জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন পত্র০পত্রিকায়
প্রাপ্ত তথ্য
উত্ত্যক্তকারীর শাস্তি-কন্যাশিশুর
মুক্তি'-এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে
গতকাল বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ
সচেতনতামূলক বিতর্ক। শিশু অধিকার সপ্তাহের সমাপনী দিনে
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও
ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি এই বিতর্কের আয়োজন করে।
মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং
ক্যামব্রিয়ান কলেজ এ বিতর্কে অংশ নেয়। 'আইনের বিধানই পারে
উত্ত্যক্ততা প্রতিরোধ করতে' শীর্ষক এই বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব রোকেয়া
সুলতানা। ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী
কিরনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন নটর ডেম কলেজের
অধ্যক্ষ ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা, অধ্যাপক লতিফা আকন্দ, ড. রওশন
জাহান, ড. মেহের-ই-খোদা, গুলশান আরা চৌধুরী, শাওলী সুমন, নাছিমা
আক্তার জলি প্রমুখ।
সচিব রোকেয়া সুলতানা বলেন, আজকের কিশোর-কিশোরীদের স্বপ্ন থাকতে
হবে, সেই স্বপ্ন আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নই বিশ্বাস বাড়িয়ে
দেবে। চলার শক্তি দেবে। সেই ক্ষুদ্রশক্তিই সংগঠিত হতে প্রেরণা
জোগাবে। ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা বলেন, মূলত শিক্ষার্থীদের কাছ
থেকেই শিখি, তাদের নব ধারণার ও অভিজ্ঞতার বিষয়গুলো পর্যালোচনা
করি। প্রতিটি ধর্মেই 'বিবেক' শব্ধটি রয়েছে। সেই বিবেকবোধ
আমাদের জাগিয়ে তুলতে হবে এবং সেটি পরিবার থেকেই শুরু হওয়া
প্রয়োজন। ড. রওশন জাহান বলেন, ইভ টিজিং এই বিশেষ নির্যাতন
এমনভাবে মিশে আছে যে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিপরীত লিঙ্গকে
ইঙ্গিত করে বলেই এটি সমস্যা। তিনি বলেন, কেবল আইনের বিধানই
উত্ত্যক্ততা প্রতিরোধ করতে পারে না। এক্ষেত্রে তিনি সমন্বিত
উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে আরো বলেন, নিজেরা প্রতিরোধ গড়লেই
সম্ভব হবে সমস্যার প্রকৃত সমাধান।
ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন
বলেন, আজকের তরুণরা অনেকখানি সচেতন, তারা নিজকে সব ধরনের
অন্যায় থেকে বিরত রেখে সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চায়।
অধ্যাপিকা লতিফা আকন্দ বলেন, জীবনকে পরিপূর্ণ করে গড়ে তুলতে
আমাদের নিজেদেরই বদলে ফেলতে হবে, তবেই উত্ত্যক্ততা প্রতিরোধ
অনেকটাই সম্ভবপর হবে। তিনি বলেন, 'তর্ক' একটি শক্তি এবং
স্বাধীন চিন্তার সুন্দর বহির্প্রকাশ। তাই এটি নতুন প্রজন্মের
বিকাশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য তিনি সারাদেশে এ
বিষয়ে বিতর্কের মাধ্যমে নিজেদের চিন্তাকে পরিষ্কার ও সচেতন হয়ে
ওঠা উচিত বলেও মন্তব্য করেন।
সচেতনতাবোধ সবার মধ্যেই সমানভাবে জাগিয়ে তোলার বিষয়টি তুলে ধরে
ড. মেহের-ই-খোদা বলেন, আইনের প্রয়োগ কেন হয় না-এটি প্রকৃত
অর্থেই ভাবার বিষয়। ডন ফোরামের চেয়ারপার্সন গুলশান আরা চৌধুরী
বলেন, সে সময় ছিল একেবারেই অন্যরকম। কিন্তু এটি যে একটি অপরাধ
এটি সমাজের একটি সমস্যা তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সপষ্ট। শাওলী
সুমন বলেন, সেক্সপিয়ারের রোমিও এবং জুলিয়েট আমাদের মনে যে
রোমান্টিকতার জন্ম দেয় তা আমরা নিজের অবচেতনবোধ থেকেই ধারণ করে
চলেছি। পাঠ্যপুস্তকের জানা আর বাস্তবতার জানা ভিন্ন। একমাত্র
যুক্তিবাদী মনই পারে প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে সাহায্য করতে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী দুটি দলের বিতার্কিকদের বিজয়ী
হিসেবে ক্রেসট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের
খ্যাতনামা স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
বিতার্কিক/শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মীরা
উপস্থিত ছিলেন।