girlchild day

  Celebration

 
Search  ...a  page
Links

 

  Girl Child Day Celebration

  Women Day Celebration

  Art Competition

  Debate Competition

  Training

  Workshop & seminar

  I. M. Language Day

  World Health Day

  International Labor Day

 

standing Committee of Forum
 
Recent

 

 
 
 
 
 
 
 


২০০৭| | ২০০৬ | | ২০০৫  

ত্ত্যক্তকারীর শাস্তি, কন্যাশিশুর মুক্তি
জাতীয় কন্যাশিশু দিবস, ২০০

১৫ অক্টোবর, ২০০৮
নবম বারের মত সারা দেশে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন

 
‘উত্ত্যক্তকারীর শাস্তি কন্যাশিশুর মুক্তি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নবম বারের মত সারা দেশে পালিত হল জাতীয় কন্যাশিশু দিবস৷ জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে এ দিবসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়৷ এরই অংশ হিসেবে কন্যাশিশুদের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে আজ (১৫ অক্টোবর, ২০০৮) একটি বর্ণাঢ্য র্যালি এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷

বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের যৌথ উদ্যোগে ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় উপদেষ্টা জনাব রাশেদা কে চৌধুরী উপস্থিত থেকের্ যালির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা৷ এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর পরিচালক শাওলী সুমন, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বডিউল আলম মজুমদার, অধ্যাপক লতিফা আকন্দ, বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী ইফফাত আরা নার্গিস, শিক্ষাবিদ ড. মেহের-ই-খোদা, জনাব রফিকুল ইসলাম সরকারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন তাদের ব্যানারসহ অংশগ্রহণ করেন৷র্ যালিটি পাবলিক লাইব্রেরী মিলায়তন থেকে শুরু হয়ে এসে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে শেষ হয়৷ জাতির সর্বাঙ্গীন বিকাশের সাথে কন্যাশিশুর বিকাশ যুক্ত; তাই আজ আমরা সেই অধিকার আদায়ের নতুনভাবে অঙ্গীকার করার জন্য একত্র হয়েছি- কিশোরী বিউটি আক্তারের অনুভূতির মধ্য দিয়েই র্যালির যাত্রা শুরু হয়৷ র্যালির উদ্বোধনের সময় মাননীয় উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমরা যেন আমাদের ভবিষ্যত কর্ণধার শিশুদের সকল অধিকার সচেতনভাবে পালন করতে পারি৷ কন্যাশিশুর নিরাপদে-নির্বিঘ্নে পথ চলা যেন নিশ্চিত করতে পারি এবং তা যেন হয় নগর-গ্রামসহ সকল জায়গায় তাহলেই নিশ্চিত হবে আমার ভবিষ্যত সম্ভবানার সকল অধিকার৷
 
র্যালি শেষে সকাল ১০.৩০টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে এক বিশেষ আলোচনা সভায় ড. বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রোকেয়া সুলতানা৷ এছাড়া অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তফা মনোয়ার, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লতিফা আকন্দ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব অধ্যাপিকা তাহ্‌মিনা হোসেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান ও যুগ্ম সচিব জনাব মুশফিকা ইফ্‌ফাত, ভাষা সৈনিক ও অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক জনাব শাহীন আনাম, এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন এর নির্বাহি পরিচালক জনাব মনিরা রহমান, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন কর্মসূচি পরিচালক জনাব শফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মুখ্য বার্তা সম্পাদক জনাব রফিকুল ইসলাম সরকার৷ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি৷

