General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

সম্পাদকীয়

নারী নির্যাতনের স্বরূপ ও আমাদের বিবেক

যে কথা যায় না বলা

আলোকিত আরতি
আসমা ও তার নারী কল্যাণ সংস্থা
আঁধারে আশার প্রদীপ
আত্মবিশ্বাসী দোলনা
আনোয়ারার সংগ্রাম চলছে
এলাচি কথন
এক নিরলস নারী সংগঠক
এক স্বাবলম্বী নারীর একান্ত কথা
এখন তিনি এলাকার সফল নেত্রী
কিশোরগঞ্জের শিখা: এক লড়াকু সংগ্রামী
জীবন সংগ্রামে জয়ী জাহানারা
জেসমিনের স্বপ্ন: আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ
দৃঢ় প্রত্যয়ী নাসিমা
রামুর নারী উন্নয়নের প্রতীক
লুৎফা: এক অনুপ্রেরণার নাম
সাজেদা মেম্বার হতে চায়
সাঈদা: অসহায় মানুষের পাশে
সব বাধাই হার মানলো
সাহস করেই স্বপ্ন দেখি
বাঘিয়ার বাহারজান
নকশিকাঁথা: জীবনের রঙিন ফোঁড়

ইভানের কথা

 

সাজেদা মেম্বার হতে চায়
অচিন্ত্য রায় চৌধুরী
 

 

গুণ গুণ করে গান গাওয়া আর বই হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়া৷ স্কুল থেকে ফিরে গোল্লাছুট, বউছি খেলা এভাবেই দিন কাটছিলো সাজেদার৷ মা-বাবার প্রথম সন্তান৷ দাদা-দাদি, মা-বাবা সকলের অনেক আদরের৷ সাজেদার সব আবদার পূরণ করতে হতো৷ বাবা সাঈদুর রহমান পেশায় গ্রাম্য ডাক্তার এবং পাশাপাশি কৃষিকাজের সাথেও জড়িত৷ সাজেদারা পাঁচ বোন ও চার ভাই৷ তার ইচছা লেখাপড়া শিখবেন, গানবাজনা করবেন মানুষের মত মানুষ হবেন৷ ছোটবেলা থেকেই তার গান গাওয়া ও কবিতা লেখার অভ্যাস ছিল৷ স্কুলে পড়ার সময় তিনি তার গ্রামের মোল্লাবাড়ির এক চাচার বাড়িতে সেলাইয়ের ক্‌জা শিখতেন গোপনে৷ বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল৷ তার পরিবার অনেকটা রক্ষণশীল ছিল৷

সাজেদা যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন, তখন থেকেই তার চাচাতো ও ফুফাতো ভাইয়েরা তাকে বিয়ে করার জন্য উত্ত্যক্ত করতো৷ কিন্তু সাজেদা বিয়ের কথা তখন চিন্তাই করেননি৷ তার ইচছা লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হওয়া৷ পরিবার থেকেই চাপ আসতে থাকে বিয়ের জন্য, কিন্তু পরিবার ও পারিপার্শ্বিক সমস্যা এতই প্রকট যে, সাজেদাকে তার ইচছার বিরুদ্ধেই বিয়ে করাতে বাধ্য করা হয়৷ সে সময় সাজেদা জানতেন না কেমন ছেলের সঙ্গে বিয়ে হচেছ৷ ছেলের বড় ভাইয়ের খুবই আগ্রহ ছিল সাজেদাকে তার ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে বউ করে নিয়ে যাওয়ার জন্য৷ সাজেদা যখন নবম শ্রেণির ছাত্রী ও বয়স পনের বছর, ঠিক তখনই বাবা বিয়ে দিয়ে দেন৷ স্বামী জিয়াউদ্দীন একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার বয়স তখন বত্রিশ বছর৷ বাড়ি গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের তুমুলিয়া গ্রামে৷

সাজেদার সংসার শুরু হলো৷ যৌথ পরিবার৷ স্বামীর সংসারে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১০-১২ জনের মতো৷ বিয়ের পর স্বামী মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন৷ সাজেদা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে একটা মানসিক ভারসাম্যহীন অসুস্থ স্বামীকে পেলেন৷ যৌথ পরিবার, বয়স কম, কর্তব্য, সংসারের কাজকর্ম প্রভৃতি দায়িত্ব তাকে অনেকটা চিন্তার মধ্যে ফেলে দিল৷ আস্তে আস্তে নামের পরিবর্তন হয়ে শিল্পী রহমান সাজেদা নামে তিনি পরিচিত হলেন শ্বশুরবাড়িতে৷ তার বড় ভাসুর সাজেদাকে বিয়ে দিয়ে অনেকটা অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন৷ সাজেদা ভালো গান গাইতেন ও কবিতা লিখতেন৷ তাই বড় ভাসুর তাকে স্নেহ করে ‘শিল্পী’ নামে ডাকতেন৷

