|
গত
৮ মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০টায় রমনা পার্কের শতায়ু অঙ্গন সংলগ্ন
গাবতলায় জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের আয়োজনে আন্তজাতিক নারী দিবস
উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভা, সম্মাননা পদক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
অনুষ্ঠিত হয়৷ ‘সম-অংশীদারিত্ব ও সম-সুযোগ নিশ্চিত করব, সকল বৈষম্যের
বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব’ - এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আলোচনা
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কমসংস্থান মন্ত্রণালয়ের
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান৷ ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম
মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় নির্বাচিত উপজেলা ভাইস
চেয়ারম্যানরা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন৷ এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে মহিলা ও
শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব
ডা. তাহমিনা হোসেন, ভাষা সৈনিক ড.
হালিমা খাতুন, ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক লতিফা আকন্দ, শিক্ষাবিদ ড.
মেহের-ই-খোদা, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মূখ্য বার্তা সম্পাদক জনাব রফিকুল
ইসলাম সরকার এবং গুড নেইবার-এর প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর জনাব ফ্রান্সিস মণ্ডল
উপস্থিত থেকে তাঁদের অনুভূতি তুলে ধরেন। মিলি জাকারিয়া ও বিধান চন্দ্র
পালের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান তাঁর
বক্তব্যে বলেন, সর্বক্ষেত্রে নারীরা এখন অনেক এগিয়ে গেলেও তাদের অবস্থান
সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে আরো অনেক দূর এগুতে হবে৷ এজন্য তিনি আদর্শ গ্রহণের
ক্ষেত্রে সনাতন যুগে ফিরে যাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্-ব্য করেন। এছাড়া
তিনি নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যানদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বলা ও বাস্-বতা
সম্পূর্ণই ভিন্ন৷ তিনি বলেন, একটি সাধারণ আসনে স্বাভাবিকভাবেই একজন পুরুষ
প্রতিনিধি নির্বাচিত হন, অথচ ঐ একই আসনে একজন নারী প্রতিনিধিকে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়৷ এক্ষেত্রে তিনি
নারীদের সংগ্রাম করে এগিয়ে যাবার পরামর্শও প্রদান করেন৷ নারী দিবসে শুধু
অঙ্গীকার নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের অবদানের প্রেক্ষিতে নারীকে উপযুক্ত
স্বীকৃতি দিতে হবে উল্লেখ করে নারী দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে
অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ভাইস চেয়ারম্যানের পদ
সৃষ্টির মাধ্যমে এবারই প্রথম একটি নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে৷
তিনি বলেন, যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন তারা নিঃসন্দেহে সাহসিকতার পরিচয়
দিয়েছেন। কিন্তু এলাকায় কাজের ক্ষেত্রে এ সাহসিকতাকে ধরে এগিয়ে যেতে হবে ও
সকল বাধাকে অতিক্রম করতে হবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ডা. তাহমিনা হোসেন নারীর রাজনৈতিক ক্ষতায়নের
গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এমন একটি বিষয় যা অর্জন করতে হয়
এবং দীর্ঘদিন ধরেই সেই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হয়৷ নারীর প্রতি বিভিন্ন
প্রকার নির্যাতনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, নির্যাতন বন্ধ হলেই
নারীদের জন্য স্বাধীনভাবে চলার ও বিকাশের পরিপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হবে৷
বিভিন্ন
ক্ষেত্রে নারীদেরকে দক্ষ ও উপযুক্ত হয়ে ওঠার আহবান জানিয়ে ড.
হালিমা খাতুন বলেন, তাদেরকে উচচ শিক্ষিত ও সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠার সহায়ক
পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে৷ স্বাগত বক্তব্যে ফোরামের সম্পাদক জনাব নাছিমা
আক্তার জলি নারী দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, প্রায় সর্বত্রই
নারীরা এখনো ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত৷ এর অবসান হওয়া প্রয়োজন৷ এছাড়া
তিনি নারী নীতি ২০০৭ পুনর্বহাল করারও জোরালো আহবান জানান৷
অনুষ্ঠানে যে সকল ভাইস চেয়ারম্যানদের সম্মাননা জানানো হয় তাঁদের মধ্যে
রয়েছেন মাদারীপুর কালকিনি উপজেলার উপজেলার শামিমা বেগম, সাতক্ষীরা সদর
উপজেলার এড. শাহানাজ পারভীন মিলি, রংপুর সদরের
নাছিমা জামান ববি, বদরগঞ্জ
রংপুরের মহসীনা বেগম, পলাশবাড়ি গাইবান্ধার আঞ্জুমান আরা রিক্তা, কুমিল্লা
চৌদ্দগ্রামের রাশেদা আখতার, রাউজান চট্টগ্রামের ফৌজিয়া খানম, নাটোর
গুরুদাসপুরের রোকসানা আক্তার, মনোহরগঞ্জ কুমিল্লা আফরোজা কুসুম, ঘাটাইল
টাঙ্গাইলের কানিজ ফাতেমা (বিউটি শিখা), নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ের কহিনুর
ইসলাম রুমা, এবং সদর উপজেলার ফাতেমা মনির৷ অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান অতিথি নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যানদের হাতে এ সকল
ক্রেস্ট প্রদান করেন৷ এছাড়া নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি
স্বরূপ অনুষ্ঠানের প্রধান ও বিশেষ অতিথিকে আয়োজক ফোরামের পক্ষ থেকে
সম্মাননাও প্রদান করা হয়৷
অনুষ্ঠানে ভাইস চেয়ারম্যানগণ নিজের অভিজ্ঞতা এবং এ পর্যায়ে উঠে আসার কাহিনী
ব্যক্ত করে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, প্রতিযোগিতা করে জয়ী হয়ে জনগণের
কল্যাণে আমরা কাজ করতে চাই৷ তাঁরা বলেন নারী পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নয়, মানুষ
হিসেবে তাই আগামী দিনে আমরা পুরষের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতা করে নির্বাচিত
হয়ে আসতে চাই, সেটাই নারী জাতির জন্য সবচেয়ে বড় সম্মানের হবে বলে আমরা মনে
করি৷ আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে দলীয় ও একক গান পরিবেশন অনুষ্ঠানকে একটি নতুন
মাত্রা দেয়৷ দুপুর ১টা পর্যন্- অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে জাতীয় কন্যাশিশু
এডভোকেসি ফোরামের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের
প্রায় ছয়’শ ব্যক্তিবর্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন৷ এছাড়া অনুষ্ঠানের
এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দি হাঙ্গার প্রজেক্ট কর্তৃক
আন্-র্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রকাশনা ‘নারীর কথা’র মোড়ক উন্মোচন
করেন৷
|