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোকেয়া সুলতানা বলেন, আমরা স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি, কারণ স্বপ্নই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে৷ তাই আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন আমাদের থাকতে হবে৷ নিজেকে ভালোবাসতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে৷ শৈশবেই সকল কিছু ইতিবাচক ভাবতে শিখতে হবে৷ মেয়েকে কৈশোরে বিয়ে দিয়ে দেওয়াই সমস্যার সমাধান নয়, সে পরবর্তী জীবনে এর চেয়ে আরও বড় সমস্যার সস্মুখিন হতে হবে৷ তাই তাদেরকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে৷ শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার রূপকথার পারুলের কথা উল্লেখ করে বলেন - যে তার অদ্ভুত ক্ষমতার বলে সাত ভাইকেই জাগিয়ে তুলেছিল! ভারতের একটি রাজ্যে দেখেছি পরিবারের মোট আয়ের আশি ভাগই তারা ব্যয় করে তাদের শিশুর জন্য৷ তারা একবেলা আহার করে ত্যাগ শিকার করে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য৷ শিশুর কল্পনাশক্তি প্রবল, তাদের সেই শক্তিকে কাজে লাগানোর সুযোগ দিতে হবে৷ কন্যাদের হতে হবে অন্যকে জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে 'পারুল’৷ অধ্যাপক লতিফা আকন্দ বলেন, আমরা অভিধান থেকে বিশেষ এবং পছন্দের শব্দ চয়ন করি, লেখায় ব্যবহার করি৷ কিন্তু সেগুলো শুধু কলমে নয়, জীবনেও প্রয়োগ করতে হবে৷ দায়িত্ব আমার সিদ্ধান্তও আমার৷ তাই নিজের পরিচয় নিজেকেই তুলে ধরতে হবে৷ আমরা এই সমাজে বাস করেও কাউকে চিনি না, জানি না৷ অপরিচিতই আমাদের পশ্চাৎমুখি করেছে৷ নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার কথা তুলে ধরে বলেন, একজন স্বাধীন সত্ত্বার পরিপূর্ণ নারীকেই তিনি দেখতে চেযেছিলেন৷ তাই আমাদের সুন্দর ও চিরসবুজ শৈশব থেকেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে৷ ড. হালিমা খাতুন তার বক্তব্যে কন্যাশিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কন্যাশিশুর কল্যাণকামী এই জনসমুদ্রে নিজেকে যুক্ত করতে পেরে আনন্দিত৷ উত্ত্যক্ত করা যেন একটি গুরুতর অন্যায় এ বিষয়ে অতি শৈশবে শিশুকে বুঝার সুযোগ করা৷ জুডু-ক্যারাটের মত শক্তিশালী শারীরিক শিক্ষাগুলো কিশোরীদের রপ্ত করতে হবে৷ জানতে হবে পরিবার-সমাজ-দেশ সম্পর্কে৷ জনাব তাহমিনা হোসেন বলেন, সমাজের সমস্যা বহুবিধ, তারমধ্যে ‘উত্ত্যক্ত’ আরেকটি সামাজিক সমস্যা বা ব্যাধি৷ সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বখাদের উৎপাতে সমাজের ১৮ ভাগ কিশোরীকে তাদের বাবা-মা বিয়ে দিয়ে নিশ্চিত হয়ে যায়৷ আইন নয়, আমাদের নিজেদেরই সচেতন হতে হবে৷ বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দরকার৷ উত্ত্যক্ততাসহ সকল সমস্যা সমাধানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী এবং পরিবারে উন্মুক্তভাবে আলোচনা হতে পারে৷ বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম সচিব মুশফিকা ইফফাত বলেন, আমাদের মেয়েরা কিভাবে নির্যাতিত হচেছ তা আর নতুন করে বলার নেই৷ আইনের মুখাপেক্ষী না হয়ে কিভাবে নিজেরাই সংঘবদ্ধ হয়ে নিজের্‌াই সোচচার ভূমিকা রাখতে পারি সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া৷ রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা সমাজের বোঝা নই, সম্পদ৷ তাই বয়সে নয়, মনন-মেধায়-বিকাশে পরিপূর্ণ হয়ে গড়ে উঠব৷ জনাব মনিরা রহমান বলেন, আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে কন্যা হয়ে জন্মগ্রহণের অপরাধে ঘরেই উপেক্ষিত হতে হয়৷ শিকার হয় নানা নির্যাতনের৷ নানা বাধা ও প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলেও শিশুরা এগিয়ে যাচেছ৷ কোনোভাবেই কোনো অবস্থাতেই কোনো কন্যাশিশুকে নির্যাতনে শিকার হতে দেব না; এটিই হবে আমাদের অঙ্গীকার৷ টিএমএমএস এর সুমাইয়া আক্তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, পরিবারে আমরা কেমন করে যেন উপেক্ষিত হয়ে যাই; তা আমরা নিজেরাই জানি না৷ পরিবারে বড়দের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন৷ কন্যাশিশুর সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে সকলেরই সমান দৃষ্টি আমরা প্রত্যাশা করি৷

অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমর্দা‌ সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে কন্যাশিশু দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কন্যাশিশু অর্থাৎ ভবিষ্যত নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্যই আমাদের এই আয়োজন৷ অধিকার কেউ কাউকে দেয় না, অর্জন করতে হয়৷ সেই অর্জনের জন্যই বিশেষ দিনে তা মনে করা৷ আমরা পারি, আমরা করব এই অঙ্গীকারই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে৷ নারীক্‌েই নিশ্চিত করতে হবে তার অধিকার৷ স্বাগত বক্তব্যে নাছিমা আক্তার জলি কন্যাশিশু দিবসের প্রেক্ষাপট ও জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের বিভিন্নমুখি কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, কন্যাশিশুদের অবস্থা ও অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় সকলের অংশগ্রহণ জরুরি৷

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক ইত্যাদির মাঝে দিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন পরিবেশিত হয় এবং জাতীয়ভাবে অনুষ্ঠিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়৷ এতে বিজয়ীদের সকলের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেয়া হয়৷ রচনা প্রতিযোগিতায় দু’টি গ্রুপে (একটি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশু) ১০ জন করে ২০ জন এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ৩টি গ্রুপে ১০ জন করে মোট ৩০ জনের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়৷ সারা দেশব্যাপী আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকার ধলপুরের মোঃ আল আমিন, বগুড়ার জান্নাতুল নাঈম তানহা, ঢাকার মনির হোসেন এবং রাজশাহীর মোঃ মাসুদ রানা৷ এছাড়া চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীরা হলো শারমিন আক্তার, ওয়াশিউ আহম্মেদ, পাভেল, আল আমিন আব্দুন নূর, মোঃ তারেক হোসেন ও সাফায়েত হোসেন আসিফ৷

উল্লেখ্য যে, প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর কন্যাশিশু দিবস পালন করা হয়ে থাকলেও ঈদ ও পূজার কারণে এ বছরই প্রথম বারের মত ১৫ অক্টোবর দিবসটি পালন করা হলো৷ দিবসটিকে কেন্দ্র করে জাতীয়ভাবে নানামুখি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে৷ এ সকল কর্মসূচির মধ্যে আগামী ১৮ অক্টোবর বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে গোলটেবিল বৈঠক এবং ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে বিশেষ সচেতনতামূলক বিতর্ক উল্লেখযোগ্য৷
 
 

সৌজন্যে: মানুষের জন্য ফাউণ্ডেশন, সহযোগিতায়: বাংলাদশে শিশু একাডেমী ও জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসী ফোরাম

 

National Girl Child Advocacy Forum

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2)8116812, E-mail-thpb@bangla.net