জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়
প্রাপ্ত তথ্য
জাতীয় কন্যাশিশু
দিবস পালিত
উত্ত্যক্তকারীদের সংঘবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বান নিজস্ব
প্রতিবেদক-প্রথম আলো
‘উত্ত্যক্তকারীর শাস্তি, কন্যাশিশুর মুক্তি’ স্লোগান সামনে রেখে
গতকাল বুধবার দেশে নবমবারের মতো পালিত হলো জাতীয় কন্যাশিশু
দিবস। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা সংঘবদ্ধভাবে
উত্ত্যক্তকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সভায় ভুক্তভোগী অনেক শিশু-কিশোরীও ঘরে-বাইরে তাদের লড়াইয়ের কথা
তুলে ধরে।
‘স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে বখাটেরা উত্ত্যক্ত করে। সে কথা
বাবা-মাকে জানালে তাঁরা হয় বিয়ে দিয়ে দিতে চান, নয়তো বলেন,
তোমার স্কুলে যাওয়া বন্ধ। সে ক্ষেত্রে আমরা বখাটেদের কীভাবে
রুখব?’ বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত সুরভী স্কুলের ছাত্রী নাজমা
আক্তার এভাবেই প্রশ্নটি ছুড়ে দেয় অতিথিদের উদ্দেশে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম
শিশু একাডেমী মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। আয়োজনে সহায়তা
করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। সভায়
সভাপতিত্ব
করেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম
মজুমদার।
প্রতিবছর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যাশিশু দিবসটি পালিত হলেও
এবার ঈদ ও পূজা উদ্যাপন উপলক্ষে গতকাল তা পালন করা হয়।
সভার আগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এনজিওর সঙ্গে যুক্ত
শিশু-কিশোরীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এটি
উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক
মন্ত্রণালয়ের সচিব রোকেয়া সুলতানা বলেন, ‘শিশু নাজমা আমাদের
উদ্দেশে যে প্রশ্ন রেখেছে, তার জবাব খুঁজে বের করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে
উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, তাই
সম্মিলিতভাবে সমাধান বের করতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লতিফা আকন্দ বলেন,
‘উত্ত্যক্তকারীরা আমাদেরই কেউ না কেউ। আমরা বা অভিভাবকেরা
সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করি না বলেই সমাজে বখাটেদের জন্ন হচ্ছে।’
সাবেক সচিব অধ্যাপিকা তাহমিনা হোসেন বলেন, আইন যা-ই থাকুক না
কেন নিজেদের চেষ্টাতেই পথ চলতে হবে। উত্ত্যক্ততার শিকার হলে
আত্মহত্যার পথ বেছে না নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম
উত্ত্যক্তকারীদের ভয় না পেয়ে সাহসের সঙ্গে এবং সম্মিলিতভাবে
মোকাবিলা করতে কিশোরীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ভাষাসৈনিক ড. হালিমা খাতুন বখাটেদের একত্র করে তাদের ভালো কাজে
যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন শিল্পী মুস্তফা
মনোয়ার, শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান মুশফিকা ইফ্ফাত, বাংলাদেশ
টেলিভিশনের সাবেক মুখ্য বার্তা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সরকার,
এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মনিরা রহমান,
জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি,
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের পরিচালক (কর্মসূচি) শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয়ভাবে
আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার
তুলে দেওয়া হয়।
যুগান্তর রিপোর্ট :
‘জাতীয় শিশু অধিকার সপ্তাহ’কে সামনে রেখে সেভ দ্য চিলড্রেন
সুইডেন-ডেনমার্ক ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে রমনা পার্কের
রেস্টুরেন্ট কমপ্লেক্সে দু’দিনব্যাপী ‘শিশু অধিকার মেলা’ শুরু
হয়েছে৷ বুধবার নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের এ মেলার উদ্বোধন করেন৷
এছাড়াও সেভ দ্য চিলড্রেনের আবাসিক প্রতিনিধি নিলস বেনজেন,
ডেপুটি কান্ট্রি প্রতিনিধি ওবায়দুর রহমান এবং শিশু প্রতিনিধি
ইমরান রশিদ ইমন উপস্থিত ছিলেন৷
সবাইকে শিশুদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহবান জানিয়ে
নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের বলেন, শিশুদের কথা আমাদের মনোযোগ
দিয়ে শোনা উচিত৷ শিশুদের সামনে ধূমপান করা থেকে বিরত থাকার
আহবান জানান তিনি৷
মেলায় দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,
জাদু প্রদর্শনী, বাউল গান এবং কৌতুক নকশা৷ শিশু অধিকার
সপ্তাহের এ বারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘আবহাওয়া পরিবর্তন এবং
শিশুদের ওপর এর প্রভাব’৷
আজ ‘শিশু সুরক্ষা আন্দোলন’ নামে ১৩৫টি শিশু সংগঠনের একটি মোর্চা
আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে৷
