৷ তাহলে কি নারীর জন্ম শুধু সংসারে দাসী হিসেবে থাকার জন্য?

এমন সময় ২০০৭ সালে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উজ্জীবক প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ও বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সদস্য আফসানা খাতুন রোজীর কাছ থেকে ‘নারী নেতৃত্ব বিকাশ’ প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ পান সীতা রানী কুরী৷ ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত ১৬তম প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন তিনি৷ প্রশিক্ষণে অনেক পুরনো প্রশ্নের সমাধান বের করতে সাহায্য করে সীতাকে৷ তার ভাষায়, ‘প্রশিক্ষণের পর আমি নতুন করে অনেক রাস্তা খুঁজে পেয়েছি৷ ১৩/১৪ বছর ধরে আমি সমাজ পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করে আসছি৷ এই প্রশিক্ষণটা আগে পেলে আমি অনেকটা বেশি কাজ করতে পারতাম৷ তারপরও বসে থাকিনি একদিনও৷ আমার চোখের অনেকগুলো পর্দা সরে গেছে৷ আমি সমাজকে নতুন করে দেখতে পারছি৷ যে জায়গাটিতে আমাদের যাওয়া দরকার সেটিও আমি দেখতে পাই৷’

এরপর সীতা আর বসে থাকেননি৷ সীতা এবার নারীর মানসিকতা পরিবর্তন ও সমাজে নারীর বৈষম্যগুলো চিহ্নিত করা ও সেগুলো দূরীকরণের জন্য নতুন করে কাজ শুরু করেছেন৷ আগের একমুখী কাজকে বহুমাত্রা দেয়ার ব্রত গ্রহণ করেছেন তিনি৷ ২০০৮ সালেই তিনি মোট ৫টি নারীদের সংগঠন বা গ্রুপ গঠন করেছেন৷ গড়ে তোলা সংগঠনের ঠিকানা নিম্নরূপ:
 
ক্রমিক নং সংগঠন গঠনের তারিখ  ইউনিয়নের নাম ও ঠিকানা নারী সদস্য সংখ্যা
১. ১০/০৮/০৮

ফতেহ আলী হাজীবাড়ি, দক্ষিণ পিয়ারাপুর

১৭ নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন, সদর লক্ষীপুর

২৫ জন
২. ১১/০৮/০৮ স্বর্ণকারবাড়ি, উত্তর পিয়ারাপুর ২৫ জন
১৭নং ভবানীগন্‌জ ইউনিয়ন, সদর লক্ষ্মীপুর
২৫ জন
৩. ৩০/১০/০৮ ডা: সোলেমানবাড়ি, পিয়ারাপুর ২৫ জন
১৫নং লাহারকান্দি ইউনিয়ন, সদর লক্ষ্মীপুর
২৫ জন
৪. ২৬/১০/০৮ কমর আলী পাটোয়ারীবাড়ি, কুমিদপুর ২৫ জন
১৫নং লাহারকান্দি ইউনিয়ন, সদর লক্ষ্মীপুর
২৫ জন
৫. ২৯/১০/০৮ কর্মকারবাড়ি, আব্দুল্লাপুর ২৫ জন
১৭নং ভবানীগন্‌জ ইউনিয়ন, সদর লক্ষ্মীপুর
২৫ জন

 

এই গ্রুপগুলোতে ১৫ দিন পর পর একটি সভা হয়৷ সভাতে আলোচনা করেন সীতা রানী কুরী৷ সীতা গ্রুপের নারীদের কর্মমুখী হওয়ার জন্য প্রণোদনার দায়িত্ব পালন করেন৷ তিনি বললেন, নানা ধরনের আয়বৃদ্ধিমূলক কাজ যেমন, হাঁস-মুরগী পালন, সবজি চাষের ব্যাপারে নারীদের উৎসাহিত করি৷ এসকল কাজে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য মৎস্য অধিদপ্তর ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সহযোগিতা নেয়া হয়৷ এছাড়া স্থানীয় এনজিওদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করা হয়৷ এর পাশাপাশি ওই নারীদের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য প্রতি বৈঠকে বাল্যবিবাহ রোধ, নারী নির্যাতন রোধ, মা ও শিশুর পুষ্টি থেকে শুরু করে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের প্রশিক্ষণে যে বিষয়টি আমাদের বোঝানো হয়, তা আমি এই সভাগুলোতে আলোচনা করি৷

এভাবেই গ্রুপগুলোর কাজ সম্পর্কে বিবরণ দিচিছলেন সীতা রানী কুরী৷ এসব কাজের পাশাপাশি তিনি তার নিজ গ্রামে কিংবা আশপাশের গ্রামে পারিবারিক কোনো কলহের খবর পেলেই সেখানে গিয়ে হাজির হন৷ আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে কলহ দূর করার চেষ্টা করেন এই নারীনেত্রী৷ কথা প্রসঙ্গে বললেন, ‘অমীয়দের (ছদ্ম নাম) বাড়িতে অমীয় প্রায়ই তার বউকে মারধর করতেন৷ আমি অমীয় ও তার বৌকে নানাভাবে বুঝিয়েছি৷ এখন তারা সুখেই আছেন৷’

এসব কাজের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রুপের নারীদের স্বামীরাও খুশি৷ তাছাড়া ওই মেয়েরা কেউ বসে থাকেন না৷ সংসারের কাজের পাশাপাশি কেউ সবজি চাষ করে, কেউ হাঁস-মুরগি পালন করেন৷ এসব কারণে তাদের কিছু উপার্জনও হয়৷ এতে করে সংসারে একটা পরিবর্তন আসছে৷’ ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাইলে সীতা বলেন, যদি আগের ৫টি গ্রুপের কাজে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখতে পাই, তবে নতুন আরো কয়েকটা গ্রুপ গঠনের কথা ভাববো৷ আর এসব গ্রুপের কাজের খোঁজ-খবর রাখার মাধ্যমে এই সমাজের একটি ইতিবাচক অবস্থা তৈরি করাই আমার ভবিষ্যত প্রত্যাশা৷ সংসারের কাজের পাশাপাশি এই সামাজিক কাজগুলো নিয়ে থাকতে পারলেই আমার জীবনটা সার্থক বলে জানালেন তিনি৷

গ্রামীণ নারীদের অবস্থা ও অবস্থান পরিবর্তনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন সীতা৷ যার মধ্যে একটি গ্রুপের একদিনের কর্মকাণ্ড আমরা শুরুতে বর্ণনা করেছি৷ আসুন আমরাও সীতা রানী কুরীর মত সামাজিক দায়িত্ব গ্রহণ করি, তাহলেই আমাদের কাঙিক্ষত সমাজ গড়ে তুলতে পারবো৷

 

 
 

National Girl Child Advocacy Forum

 

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net