|
|
‘উত্ত্যক্তকারীর শাস্তি- কন্যাশিশুর
মুক্তি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে
২০ অক্টোবর, সোমবার শিশু অধিকার সপ্তাহের সমাপনী দিনে বাংলাদেশ
শিশু একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ সচেতনতামূলক
বিতর্ক৷ বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি
ফোরাম ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসী-এর আয়োজনে এবং ডন ফোরাম-এর
সহযোগিতায় দেশের খ্যাতনামা দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
তার্কিকদের অংশগ্রহণে ‘আইনের বিধানই পারে উত্ত্যক্ততা প্রতিরোধ
করতে’ শীর্ষক এই বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত
ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রোকেয়া সুলতানা৷

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক লতিফা
আকন্দ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন ডিবেট ফর
ডেমোক্রেসী’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ৷ এছাড়াও
অনুষ্ঠানে সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাদার
বেঞ্জামিন কস্-া, সিএসসি, প্রিন্সিপাল, নটর ডেম কলেজ, ড. রওশন
জাহান, বিশিষ্ট নারী গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মেহের-ই-খোদা,
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গুলশান আরা চৌধুরী, চেয়ারপার্সন, ডন
ফোরাম, শাওলী সুমন, পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী এবং নাছিমা
আক্তার জলি, সম্পাদক, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম৷
উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোকেয়া
সুলতানা বলেন, সময়োপযোগী একটি বিষয় নির্ধারণ হয়েছে৷ আমরা যে
বিষয়গুলো সাধারণভাবে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করি না, ভাবি না৷ সে
বিষয়গুলোই মূলত উঠে এসেছে৷
আজকের
কিশোর-কিশোরীদের স্বপ্ন থাকতে হবে, সেই স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়ার
স্বপ্ন৷ সেই স্বপ্নই বিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে৷ চলার শক্তি দেবে৷
সেই ক্ষুদ্র শক্তিই সংগঠিত হতে প্রেরণা জোগাবে৷ ফাদার
বেঞ্জামিন কস্তা শিক্ষা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে
বলেন, মূলত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই শিখি, তাদের নব ধারণার ও
অভিজ্ঞতার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করি৷ ত্রিশ বছর আগে-পরের সমাজ
বাস্তবতা এবং পবিত্র বাইবেলসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের কথা
উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি ধর্মেই ‘বিবেক’ শব্দটি রয়েছে৷ সেই
বিবেকবোধ আমাদের জাগিয়ে তুলতে হবে এবং সেটি পরিবার থেকেই শুরু
হওয়া প্রয়োজন৷ বিবেকবোধ জাগ্রত হলেই পাপবোধ দূরী করা সম্ভব৷
নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা ও গবেষণার কথা উল্লেখ করে ড. রওশন জাহান
বলেন, আইনের বিধানই প্রতিরোধ করতে পারে না৷ আইন আছে, প্রয়োগও
আছে কিন্তু চ্যালেঞ্জ নেই৷ ইভ টিজিং এই বিশেষ নির্যাতন এমনভাবে
মিশে আছে যে তা অস্বীকার করার উপায় নেই৷ বিপরীত লিঙ্গকে ইঙ্গিত
করে বলেই এটি সমস্যা৷ জীবনের অভিজ্ঞতায়ই আমরা জানব৷ নিজেরাই
প্রতিরোধ করব৷ তবেই সম্ভব হবে সমস্যার প্রকৃত সমাধান৷ নারী
জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপিকা লতিফা
আকন্দ বলেন, অভিধানের শব্দ জীবন বাস্তবতায় অনেকটাই বদলে যায়৷
জীবনকে পরিপূর্ণ করে গড়ে তুলতে আমাদের নিজের্দেই বদলে ফেলতে
হবে৷ ‘তর্ক’ একটি শক্তি এবং স্বাধীন চিন্তার একটি সুন্দর
বর্হিপ্রকাশ৷ তাই এটি নতুন প্রজন্মের বিকাশের জন্য একটি
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ সচেতনতাবোধ সবার মধ্যেই সমানভাবে জাগিয়ে
তোলার বিষয়টি তুলে ধরে ড. মেহের-ই-খোদা বলেন, আইনের প্রয়োগ কেন
হয় না- এটি প্রকৃত অর্থেই ভাববার বিষয়৷ কৈশোর জীবনের কথা
উল্লেখ করে করেন ডন ফোরামের চেয়ারপার্সন গুলশান আরা চৌধুরী
বলেন, সে সময় ছিল একেবারেই অন্যরকম! কিন্তু এটি যে একটি অপরাধ
এটি সমাজের একটি সমস্যা তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট৷ শাওলী
সুমন বলেন, সেক্সপিয়ারের রোমিও এবং জুলিও আমাদের মনে যে
রোমান্টিকতার জন্ম দেয় তা আমরা নিজের অচেতনবোধ থেকেই ধারণ করে
চলেছি৷ পাঠ্যপুস্তকের জানা আর বাস্তবতার জানা ভিন্ন৷ একমাত্র
যুক্তিবাদী মনই পারে
প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে সাহায্য করতে৷ নাছিমা আক্তার জলি
স্বাগত বক্তব্যে বলেন, কারো আত্মাহুতি নয়৷ কোনো প্রাণ যেন
অকালে ঝরে না পড়ে৷ তিনি উত্ত্যক্ততাকে একটি অপরাধ বলে গণ্য
করার দাবি জানিয়ে আরো বলেন, এজন্য এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও কার্যকরি
আইন প্রণয়ন করতে হবে ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অধিক তৎপর
ও কার্যকরি হতে হবে৷
  
সচেতনতামূলক বিতর্কে পক্ষ দল হিসেবে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী
উচচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কায়নাত আজাদ ভুইয়া (দলনেতা), নুসরাত
আলম নাবিলা ও জেরিন নাসরিন টুম্পা এবং বিপক্ষ দল হিসেবে
ক্যামব্রিয়ান কলেজের মোঃ সাজেদুল ইসলাম (দলনেতা), আসিফুর রহমান
শুভ্র ও মোঃ তুফান আহমেদ আরিফ অংশগ্রহণ করে৷
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী দু’টি দলের বিতার্কিকদের বিজয়ী
হিসেবে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়৷ অনুষ্ঠানে দেশের
খ্যাতনামা স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
বিতার্কিক/শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মীসহ প্রায়
পাঁচ’শ জন উপস্থিত ছিলেন৷
|