এদিকে ‘উত্ত্যক্তকারীর শাস্তি কন্যাশিশুর মুক্তি’ এ স্লোগানকে
সামনে রেখে নবম বারের মতো সারাদেশে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত
হয়েছে৷ বুধবার জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে
ঢাকাসহ সারাদেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং শিশু একাডেমী
মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷
শিশু একাডেমী ও অ্যাডভোকেসি ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এবং মানুষের
জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপদেষ্টা
রাশেদা কে চৌধুরী শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন৷ অ্যাডভোকেসি
ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার, অধ্যাপক লতিফা আকন্দ,
শিক্ষাবিদ ড. মেহের-ই-খোদাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন৷ শোভাযাত্রা
পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তন থেকে শুরু হয়ে শিশু একাডেমীতে এসে
শেষ হয়৷
শোভাযাত্রা উদ্বোধনের সময় রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যেন
আমাদের ভবিষ্যৎ কর্ণধার শিশুদের সব অধিকার সচেতনভাবে পালন করতে
পারি৷ কন্যাশিশুর নিরাপদ-নির্বিঘ্নে পথচলা যেন নিশ্চিত করতে
পারি৷’
Help girl children
achieve rights Says Rasheda K Chy
Staff Correspondent
Bangladesh Shishu Academy and National Girl Child Advocacy
Forum jointly take out a colourful procession in the city
yesterday marking the National Girl Child Day . Photo: STAR
The 9th National Girl Child Day was observed yesterday with
different organisations holding programmes to mark the day
in the city with the theme 'Punish the teasers, free the
girl children'.
To observe the day, National Girl Child Advocacy Forum
organised a discussion in association with Manusher Jonno
Foundation at Bangladesh Shishu Academy auditorium following
a rally.
Women and Children Affairs Adviser Rasheda K Choudhury
inaugurated the rally hoping to ensure the girl children's
security in their everyday life.
The adviser called on all to behave sincerely with girl
children so that they can learn the same and help them enjoy
their rights properly.
Women and Children Affairs Secretary Rokeya Sultana was
present at the programme as the chief guest with National
Girl Child Advocacy Forum President Dr Badiul Alam Majumder
in the chair.
Vice President of the forum Prof Latifa Akand, cultural
activist Mustafa Monwar, former secretary Prof Tahmina
Hossain, Bangladesh Shishu Academy Chairman Mushfika Iffat,
language movement veteran Dr Halima Khatun, Manusher Jonno
Foundation Executive Director Shaheen Anam, Acid Survivors
Foundation Executive Director Monira Rahman, Dhaka Ahsania
Mission Programme Director Shafikul Islam and former chief
news editor of BTV Rafikul Islam Sarkar also spoke.
“The children should learn to think positive from their
childhood and should have great dreams in their minds.
Marriage in childhood or during the adolescent period cannot
resolve the problem at all,” said Rokeya Sultana.
Drawing the example of 'Parul,' a character of the fairy
tale, Mustafa said Parul made her seven brothers wake up
from the cursed sleep through her special power, likewise
every girl should be 'Parul' to enlighten others through
their love, affection and activities.
“The imaginative power is immense among the children and
they should be given the best opportunity to use that
power,” he added, exemplifying a particular state of India
where people use 80 percent of their income for the
development of their children.
Monira Rahman said, “We have been living in such a society
where a girl child becomes victim only for her feminine
identity. The situation must be changed. We have to ensure
that under no circumstances, we would allow a girl child to
be repressed in the society.”
জাতীয় কন্যাশিশু সপ্তাহে স্কুল
বিতর্ক : শুধু আইন নয় ইভ টিজিং বন্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে 'উত্ত্যক্তকারীর
শাস্তি-কন্যাশিশুর মুক্তি'-এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয়
কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ
শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ সচেতনতা.....বিস্তারিত