সাজেদা শ্বশুরবাড়িতে করুণার পাত্র হয়ে ছিলেন৷ সংসারের সকল কাজ সামলানোর পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের হুকুম তামিল করতে হতো৷ কারণ একটাই, তার স্বামী অসুস্থ ও কাজ কর্মে অক্ষম৷ ফলে সাজেদার মানসিক যন্ত্রণা ছিল খুব বেশি৷ এভাবেই বিয়ের প্রথম বছর কাটতে না কাটতেই তাদের পরিবারে এক নতুন অতিথির আগমন ঘটে৷ সাজেদার কোলে আসে এক কন্যাসন্তান৷ সাজেদা খুব চাপা স্বভাবের৷ তার সমস্যার কথা সহসা তার মা-বাবার কাছে প্রকাশ করতেন না৷ কিন্তু সমস্যা যে একটা আছে সেটা তারা এক পর্যায়ে বুঝতে পারেন৷ ইতোমধ্যে প্রথম সন্তান জন্মের ঠিক এক বছর পরেই আবার দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম হয়৷ তারপরই সাজেদার বাবা তার মেয়েকে আর শ্বশুরবাড়িতে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেন৷ কিন্তু সাজেদা সিদ্ধান্ত নেন তিনি শ্বশুরবাড়িতে যাবেন এবং এই স্বামীকে নিয়েই সংসার করবেন৷ এর মধ্যে গোপনে সাজেদার চাচাতো ভাই সাজেদাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন৷ কিন্তু সাজেদা রাজী হন না৷ তিনি মনে করেন বিয়ে মানুষ একবারই করে৷ বিয়ে আর তিনি করতে রাজী হন না৷ এভাবেই সাজেদার পরে আরো দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়৷ তিনি বর্তমানে চার কন্যা সন্তানের জননী৷

অভাব অনটনের সংসারে সাজেদা চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন৷ মিরপুরে তার মামার কাছে চাকরির কথা বললে তিনি সাজেদাকে গার্মেন্টসের চাকরি যোগাড় করে দেন৷ অতিকষ্টে সাজেদা তার মেয়েদের মানুষ করতে থাকেন৷ তবে সাজেদা তার মামাবাড়িতে থেকে চাকরি করলেও তার বড় ভাসুর তার সংসারের কিছুটা ভরণপোষণ বহন করতেন৷ ছয় বছর চাকরি করার পর সাজেদা আবার শ্বশুরবাড়ি কালীগঞ্জে ফিরে যান৷ সেখানে গিয়ে ‘কারিতাস’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ সহযোগিতা নেন৷ ঋণের টাকায় সেলাই মেশিন কিনে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন৷ সেলাইয়ের কাজ শুরু করার কারণে সাজেদার আর্থিক সচছলতা ফিরে আসে৷ তিনি স্বামীর পেটের টিউমার অপারেশন করানোর ব্যবস্থা করেন৷ এবং স্বামীকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলেন৷ স্বামী এখন একজন সফল ব্যবসায়ী৷ সাজেদা ব্র্যাকসহ নানা সংগঠনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন৷ এলাকার নারীনেত্রী নাহিদ সুলতানার কাছে জানতে পারেন যে, হাঙ্গার প্রজেক্টের মাধ্যমে বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক নামক সংগঠনের নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে৷

২০০৮ সালের জুলাই মাসে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাজেদা নিজেকে আরো প্রতিষ্ঠিত করতে উৎসাহী হন৷ বর্তমানে তিনি গ্রামের নারীদের নিয়ে আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত৷ ভবিষ্যতে তার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার ইচছা আছে, কারণ তিনি মনে করেন এর মাধ্যমেও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে৷ তাছাড়াও ৩০ জন নারী নিয়ে ‘পল্লী-সমাজ’ নামে একটি নারী সংগঠন তৈরি করেন ২০০৭ সালের জুলাই মাসে৷ গ্রামের নারীরা যেন এই সংগঠনের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে কাজের সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যেই তিনি এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছেন৷

 

 
 

National Girl Child Advocacy Forum

 

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net